১৮/৩২৬. অধ্যায়ঃ
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ২/১৭৪২ - কাফের ও আল্লাহর দুশমন বলার সতর্কতা
কোন মুসলিমকে ‘কাফের’ বলে ডাকা হারাম
কাফের বা আল্লাহর দুশমন বলা: জবানের বড় বিপদ
রিয়াদুস সালেহীন : ২/১৭৪২
রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ২/১৭৪২
وَعَنْ أَبي ذَرٍّرَضِيَ اللهُ عَنهَ : أَنَّه سَمِعَ رَسُولَ اللهِ ﷺ، يَقُوْلُ : «مَنْ دَعَا رَجُلاً بِالْكُفْرِ، أَو قَالَ: عَدُوَّ اللهِ، وَلَيْسَ كَذَلِكَ إِلاَّ حَارَ عَلَيْهِ». متفق عليه
আবূ যার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছেন যে, ’’যে কাউকে ’ওরে কাফের’ বলে ডাকে অথবা ’ওরে আল্লাহর দুশমন’ বলে অথচ বাস্তবিক ক্ষেত্রে যদি সে তা না হয়, তাহলে তার [বক্তার] উপর তা বর্তায়।’’(বুখারী ও মুসলিম)[১]
সহীহুল বুখারী ৬০৫৫, মুসলিম ৬১, আহমাদ ২০৯৫৪, ২১০৬১
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ২/১৭৪২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) কাউকে ‘কাফের’ বা ‘আল্লাহর দুশমন’ বলে ডাকার ব্যাপারে কঠিন সতর্কতা দিয়েছেন। হাদিসে বলা হয়েছে, বাস্তবে যদি সেই ব্যক্তি এমন না হয়, তাহলে কথাটি বক্তার উপর ফিরে আসে। অর্থাৎ এমন শব্দ শুধু অপমানের ভাষা নয়; এগুলো ঈমান ও দ্বীনের সাথে জড়িত গুরুতর কথা। তাই কারও ভুল, দুর্বলতা বা আচরণ দেখে দ্রুত তাকে এমন নামে ডাকা ঠিক নয়। মুসলিম সমাজে জবান সংযম, সতর্ক ভাষা এবং ভাইয়ের সম্মান রক্ষা করা জরুরি। এই হাদিসের মূল শিক্ষা হলো, অভিযোগ করার আগে সত্যতা বুঝতে হবে এবং এমন শব্দ এড়িয়ে চলতে হবে যা নিজের জন্যই বিপদের কারণ হতে পারে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কাউকে কাফের বা আল্লাহর দুশমন বলা হালকা বিষয় নয়।
- বাস্তবতা না থাকলে কথাটি বক্তার উপর ফিরে আসে।
- অন্যের ঈমান নিয়ে তাড়াহুড়া করে মন্তব্য করা বিপজ্জনক।
- মুসলিমের ভাষায় সতর্কতা ও ভদ্রতা থাকা দরকার।
