১/২৭. অধ্যায়ঃ
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ১৬/২৪১ - মুসলিম ভ্রাতৃত্ব ও ঈমানের দাবি
মুসলিমদের মান-মর্যাদার প্রতি শ্রদ্ধা-প্রদর্শন ও তাদের অধিকার-রক্ষা এবং তাদের প্রতি দয়া-দাক্ষিণ্যের গুরুত্ব
আল্লাহ তা‘আলা বলেন,﴾ وَمَن يُعَظِّمۡ حُرُمَٰتِ ٱللَّهِ فَهُوَ خَيۡرٞ لَّهُۥ عِندَ رَبِّهِۦۗ ﴿ [الحج: ٣٠]অর্থাৎ “কেউ আল্লাহর (দ্বীনের) প্রতীকসমূহের সম্মান করলে তার প্রতিপালকের নিকট তার জন্য এটাই উত্তম।” (সূরা হাজ্জ্ব ৩০ আয়াত)আরো বলেন,﴾وَمَن يُعَظِّمۡ شَعَٰٓئِرَ ٱللَّهِ فَإِنَّهَا مِن تَقۡوَى ٱلۡقُلُوبِ ﴿ [الحج: ٣٢]অর্থাৎ “কেউ আল্লাহর (দ্বীনের) প্রতীকসমূহের সম্মান করলে এটা তো তার হৃদয়ের সংযমশীলতারই বহিঃপ্রকাশ।” (সূরা হাজ্জ্ব ৩২ আয়াত)তিনি বলেন,﴾ وَٱخۡفِضۡ جَنَاحَكَ لِمَنِ ٱتَّبَعَكَ مِنَ ٱلۡمُؤۡمِنِينَ ٢١٥ ﴿ [الشعراء: ٢١٥]অর্থাৎ “বিশ্বাসীদের জন্য তুমি তোমার বাহুকে অবনমিত রাখ।” (হিজ্র ৮৮আয়াত)তিনি আরো বলেন,﴾مَن قَتَلَ نَفۡسَۢا بِغَيۡرِ نَفۡسٍ أَوۡ فَسَادٖ فِي ٱلۡأَرۡضِ فَكَأَنَّمَا قَتَلَ ٱلنَّاسَ جَمِيعٗا وَمَنۡ أَحۡيَاهَا فَكَأَنَّمَآ أَحۡيَا ٱلنَّاسَ جَمِيعٗاۚ ﴿ [المائدة: ٣٢]অর্থাৎ “যে ব্যক্তি নরহত্যা অথবা পৃথিবীতে ধ্বংসাত্মক কাজ করার দণ্ডদান উদ্দেশ্য ছাড়া কাউকে হত্যা করল, সে যেন পৃথিবীর সকল মানুষকেই হত্যা করল। আর কেউ কারো প্রাণরক্ষা করলে সে যেন পৃথিবীর সকল মানুষের প্রাণ রক্ষা করল।” (সূরা মায়েদাহ ৩২ আয়াত)
মুসলিম ভ্রাতৃত্ব: নিজের মতো ভাইয়ের জন্যও ভালো চাওয়া
রিয়াদুস সালেহীন : ১৬/২৪১
রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ১৬/২৪১
وَعَن أَنَسٍ رضي الله عنه، عَنِ النَّبيّ ﷺ، قَالَ: «لاَ يُؤمِنُ أحَدُكُمْ حَتَّى يُحِبَّ لأخِيهِ مَا يُحِبُّ لنَفْسِهِ». مُتَّفَقٌ عَلَيهِ
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) বলেন, ’’তোমাদের মধ্যে কেউ (পূর্ণ) মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না সে তার ভাইয়ের জন্য তাই পছন্দ করবে, যা সে নিজের জন্য পছন্দ করে।’’
সহীহুল বুখারী ১৩, মুসলিম ৪৫, তিরমিযী ২৫১৫, নাসায়ী ৫০১৬, ৫০১৭, ইবনু মাজাহ ৬৬, আহমাদ ১১৫৯১, ১২৩৫৪, ১২৩৭২, ১২৩৯০, ১২৭৩৪, ১২৯৯৪, দারেমী ২৭৪০ (বুখারী ও মুসলিম) [১]
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ১৬/২৪১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে মুসলিম ভ্রাতৃত্বের খুব সুন্দর একটি মানদণ্ড শেখানো হয়েছে। নবী (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, কেউ পূর্ণ মুমিন হতে পারে না, যতক্ষণ না সে নিজের জন্য যা পছন্দ করে, তার ভাইয়ের জন্যও তাই পছন্দ করে। এখানে মূল শিক্ষা হলো, ঈমান শুধু মুখের দাবি নয়; মানুষের প্রতি ভালোবাসা, কল্যাণকামিতা এবং মন পরিষ্কার রাখাও ঈমানের অংশ। আমরা নিজের জন্য সম্মান, নিরাপত্তা, ভালো ব্যবহার, উপকার ও সফলতা চাই। একইভাবে অন্য মুসলিম ভাইয়ের জন্যও এসব ভালো চাইতে শেখা দরকার। এই হাদিস হিংসা, স্বার্থপরতা ও কেবল নিজের লাভ দেখার মনোভাব কমাতে সাহায্য করে। মুসলিম ভাইয়ের জন্য ভালো চাওয়া মানে তার ক্ষতি না করা, তার ভালো দেখে খুশি হওয়া এবং প্রয়োজন হলে সৎভাবে পাশে দাঁড়ানো।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নিজের জন্য যে ভালো চাই, অন্য মুসলিম ভাইয়ের জন্যও তা চাইতে হবে।
- পূর্ণ ঈমানের সঙ্গে মানুষের প্রতি কল্যাণকামিতা জড়িত।
- হিংসা ও স্বার্থপরতা মুসলিম ভ্রাতৃত্বকে দুর্বল করে।
- ভাইয়ের ভালো দেখে খুশি হওয়া ঈমানি চরিত্রের পরিচয়।
