১৮/৩৩৪. অধ্যায়ঃ

রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ২/১৭৫৬ - জীবন ক্ষণস্থায়ী হওয়ার স্মরণ

এশার নামাযের পর কথাবার্তা বলা মাকরূহ

اَلْمُرَادُ بِهَالْحَدِيْثُ الَّذِيْ يَكُونُ مُبَاحًا فِي غَيْرِ هٰذَا الْوَقْتِ وَفِعْلُهُ وَتَرْكُهُ سَوَاءٌ. فَأَمَّا الْحَدِيْثُ الْمُحَرَّمُ أَوِ الْمَكْرُوهُ فِي غَيْرِ هٰذَا الْوَقْتِ أَشَدُّ تَحْرِيمًا وَكَرَاهَةً، وَأَمَّا الْحَدِيثُ فِي الْخَيْرِ كَمُذَاكَرَةِ الْعِلْمِ وَحِكَايَاتِ الصَّالِحِينَ وَمَكَارِمِ الْأَخْلَاقِ وَالْحَدِيثُ مَعَ الضَّيْفِ وَمَعَ طَالِبِ حَاجَةٍ وَنَحْوَ ذٰلِكَ فَلَا كَرَاهَةَ فِيهِ، بَلْ هُوَ مُسْتَحَبٌّ، وَكَذَا الْحَدِيثُ لِعُذْرٍ وَعَارِضٍ لَا كَرَاهَةَ فِيهِ. وَقَدْ تَظَاهَرَتِ الْأَحَادِيثُ الصَّحِيحَةُ عَلٰى كُّلِّ مَا ذَكَرْتُهُ.উদ্দেশ্য, যে সব কথাবার্তা অন্য সময়ে বলা মুবাহ [অর্থাৎ যা করা না করা সমান]। নচেৎ যে সব কথাবার্তা অন্য সময়ে হারাম বা মাকরূহ, সে সব এ সময়ে আরও অধিকভাবে হারাম ও মাকরূহ। পক্ষান্তরে কল্যাণমূলক কথাবার্তা; যেমন জ্ঞানচর্চা, নেক লোকদের কাহিনী ও চরিত্র আলোচনা, মেহমানের সঙ্গে বাক্যালাপ, কারো প্রয়োজন পূরণ প্রসঙ্গে কথা ইত্যাদি বলা মকরুহ নয়; বরং তা মুস্তাহাব। অনুরূপভাবে আকস্মিক কোন ঘটনাবশতঃ বা কোন সঠিক ওযরে কথা বলা অ-পছন্দনীয় কাজ নয়। উক্ত বিবৃতির সমর্থনে বহু বিশুদ্ধ হাদিস বিদ্যমান রয়েছে।

একশ বছরের স্মরণ: জীবনের সীমা বুঝে চলা

রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ২/১৭৫৬

عَنِ ابنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنهُمَا : أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ صَلَّى العِشَاء فِي آخِرِ حَيَاتِهِ، فَلَمَّا سَلَّمَ قال : «أَرَأَيْتَكُمْ لَيْلَتَكُمْ هَذِهِ؟ فَإِنَّ عَلَى رَأسِ مِئَةِ سَنَةٍ لاَ يَبْقَى مِمَّنْ هُوَ علَى ظَهْرِ الأَرْضِ اليَومَ أَحَدٌ».متفق عليه

ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

আল্লাহর রাসূল (ﷺ) নিজ জীবনের অন্তিম দিনগুলির কোন একদিন [লোকদেরকে নিয়ে] এশার নামাজ পড়লেন এবং যখন সালাম ফিরলেন, তখন বললেন, ’’আচ্ছা বলত। এটা তোমাদের কোন রজনী? [এ কথা] সুনিশ্চিত যে, যে ব্যক্তি আজ ধরা-পৃষ্ঠে জীবিত আছে, একশত বছরের মাথায় সে ব্যক্তি অবশিষ্ট থাকবে না [অর্থাৎ মারা যাবে]।’’(বুখারী ও মুসলিম)[১]

সহীহুল বুখারী ১১৬, ৫৬৪, ৬০১, মুসলিম ২৫৩৭, তিরমিযী ২২৫১, আবূ দাউদ ৪৩৪৮, আহমাদ ৫৫৮৫, ৫৯৯২, ৬১১৩

রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ২/১৭৫৬-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে ইবনু উমার (রাঃ) বর্ণনা করেছেন, রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) জীবনের শেষ দিকে একদিন এশার নামাজ পড়ালেন। সালাম ফেরানোর পর তিনি সাহাবীদের জিজ্ঞেস করলেন, এটি কোন রাত? তারপর বললেন, আজ পৃথিবীতে যারা জীবিত আছে, একশত বছরের মাথায় তাদের কেউ অবশিষ্ট থাকবে না। এই কথায় জীবনের ক্ষণস্থায়ী বাস্তবতা খুব স্পষ্টভাবে সামনে আসে। নবীজি এখানে একটি নির্দিষ্ট সময়ের মানুষদের সম্পর্কে বলেছেন; তাই হাদিসের অর্থকে অতিরিক্তভাবে টেনে অন্য কিছু বানানো ঠিক নয়। মূল শিক্ষা হলো, মানুষ দীর্ঘ আশা নিয়ে বাঁচলেও জীবন সীমিত। তাই নামাজ, ভালো কাজ, চরিত্র ও আল্লাহর স্মরণে সচেতন থাকা দরকার।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • মানুষের জীবন সীমিত—এ কথা মনে রাখা দরকার।
  • নবীজি সাহাবীদের নির্দিষ্ট এক রাতের জীবিত মানুষদের কথা স্মরণ করিয়েছেন।
  • দীর্ঘ আশা নয়, দায়িত্বশীল জীবন জরুরি।
  • নামাজের পর উপদেশ মানুষের মনে প্রভাব ফেলতে পারে।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন