১/৩১. অধ্যায়ঃ
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ২/২৫৪ - মানুষের মধ্যে মীমাংসা
(বিবাদমান) মানুষদের মধ্যে মীমাংসা (ও সন্ধি) করার গুরুত্ব
আল্লাহ তা‘আলা বলেন,﴾ ۞لَّا خَيۡرَ فِي كَثِيرٖ مِّن نَّجۡوَىٰهُمۡ إِلَّا مَنۡ أَمَرَ بِصَدَقَةٍ أَوۡ مَعۡرُوفٍ أَوۡ إِصۡلَٰحِۢ بَيۡنَ ٱلنَّاسِۚ ﴿ [النساء: ١١٤]অর্থাৎ “তাদের অধিকাংশ গোপন পরামর্শে কোন কল্যাণ নেই, তবে যে (তার পরামর্শে) দান খয়রাত, সৎকাজ ও মানুষের মধ্যে শান্তি স্থাপনের নির্দেশ দেয় (তাতে) কল্যাণ আছে।” (সুরা নিসা ১১৪ আয়াত)তিনি আরো বলেন,﴾وَٱلصُّلۡحُ خَيۡرٞۗ ﴿ [النساء: ١٢٨]অর্থাৎ “বস্তুতঃ আপোস করা অতি উত্তম।” (ঐ ১২৮ আয়াত)তিনি অন্যত্র বলেছেন,﴾ فَٱتَّقُواْ ٱللَّهَ وَأَصۡلِحُواْ ذَاتَ بَيۡنِكُمۡۖ ﴿ [الانفال: ١]অর্থাৎ “তোমরা আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন কর এবং নিজেদের মধ্যে সদ্ভাব স্থাপন কর।” (সূরা আনফাল ১ আয়াত)তিনি আরো বলেন,﴾ إِنَّمَا ٱلۡمُؤۡمِنُونَ إِخۡوَةٞ فَأَصۡلِحُواْ بَيۡنَ أَخَوَيۡكُمۡۚ﴿ [الحجرات: ١٠]অর্থাৎ “সকল বিশ্বাসীরা তো পরস্পর ভাই ভাই, সুতরাং তোমরা তোমাদের দুই ভাই-এর মধ্যে সন্ধি স্থাপন কর।” (সূরা হুজুরাত ১০ আয়াত)
আপোস-মীমাংসা: সম্পর্ক জোড়া লাগাতে ভালো কথা বলা
রিয়াদুস সালেহীন : ২/২৫৪
রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ২/২৫৪
وَعَن أمِّ كُلْثُومِ بِنتِ عُقْبَةَ بنِ أَبي مُعَيطٍ رَضِيَ الله عَنهَا، قَالَتْ: سمِعتُ رَسُولَ الله ﷺ، يَقُولُ: «لَيْسَ الكَذَّابُ الَّذِي يُصْلِحُ بَيْنَ النَّاسِ فَيَنْمِي خَيراً، أَوْ يقُولُ خَيْراً». مُتَّفَقٌ عَلَيهِوَفي رِوَايَةِ مُسلِمٍ زِيَادَة، قَالَتْ: وَلَمْ أسْمَعْهُ يُرْخِّصُ في شَيْءٍ مِمَّا يَقُولُهُ النَّاسُ إلاَّ في ثَلاثٍ، تَعْنِي: الحَرْبَ، وَالإِصْلاَحَ بَيْنَ النَّاسِ، وَحَدِيثَ الرَّجُلِ امْرَأَتَهُ، وَحَدِيثَ المَرْأةِ زَوْجَهَا
উম্মে কুলসুম বিন্তে উক্ববাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি, ’’ঐ ব্যক্তি মিথ্যাবাদী নয়, যে মানুষের মধ্যে সদ্ভাব স্থাপন করার জন্য (বানিয়ে) ভাল কথা পৌঁছে দেয় অথবা ভাল কথা বলে। (বুখারী ও মুসলিম) [১] মুসলিমের এক বর্ণনায়[২] বর্ধিত আকারে আছে, উম্মে কুলসুম (রাঃ) বলেন, ’আমি নবী (ﷺ)-কে কেবলমাত্র তিন অবস্থায় মিথ্যা বলার অনুমতি দিতে শুনেছিঃ যুদ্ধের ব্যাপারে, লোকের মধ্যে আপোস-মীমাংসা করার সময় এবং স্বামী-স্ত্রীর পরস্পরের (প্রেম) আলাপ-আলোচনায়।’
সহীহুল বুখারী ১৬৯২, মুসলিম ২৬০৫, তিরমিযী ১৯৩৮, আবূ দাউদ ৪৯২০, ৪৯২১, আহমাদ ২৬৭২৭, ২৬৭৩১[২] বস্তুত মুসলিমের হাদীসে এ অংশটুকু উম্মে কুলসূম থেকে বর্ণিত হয় নি। এটি বরং ইমাম যুহরীর বাণী। [সম্পাদক]
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ২/২৫৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে মানুষের মধ্যে সদ্ভাব স্থাপনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক এসেছে। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, যে মানুষের মধ্যে মীমাংসা করার জন্য ভালো কথা পৌঁছে দেয় বা ভালো কথা বলে, সে মিথ্যাবাদী নয়। মুসলিমের বর্ধিত বর্ণনায় তিন অবস্থার কথা এসেছে: যুদ্ধের ব্যাপার, মানুষের মধ্যে আপোস-মীমাংসা এবং স্বামী-স্ত্রীর পারস্পরিক ভালোবাসার কথা। এই হাদিসের মূল শিক্ষা হলো, ভাঙা সম্পর্ক জোড়া লাগানো বড় ভালো কাজ। তবে এখানে উদ্দেশ্য হলো ভালো কথা দিয়ে ঝগড়া কমানো, আগুন বাড়ানো নয়। কারও কথা বিকৃত করে ক্ষতি করা নয়; বরং শান্তি, নরম ভাষা ও সম্পর্ক ঠিক করার চেষ্টা করা। মুসলিম সমাজে বিবাদ কমাতে এই শিক্ষা খুব দরকারি।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মানুষের মধ্যে মীমাংসা করা প্রশংসনীয় কাজ।
- সম্পর্ক ঠিক করতে ভালো কথা বলা উৎসাহিত করা হয়েছে।
- ভালো কথা দিয়ে ঝগড়া কমানো উচিত, বাড়ানো নয়।
- স্বামী-স্ত্রীর ভালো সম্পর্ক রক্ষার কথাও বর্ণনায় এসেছে।
