১/২৬. অধ্যায়ঃ
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৩/২১০ - বিদায়ী হজ্জের সতর্কবাণী ও দাজ্জাল
অন্যায়-অত্যাচার করা হারাম এবং অন্যায়ভাবে নেওয়া জিনিস ফেরৎ দেওয়া জরুরী
আল্লাহ তা‘আলা বলেন,﴾مَا لِلظَّٰلِمِينَ مِنۡ حَمِيمٖ وَلَا شَفِيعٖ يُطَاعُ ﴿ [غافر: ١٨]অর্থাৎ “সীমালংঘনকারীদের জন্য অন্তরঙ্গ কোন বন্ধু নেই এবং এমন কোন সুপারিশকারীও নেই যার সুপারিশ গ্রাহ্য করা হবে।” (সূরা মুমিন ১৮ আয়াত)﴾ وَمَا لِلظَّٰلِمِينَ مِن نَّصِيرٖ ﴿ [الحج: ٧١]অর্থাৎ “যালেমদের কোন সাহায্যকারী নেই।” (সূরা হাজ্জ ৭১ আয়াত)হাদীসসমূহ:এই পরিচ্ছেদে আবূ যার্র রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু-এর (১১৩নং) হাদীসটিও উল্লেখ্য, যেটি ‘মুজাহাদাহ’ পরিচ্ছেদের শেষে বর্ণিত হয়েছে।
বিদায়ী হজ্জের হাদিস: দাজ্জাল, রক্ত-মালের সম্মান ও ঐক্যের শিক্ষা
রিয়াদুস সালেহীন : ৩/২১০
রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ৩/২১০
وَعَنِ ابنِ عُمَرَ رَضِيَ الله عَنهُمَا، قَالَ : كُنَّا نَتَحَدَّثُ عَنْ حَجَّةِ الوَدَاعِ، والنَّبيُّ ﷺ بَيْنَ أظْهُرِنَا، وَلا نَدْرِي مَا حَجَّةُ الوَدَاعِ حَتَّى حَمِدَ اللهَ رَسُول الله ﷺ وَأثْنَى عَلَيهِ ثُمَّ ذَكَرَ المَسْيحَ الدَّجَّال فَأطْنَبَ في ذِكْرِهِ، وَقَالَ: «مَا بَعَثَ اللهُ مِنْ نَبيٍّ إلاَّ أنْذَرَهُ أُمَّتَهُ، أنْذَرَهُ نُوحٌ وَالنَّبِيُّونَ مِنْ بَعْدِهِ، وَإِنَّهُ إنْ يَخْرُجْ فِيكُمْ فَما خَفِيَ عَليْكُمْ مِنْ شَأنِه فَلَيْسَ يَخْفَى عَليْك ُ عَيْنِ اليُمْنَى، كَأنَّ عَيْنَهُ عِنَبَةٌ طَافِيَةٌ. ألا إنَّ الله حَرَّمَ عَلَيْكُمْ دِمَاءكُمْ وَأمْوَالَكُمْ كحُرْمَةِ يَوْمِكُمْ هَذَا، في بَلَدِكُم هَذَا، في شَهْرِكُمْ هَذَا، ألا هَلْ بَلّغْتُ؟»قالُوا : نَعَمْ، قَالَ: «اَللهم اشْهَدْ» ثلاثاً «وَيْلَكُمْ - أَوْ وَيْحَكُمْ - انْظُروا : لا تَرْجعُوا بَعْدِي كُفّاراً يَضْرِبُ بَعْضُكُمْ رِقَابَ بَعْضٍ». رواه البخاري، وروى مسلم بعضه
ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমরা বিদায়ী হজ্জের ব্যাপারে আলাপ-আলোচনা করেছিলাম। এমতবস্থায় যে, নবী (ﷺ) আমাদের মাঝে উপস্থিত ছিলেন। আর আমরা জানতাম না যে, বিদায়ী হজ্জ কী? পরিশেষে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আল্লাহর প্রশংসা করলেন। অতঃপর কানা দাজ্জালের কথা বিস্তারিতভাবে আলোচনা করলেন। তিনি বললেন, ’’আল্লাহ যে নবীই পাঠিয়েছেন, তিনি নিজ জাতিকে তার ব্যাপারে ভয় দেখিয়েছেন। নূহ ও তাঁর পরে আগমনকারী নবীগণ তার ব্যাপারে ভীতি প্রদর্শন করেছেন। যদি সে তোমাদের মধ্যে বের হয়, তবে তার অবস্থা তোমাদের কাছে গোপন থাকবে না। তোমাদের কাছে এ কথা গোপন নয় যে, তোমাদের প্রভু কানা নয়, আর দাজ্জাল কানা হবে। তার ডান চোখ কানা হবে, তার চোখটি যেন (গুচ্ছ থেকে) ভেসে ওঠা আঙ্গুর।সতর্ক হয়ে যাও, নিশ্চয় আল্লাহ তা’আলা তোমাদের প্রতি তোমাদের রক্ত ও মাল হারাম করে দিয়েছেন। যেমন তোমাদের এদিন হারাম তোমাদের এই শহরে, তোমাদের এই মাসে। শোনো! আমি কি (আল্লাহর পয়গাম) পৌঁছে দিয়েছি?’’ সাহাবীগণ বললেন, ’হ্যাঁ।’ অতঃপর তিনি তিনবার বললেন, ’’হে আল্লাহ! তুমি সাক্ষী থাক। (অতঃপর বললেন,) তোমাদের জন্য বিনাশ অথবা আফশোস। দেখো, তোমরা আমার পর এমন কাফের হয়ে যেও না যে, তোমরা একে অপরের গর্দান মারবে।’’[১]
সহীহুল বুখারী ৪৪০৩, ১৭৪২, ৬০৪৩, ৬১৬৬, ৬৭৭৫, ৬৮৫৮, ৭০৭৭, মুসলিম ৬৬, নাসায়ী ৪১২৫, ৪১২৬, ৪১২৭, ইবনু মাজাহ ৩৯৪৩, আহমাদ ৪৭৮৯, ৬১০৯, ৬১৫০, ৬৩২৯, (বুখারী, কিছু অংশ মুসলিম)
অনুবাদের উৎস
- সংকলক:
- মুহিউদ্দীন আবূ যাকারিয়্যা ইয়াহইয়া বিন শারফ আন্-নাবাবী (রহ.)
- প্রকাশক:
- তাওহীদ পাবলিকেশন্স
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৩/২১০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে বিদায়ী হজ্জের সময় রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) দাজ্জাল সম্পর্কে সতর্ক করেছেন। তিনি বলেছেন, প্রত্যেক নবী নিজ জাতিকে দাজ্জালের ব্যাপারে সতর্ক করেছেন। দাজ্জালের একটি চিহ্নও বলা হয়েছে—সে কানা হবে, আর আল্লাহ কানা নন। এরপর রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) মুসলিমদের রক্ত ও মালকে সম্মানীয় ঘোষণা করেন, যেমন সেই দিন, সেই শহর এবং সেই মাস সম্মানীয়। তিনি বারবার জিজ্ঞেস করেন, তিনি কি পৌঁছে দিয়েছেন; সাহাবীরা হ্যাঁ বলেন, তিনি আল্লাহকে সাক্ষী রাখেন। শেষ সতর্কতা হলো, তাঁর পরে একে অপরের গর্দান মারার পথে ফিরে যেও না। হাদিসটি ঈমানি সতর্কতা, মানবজীবনের সম্মান এবং মুসলিম সমাজে রক্তপাত এড়ানোর বড় শিক্ষা দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- দাজ্জাল সম্পর্কে নবীদের ধারাবাহিক সতর্কতার কথা এসেছে।
- মানুষের রক্ত ও সম্পদকে সম্মান করা দ্বীনের গুরুতর বিষয়।
- মুসলিমদের পারস্পরিক রক্তপাত থেকে কঠোরভাবে সাবধান করা হয়েছে।
- দ্বীনের বার্তা পৌঁছে দেওয়া নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর দায়িত্বের অংশ ছিল।
