১/২৬. অধ্যায়ঃ
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৬/২১৩ - দাওয়াত, নামাজ, যাকাত ও মজলুমের দোয়া
অন্যায়-অত্যাচার করা হারাম এবং অন্যায়ভাবে নেওয়া জিনিস ফেরৎ দেওয়া জরুরী
আল্লাহ তা‘আলা বলেন,﴾مَا لِلظَّٰلِمِينَ مِنۡ حَمِيمٖ وَلَا شَفِيعٖ يُطَاعُ ﴿ [غافر: ١٨]অর্থাৎ “সীমালংঘনকারীদের জন্য অন্তরঙ্গ কোন বন্ধু নেই এবং এমন কোন সুপারিশকারীও নেই যার সুপারিশ গ্রাহ্য করা হবে।” (সূরা মুমিন ১৮ আয়াত)﴾ وَمَا لِلظَّٰلِمِينَ مِن نَّصِيرٖ ﴿ [الحج: ٧١]অর্থাৎ “যালেমদের কোন সাহায্যকারী নেই।” (সূরা হাজ্জ ৭১ আয়াত)হাদীসসমূহ:এই পরিচ্ছেদে আবূ যার্র রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু-এর (১১৩নং) হাদীসটিও উল্লেখ্য, যেটি ‘মুজাহাদাহ’ পরিচ্ছেদের শেষে বর্ণিত হয়েছে।
মজলুমের দোয়া থেকে বাঁচো: দাওয়াত ও যাকাত আদায়ের ন্যায়নীতি
রিয়াদুস সালেহীন : ৬/২১৩
রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ৬/২১৩
وَعَن مُعَاذٍ رضي الله عنه، قَالَ : بَعَثَنِي رَسُولُ الله ﷺ، فَقَالَ: «إنَّكَ تَأتِي قَوْماً مِنْ أهلِ الكِتَابِ فَادْعُهُمْ إِلَى شَهَادَةِ أنْ لا إِلٰهَ إلاَّ الله، وَأنِّي رسولُ الله، فَإنْ هُمْ أَطَاعُوا لِذلِكَ، فَأعْلِمْهُمْ أنَّ اللهَ قَدِ افْتَرضَ عَلَيْهِمْ خَمْسَ صَلَواتٍ في كُلِّ يَوْمٍ وَلَيلَةٍ، فَإِنْ هُمْ أطَاعُوا لِذَلِكَ، فَأعْلِمْهُمْ أنَّ اللهَ قَدِ افْتَرَضَ عَلَيْهِمْ صَدَقَةً تُؤخَذُ مِنْ أغْنِيَائِهِمْ فَتُرَدُّ عَلَى فُقَرَائِهِمْ، فَإنْ هُمْ أطَاعُوا لِذَلِكَ، فَإِيَّاكَ وَكَرَائِمَ أمْوَالِهِمْ، وَاتَّقِ دَعْوَةَ المَظْلُومِ ؛ فإِنَّهُ لَيْسَ بَيْنَها وَبَيْنَ اللهِ حِجَابٌ». مُتَّفَقٌ عَلَيهِ
মু'আয (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে (ইয়ামানের শাসকরূপে) পাঠাবার সময় বলেছিলেন, ’’তুমি আহলে কিতাব সম্প্রদায়ের নিকট যাচ্ছ। সুতরাং তুমি তাদেরকে ’আল্লাহ ব্যতীত কোন সত্য উপাস্য নেই এবং আমি আল্লাহর রাসূল’ এ কথার সাক্ষ্যদানের প্রতি দাওয়াত দেবে। যদি তারা এ কথা মেনে নেয়, তাহলে তাদেরকে জানিয়ে দেবে, আল্লাহ তাদের উপর প্রতি দিন ও রাতে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ করেছেন।তারা যদি এ কথা মেনে নেয়, তাহলে তাদেরকে জানিয়ে দেবে যে, আল্লাহ তাদের সম্পদের ওপর সাদকাহ (যাকাত) ফরজ করেছেন। তাদের মধ্যে যারা সম্পদশালী তাদের থেকে যাকাত উসূল করে যারা দরিদ্র তাদের মাঝে বিতরণ করা হবে। যদি তারা এ কথা মেনে নেয়, তাহলে তুমি (যাকাত নেওয়ার সময়) তাদের উৎকৃষ্ট মাল নেওয়া থেকে দূরে থাকবে। আর অত্যাচারিতের বদ-দো’আ থেকে বাঁচবে। কারণ তার বদ-দো’আ এবং আল্লাহর মাঝে কোন পর্দা নেই (অর্থাৎ শীঘ্র কবুল হয়ে যায়)।’’[১]
সহীহুল বুখারী ১৩৯৫, ১৪৫৮, ১৪৯৬, ২৪৪৮, ৪৩৪৭, ৭৩৭১, ৭৩৭২, মুসলিম ১৯, তিরমিযী ৩১১০, ৬২৫, ২০১৪, নাসায়ী ২৪৩৫, আবূ দাউদ ১৫৮৪, ইবনু মাজাহ ১৭৮৩, আহমাদ ২০৭২, দারেমী ১৬১৪
অনুবাদের উৎস
- সংকলক:
- মুহিউদ্দীন আবূ যাকারিয়্যা ইয়াহইয়া বিন শারফ আন্-নাবাবী (রহ.)
- প্রকাশক:
- তাওহীদ পাবলিকেশন্স
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৬/২১৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) মু’আয (রাঃ)-কে ইয়ামানে পাঠানোর সময় দাওয়াতের ধাপ শিখিয়েছেন। প্রথমে তাওহীদ ও রিসালাতের সাক্ষ্য, তারপর পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, এরপর যাকাতের কথা জানাতে বলেছেন। যাকাত সম্পদশালীদের থেকে নিয়ে দরিদ্রদের মাঝে ফিরিয়ে দেওয়ার কথা এসেছে। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করেছেন, যাকাত নিতে গিয়ে মানুষের উৎকৃষ্ট মাল নিয়ে নিও না, আর মজলুমের দোয়া থেকে বাঁচো; কারণ তার দোয়া ও আল্লাহর মাঝে পর্দা নেই। এই হাদিস দাওয়াতের সুন্দর পদ্ধতি, ফরজ ইবাদতের ক্রম এবং প্রশাসনিক ন্যায়বোধ শেখায়। বিশেষ করে ক্ষমতা বা দায়িত্ব পেলে মানুষের উপর চাপ সৃষ্টি না করার শিক্ষা এতে খুব স্পষ্ট।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- দাওয়াতে তাওহীদ, নামাজ ও যাকাতের ধাপ স্পষ্টভাবে এসেছে।
- যাকাত নেওয়ার সময় মানুষের উৎকৃষ্ট মাল নেওয়া থেকে সতর্ক করা হয়েছে।
- মজলুমের দোয়া অত্যন্ত গুরুতর বিষয় হিসেবে এসেছে।
- দায়িত্ব পাওয়া মানে ন্যায় ও কোমলতার সঙ্গে কাজ করা।
