১৮/৩৬০. অধ্যায়ঃ

কারো মুখোমুখি প্রশংসা করা মাকরূহ

এরূপ নির্দেশ সেই ব্যক্তির ক্ষেত্রে যার প্রশংসা শুনে আত্মগর্বে লিপ্ত হবার আশংকা থাকবে। অন্যথা যে তা থেকে নিরাপদ থাকবে তার মুখের সামনে প্রশংসা করা জায়েয।

রিয়াদুস সলেহিনহাদিস নম্বর ৩/১৭৯৯

وَعَنْ هَمَّامِ بنِ الْحَارِثِ ، عنِ المِقْدَادِ رضي اللَّه عَنْهُ أنَّ رَجُلاً جعَل يَمْدَحُ عُثْمَانَ رضي اللَّه عنه ،فَعَمِدَ المِقْدادُ ، فَجَثَا عَلَى رُآْبَتَيْهِ ، فَجَعَلَ يَحْثُو في وَجْهِهِ الْحَصْبَاءَ، فَقَالَ لَهُ عُثْمَانُ : مَا شَأْنُكَ ؟ فَقَالَ : إنَّرَسُولَ اللَّهِ صَلّى االلهُ عَلَيْهِ وسَلَّم قَالَ : » إذَا رَأَيْتُمُ المَدَّاحِينَ ، فَاحْثُوا في وَجُوهِهِمُ التُّرابَ « رَوَاهُ مسلم .فَهَذِهِ الأحَادِيثُ في النَّهْيِ ، وَجَاءَ في الإبَاحَةِ أحَادِيثُ آثِيرَةٌ صَحِيحَةٌ .قَالًَ العُلَمَاءُ : وَطريقُ الجَمْعِ بَيْنَ الأحَادِيثِ أنْ يُقَالَ : إنْ آَانَ المَمْدُوحُ عِنْدَهُ آَمَالُ إيمَانٍ وَيَقِينٍ ، وَريَاضَةُنَفْسٍ ، وَمَعْرِفَة تَامَّةٌ بِحَيْثُ لا يَفْتَتِنُ ، وَلا يَغْتَرُّ بِذَلِكَ ، وَلا تَلْعَبُ بِهِ نَفْسُهُ ، فَلَيْسَ بِحَرَامٍ وَلا مَكْرُوهٍ ، وإنْخِيفَ عَلَيْهِ شَيءٍ منْ هَذِهِ الأمُورِ آُرِهَ مَدْحُهُ في وَجْهِهِ آَرَاهَةً شَدِيدَةً ، وعَلَى هَذَا التَّفْصِيلِ تُنزَّلُ الأحاديثُالمُختَلفَة في ذَلِكَ . وَمِمَّا جَاءَ في الإبَاحَةِ قَوْلُهُ صَلّى االلهُ عَلَيْهِ وسَلَّم لأبي بَكْرٍ رضي اللًَّه عَنْهُ : » أرْجُو أنْتَكُونَ مِنْهُمْ « أيْ : مِنَ الَّذِينَ يُدْعَوْنَ مِنْ جَمِيعِ أبْوابِ الْجَنَّةِ لِدُخُولِهَا ، وفي الحَديثِ الآخَرِ : » لَسْتَ مِنْهُمْ «أيْ : لَسْتَ مِنَ الَّذِينَ يُسْبِلُونَ أُزُرَهُمْ خُيَلاءَ . وَقَالَ صَلّى االلهُ عَلَيْهِ وسَلَّم لِعُمَرَ رضي اللَّه عَنْهُ : » مَا رَآكَالشَّيْطَانُ سَالِكاً فَجّا إلاَّ سلكَ فَجّا غَيْرَ فَجِّك « ، وَالأحَادِيثُ في الإبَاحَةِ آَثِيرَةٌ ، وَقَدْ ذَآَرْتُ جُمْلَةً مِنْ أطْرَافِهَافي آتاب : » الأذْآَار « .

হাম্মাম ইবনে হারেস হতে বর্ণিতঃ

এক ব্যক্তি উসমান (রাঃ)-এর সামনেই তাঁর প্রশংসা শুরু করলে মিক্বদাদ হাঁটুর উপর ভর দিয়ে দাঁড়িয়ে তার মুখে কাঁকর ছিটাতে শুরু করলেন। তখন উসমান তাঁকে বললেন, ’কি ব্যাপার তোমার?’ তিনি বললেন, ’রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, ’’তোমরা [মুখোমুখি] প্রশংসাকারীদের দেখলে তাদের মুখে ধুলো ছিটিয়ে দিয়ো।’’ (মুসলিম) [১]এ সব হাদিস নিষেধাজ্ঞামূলক। পক্ষান্তরে বৈধতা সংক্রান্ত বহু বিশুদ্ধ হাদিস রয়েছে। উলামাগণ বলেন, বৈধ-অবৈধ সম্বলিত পরস্পর বিরোধী হাদিসসমূহের বিরোধ নিরসনের উপায় এই হতে পারে যে, যদি প্রশংসিত ব্যক্তি পূর্ণ ঈমান ও ইয়াকীনের অধিকারী হয়, আত্মা অনুশীলনী ও পূর্ণ জ্ঞান লাভে ধন্য হয়, যার ফলে সে কারো প্রশংসা শুনে ফিতনা ও ধোঁকার শিকার না হয় এবং তার মন তাকে প্রতারিত না করে, তাহলে এ ধরনের লোকের মুখোমুখি প্রশংসা, না হারাম, আর না মাকরূহ। অন্যথা যদি কারো ক্ষেত্রে উক্ত বিষয়াদির কিছুর আশংকা বোধ হয়, তবে তা ঘোর অপছন্দনীয়। এই ব্যাখ্যার নিকষে পরস্পর-বিরোধী হাদিসসমূহকে মান্য করতে হবে।যে সব হাদীসে মুখোমুখি প্রশংসার বৈধতা এসেছে তার একটি এই যে, একদা আল্লাহর রসূল (ﷺ) আবূ বকর (রাঃ)-কে বললেন; ’’আমার আশা এই যে, তুমিও তাদের একজন হবে।’’ অর্থাৎ সেই সৌভাগ্যবানদের একজন হবে, যাদেরকে জান্নাতের সমস্ত দ্বার থেকে আহবান জানানো হবে। (বুখারী)এ প্রসঙ্গে দ্বিতীয় হাদিসটি হচ্ছে এই যে, একদা আল্লাহর রসূল (ﷺ) আবূ বকর (রাঃ)-কে বললেন; ’’তুমি তাদের অন্তর্ভুক্ত নও।’’ অর্থাৎ ঐসব লোকদের অন্তর্ভুক্ত নও যারা অহংকারবশতঃ লুঙ্গী-পায়জামা গাঁটের নীচে ঝুলিয়ে পরে।যেমন একদা নবী (ﷺ) উমার (রাঃ)-কে বললেন, ’’শয়তান তোমাকে যে পথে চলতে দেখে সে পথ ত্যাগ করে সে অন্য পথ ধরে।’’ (বুখারী)এ ছাড়াও বৈধতা সম্পর্কিত হাদিস অনেক আছে, তার মধ্যে কিছু হাদিসের অংশ আমি আমার ’আযকার’ নামক গ্রন্থে উল্লেখ করেছি।

মুসলিম ৩০০২, তিরমিযী ২৩৯৩, আবূ দাউদ ৪৮৯৪, ইবনু মাজাহ ৩৭৪২, আহমাদ ২৩৩১১

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন