১/২৩. অধ্যায়ঃ
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৮/১৯৬ - সোনার আংটি ও রাসূলের আনুগত্য
ভাল কাজের আদেশ ও মন্দ কাজে নিষেধ করার গুরুত্ব
আল্লাহ তা‘আলা বলেন,﴾ وَلۡتَكُن مِّنكُمۡ أُمَّةٞ يَدۡعُونَ إِلَى ٱلۡخَيۡرِ وَيَأۡمُرُونَ بِٱلۡمَعۡرُوفِ وَيَنۡهَوۡنَ عَنِ ٱلۡمُنكَرِۚ وَأُوْلَٰٓئِكَ هُمُ ٱلۡمُفۡلِحُونَ ١٠٤ ﴿ [ال عمران: ١٠٤]অর্থাৎ “তোমাদের মধ্যে এমন একটি দল থাকা উচিত, যারা (লোককে) কল্যাণের দিকে আহ্বান করবে এবং সৎকার্যের নির্দেশ দেবে ও অসৎ কার্য থেকে নিষেধ করবে। আর এ সকল লোকই হবে সফলকাম।” (সূরা আলে ইমরান ১০৪ আয়াত)তিনি আরো বলেন,﴾كُنتُمۡ خَيۡرَ أُمَّةٍ أُخۡرِجَتۡ لِلنَّاسِ تَأۡمُرُونَ بِٱلۡمَعۡرُوفِ وَتَنۡهَوۡنَ عَنِ ٱلۡمُنكَرِ وَتُؤۡمِنُونَ بِٱللَّهِۗ ﴿ [ال عمران: ١١٠]অর্থাৎ “তোমরাই শ্রেষ্ঠতম জাতি। মানবমণ্ডলীর জন্য তোমাদের অভ্যুত্থান হয়েছে, তোমরা সৎকার্যের নির্দেশ দান কর, আর অসৎ কার্য (করা থেকে) নিষেধ কর, আর আল্লাহতে বিশ্বাস কর।” (সূরা আলে ইমরান ১১০ আয়াত)তিনি আরো বলেন,﴾ خُذِ ٱلۡعَفۡوَ وَأۡمُرۡ بِٱلۡعُرۡفِ وَأَعۡرِضۡ عَنِ ٱلۡجَٰهِلِينَ ١٩٩ ﴿ [الاعراف: ١٩٩]অর্থাৎ “তুমি ক্ষমাশীলতার নীতি অবলম্বন কর, সৎকাজের নির্দেশ দাও এবং মূর্খদেরকে এড়িয়ে চল।” (সূরা আ‘রাফ ১৯৯ আয়াত)অন্যত্রে বলেছেন,﴾ وَٱلۡمُؤۡمِنُونَ وَٱلۡمُؤۡمِنَٰتُ بَعۡضُهُمۡ أَوۡلِيَآءُ بَعۡضٖۚ يَأۡمُرُونَ بِٱلۡمَعۡرُوفِ وَيَنۡهَوۡنَ عَنِ ٱلۡمُنكَرِ ﴿ [التوبة: ٧١]অর্থাৎ “আর বিশ্বাসী পুরুষরা ও বিশ্বাসিনী নারীরা হচ্ছে পরস্পর একে অন্যের বন্ধু, তারা সৎ কাজের আদেশ দেয় এবং অসৎ কাজে নিষেধ করে।” (সূরা তওবা ৭১ আয়াত)তিনি আরো বলেন,﴾ لُعِنَ ٱلَّذِينَ كَفَرُواْ مِنۢ بَنِيٓ إِسۡرَٰٓءِيلَ عَلَىٰ لِسَانِ دَاوُۥدَ وَعِيسَى ٱبۡنِ مَرۡيَمَۚ ذَٰلِكَ بِمَا عَصَواْ وَّكَانُواْ يَعۡتَدُونَ ٧٨ كَانُواْ لَا يَتَنَاهَوۡنَ عَن مُّنكَرٖ فَعَلُوهُۚ لَبِئۡسَ مَا كَانُواْ يَفۡعَلُونَ ٧٩ ﴿ [المائدة: ٧٨، ٧٩]অর্থাৎ “বনী ইস্রাঈলের মধ্যে যারা অবিশ্বাস করেছিল তারা দাঊদ ও মারয়্যাম-তনয় কর্তৃক অভিশপ্ত হয়েছিল। কেননা, তারা ছিল অবাধ্য ও সীমালংঘনকারী। তারা যেসব গর্হিত কাজ করত তা থেকে তারা একে অন্যকে বারণ করত না। তারা যা করত নিশ্চয় তা নিকৃষ্ট।” (সূরা মায়েদাহ ৭৮-৭৯ আয়াত)তিনি অন্যত্রে বলেছেন,﴾ وَقُلِ ٱلۡحَقُّ مِن رَّبِّكُمۡۖ فَمَن شَآءَ فَلۡيُؤۡمِن وَمَن شَآءَ فَلۡيَكۡفُرۡۚ ﴿ [الكهف: ٢٩]অর্থাৎ “বলে দাও, সত্য তোমাদের প্রতিপালকের নিকট হতে সমাগত; সুতরাং যার ইচ্ছা বিশ্বাস করুক ও যার ইচ্ছা প্রত্যাখ্যান করুক।” (সূরা ক্বাহফ ২৯ আয়াত)তিনি অন্য জায়গায় বলেন,﴾ فَٱصۡدَعۡ بِمَا تُؤۡمَرُ ﴿ [الحجر: ٩٤]অর্থাৎ “অতএব তুমি যে বিষয়ে আদিষ্ট হয়েছ তা প্রকাশ্যে প্রচার কর।” (সূরা হিজর ৯৪ আয়াত)তিনি অন্যত্রে বলেছেন,﴾ أَنجَيۡنَا ٱلَّذِينَ يَنۡهَوۡنَ عَنِ ٱلسُّوٓءِ وَأَخَذۡنَا ٱلَّذِينَ ظَلَمُواْ بِعَذَابِۢ بَِٔيسِۢ بِمَا كَانُواْ يَفۡسُقُونَ ﴿ [الاعراف: ١٦٥]অর্থাৎ “(যে উপদেশ তাদেরকে দেওয়া হয়েছিল তারা যখন তা বিস্মৃত হল, তখন) যারা মন্দ কাজে বাধা দান করত তাদেরকে আমি উদ্ধার করলাম এবং যারা অত্যাচারী ছিল তারা সত্যত্যাগ করত বলে আমি তাদেরকে কঠোর শাস্তির সাথে পাকড়াও করলাম।” (সূরা আ‘রাফ ১৬৫ আয়াত)এ মর্মে আরো অনেক আয়াত রয়েছে। আর হাদীসসমূহ নিম্নরূপঃ-
সোনার আংটি ফেলে দেওয়া: রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর নির্দেশ মানার শিক্ষা
রিয়াদুস সালেহীন : ৮/১৯৬
রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ৮/১৯৬
عَنِ ابنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ الله عَنهُمَا : أن رَسُولَ الله ﷺ رَأى خاتَماً مِنْ ذَهَبٍ في يَدِ رَجُلٍ فنَزَعَهُ فَطَرَحَهُ، وَقالَ: «يَعْمدُ أحَدُكُمْ إِلَى جَمْرَةٍ مِنْ نَارٍ فَيَجْعَلُهَا في يَدِهِ»! فَقِيلَ لِلرَّجُلِ بَعدَمَا ذَهَبَ رَسُولُ الله ﷺ: خُذْ خَاتَمَكَ انْتَفِعْ بِهِ. قَالَ: لاَ وَالله لاَ آخُذُهُ أبَداً وَقَدْ طَرَحَهُ رَسُولُ الله ﷺ. رواه مسلم
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একটি লোকের হাতে সোনার আংটি দেখতে পেলেন। অতঃপর তিনি তা খুলে নিয়ে ছুঁড়ে ফেলে দিলেন এবং বললেন, ’’তোমাদের মধ্যে একজন স্বেচ্ছায় আগুনের টুকরা নিয়ে তা স্বহস্তে রাখতে চায়!’’ অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) চলে গেলে সেই লোকটিকে বলা হল, ’তুমি তোমার আংটিটা তুলে নাও এবং (তা বিক্রি করে অথবা উপঢৌকন দিয়ে) তার দ্বারা উপকৃত হও।’ সে বলল, ’না। আল্লাহর কসম! রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যা ফেলে দিয়েছেন, তা আমি কখনই তুলে নেব না।’[১]
মুসলিম ২০৯০, আহমাদ ২০১১৪
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৮/১৯৬-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে ইবনু আব্বাস (রাঃ) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) এক ব্যক্তির হাতে সোনার আংটি দেখলেন। তিনি সেটি খুলে নিয়ে ছুঁড়ে ফেললেন এবং বললেন, তোমাদের একজন যেন আগুনের টুকরা নিয়ে নিজের হাতে রাখছে। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) চলে যাওয়ার পর লোকটিকে বলা হলো, আংটিটি তুলে নিয়ে উপকার নাও। কিন্তু সে বলল, আল্লাহর কসম, রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) যা ফেলে দিয়েছেন, তা আমি কখনো তুলে নেব না। হাদিসটির মূল শিক্ষা হলো রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর নির্দেশের সামনে আন্তরিক আনুগত্য। এখানে লোকটির মনোভাব দেখায়, তিনি নিজের লাভের কথা ভাবেননি; বরং নবীর অপছন্দকে গুরুত্ব দিয়েছেন।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) যে বিষয় অপছন্দ করেছেন, তা থেকে দূরে থাকা উচিত।
- নবীর নির্দেশের সামনে ব্যক্তিগত লাভকে বড় করা ঠিক নয়।
- সাহাবীদের মধ্যে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর আনুগত্য ছিল গভীর।
- ভুল জিনিস থেকে সরে আসার পর তা আবার গ্রহণ না করার শিক্ষা আছে।
