১/৩৩. অধ্যায়ঃ

রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৩/২৬৭ - এতীমের তত্ত্বাবধানকারীর জান্নাতে মর্যাদা

অনাথ-এতীম, কন্যা-সন্তান ও সমস্ত দুর্বল ও দরিদ্রের সঙ্গে নম্রতা, তাদের প্রতি দয়া ও তাদের সঙ্গে বিনম্র ব্যবহার করার গুরুত্ব

আল্লাহ তা‘আলা বলেন,﴾ وَٱخۡفِضۡ جَنَاحَكَ لِمَنِ ٱتَّبَعَكَ مِنَ ٱلۡمُؤۡمِنِينَ ٢١٥ ﴿ [الشعراء: ٢١٥]অর্থাৎ “মু‘মিনদের জন্য তুমি তোমার বাহুকে অবনমিত রাখ।” (সূরা হিজর ৮৮ আয়াত)আল্লাহ তা‘আলা বলেন,﴾ وَٱصۡبِرۡ نَفۡسَكَ مَعَ ٱلَّذِينَ يَدۡعُونَ رَبَّهُم بِٱلۡغَدَوٰةِ وَٱلۡعَشِيِّ يُرِيدُونَ وَجۡهَهُۥۖ وَلَا تَعۡدُ عَيۡنَاكَ عَنۡهُمۡ تُرِيدُ زِينَةَ ٱلۡحَيَوٰةِ ٱلدُّنۡيَاۖ ﴿ [الكهف: ٢٨]অর্থাৎ “তুমি নিজেকে তাদেরই সংসর্গে রাখ যারা সকাল ও সন্ধ্যায় তাদের রবকে তাঁর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে আহ্বান করে এবং তুমি পার্থিব জীবনের শোভা কামনা করে তাদের দিক হতে তোমার দৃষ্টি ফিরিয়ে নিয়ো না।” (সূরা কাহফ ২৮ আয়াত)তিনি আরো বলেন,﴾ فَأَمَّا ٱلۡيَتِيمَ فَلَا تَقۡهَرۡ ٩ وَأَمَّا ٱلسَّآئِلَ فَلَا تَنۡهَرۡ ١٠ ﴿ [الضحا: ٩، ١٠]অর্থাৎ “অতএব তুমি পিতৃহীনের প্রতি কঠোর হয়ো না এবং ভিক্ষুককে ধমক দিয়ো না।” (সূরা যুহা ৯-১০ আয়াত)আল্লাহ তা‘আলা বলেন,﴾ أَرَءَيۡتَ ٱلَّذِي يُكَذِّبُ بِٱلدِّينِ ١ فَذَٰلِكَ ٱلَّذِي يَدُعُّ ٱلۡيَتِيمَ ٢ وَلَا يَحُضُّ عَلَىٰ طَعَامِ ٱلۡمِسۡكِينِ ٣ ﴿ [الماعون: ١، ٣]অর্থাৎ “তুমি কি দেখেছ তাকে, যে (দ্বীন বা) কর্মফলকে মিথ্যা মনে করে থাকে? সে তো ঐ ব্যক্তি, যে পিতৃহীনকে রূঢ়ভাবে তাড়িয়ে দেয়। এবং সে অভাবগ্রস্তকে খাদ্যদানে উৎসাহ প্রদান করে না।” (সূরা মাউন ১-৩ আয়াত)

এতীমের তত্ত্বাবধানকারীর ফজিলত: জান্নাতে নবী صلى الله عليه وسلم-এর নিকট থাকার আশা

রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ৩/২৬৭

وعن سهلِ بن سعدٍ رضي اللَّه عنه قال : قال رسول اللَّه صَلّى االلهُ عَلَيْهِ وسَلَّم : «أَنَا وآافلُ الْيتِيمِ فيالجنَّةِ هَكَذَا» وأَشَار بِالسَّبَّابَةِ وَالْوُسْطَى، وفَرَّجَ بَيْنَهُمَا «. رواه البخاري. و «آَافِلُ الْيتِيم» : الْقَائِمُ بِأُمُورِهِ.

সাহল ইবনু সা'দ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, ’’আমি ও এতিমের তত্ত্বাবধানকারী জান্নাতে এভাবে (পাশাপাশি) থাকব।’’ এ কথা বলার সময় তিনি (তাঁর) তর্জনী ও মধ্যমা আঙ্গুল মিলিয়ে উভয়ের মাঝে একটু ফাঁক রেখে ইশারা করে দেখালেন। (বুখারী)

সহীহুল বুখারী ৫৩০৪, ৬০০৫, তিরমিযী ১৯১৮, আবূ দাউদ ৫১৫০, আহমাদ ২২৩১৩

রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৩/২৬৭-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم এতীমের তত্ত্বাবধানকারীর মর্যাদা খুব সুন্দরভাবে বুঝিয়েছেন। তিনি বলেছেন, আমি ও এতীমের তত্ত্বাবধানকারী জান্নাতে এভাবে থাকব। এরপর তিনি তর্জনী ও মধ্যমা আঙুল পাশাপাশি রেখে সামান্য ফাঁক রেখে দেখিয়েছেন। এখানে এতীমের তত্ত্বাবধান বলতে তার দেখাশোনা, প্রয়োজন পূরণ, নিরাপত্তা, ভালোবাসা এবং জীবনযাপনের দায়িত্ব নেওয়া বোঝায়। হাদিসটি এতীমের অধিকারকে বড় করে তুলে ধরে। সমাজে এতীম শিশু অনেক সময় স্নেহ, নিরাপত্তা ও সহায়তার অভাবে থাকে। যে ব্যক্তি তার পাশে দাঁড়ায়, সে শুধু সামাজিক কাজ করে না, বরং আল্লাহর সন্তুষ্টির পথে একটি বড় নেক কাজ করে। এই হাদিস মানুষকে এতীমের প্রতি মমতা, দায়িত্ব ও নিয়মিত যত্নের দিকে আহ্বান করে।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • এতীমের তত্ত্বাবধান করা বড় নেক কাজ।
  • এতীম শিশুর প্রয়োজন, নিরাপত্তা ও স্নেহের দিকে খেয়াল রাখা দরকার।
  • নবী صلى الله عليه وسلم এতীমের অভিভাবকের মর্যাদা আঙুলের ইশারায় বুঝিয়েছেন।
  • সমাজে অসহায় শিশুর পাশে দাঁড়ানো ইসলামে উৎসাহিত কাজ।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন