১/৪৯. অধ্যায়ঃ
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৪/৩৯৮ - কলেমা বলার পর হত্যা ও অন্তরের বিচার
লোকের বাহ্যিক অবস্থা ও কার্যকলাপের ভিত্তিতে বিধান প্রয়োগ করা হবে এবং তাদের আভ্যন্তরীণ অবস্থা আল্লাহকে সঁপে দেওয়া হবে।
আল্লাহ তা‘আলা বলেন,﴾ فَإِن تَابُواْ وَأَقَامُواْ ٱلصَّلَوٰةَ وَءَاتَوُاْ ٱلزَّكَوٰةَ فَخَلُّواْ سَبِيلَهُمۡۚ إِنَّ ٱللَّهَ غَفُورٞ رَّحِيمٞ ٥ ﴿ [التوبة: ٥]অর্থাৎ “কিন্তু যদি তারা তওবা করে, যথাযথ নামায পড়ে ও যাকাত প্রদান করে, তাহলে তাদের পথ ছেড়ে দাও।” (সূরা তওবাহ ৫ আয়াত)
তুমি কি তার অন্তর চিরে দেখেছিলে: কলেমার মর্যাদার হাদিস
রিয়াদুস সালেহীন : ৪/৩৯৮
রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ৪/৩৯৮
وَعَن أُسَامَةَ بنِ زَيدٍ رَضِيَ الله عَنهُمَا، قَالَ: بَعَثَنَا رَسُولُ اللهِ ﷺ ﷺ إِلَى الْحُرَقَةِ مِنْ جُهَيْنَةَ فَصَبَّحْنَا القَوْمَ عَلَى مِيَاهِهِمْ، وَلَحِقْتُ أنَا وَرَجُلٌ مِنَ الأَنْصَارِ رَجُلاً مِنْهُمْ، فَلَمَّا غَشَيْنَاهُ، قَالَ: لاَ إِلٰهَ إلاَّ الله، فَكفَّ عَنْهُ الأَنْصَارِي، وطَعَنْتُهُ برُمْحِي حَتَّى قَتَلْتُهُ، فَلَمَّا قَدِمْنَا المَدِينَةَ، بَلَغَ ذلِكَ النَّبيَّ ﷺ فَقَالَ لِي: «يَا أُسَامَة، أقَتَلْتَهُ بَعْدَ مَا قَالَ لاَ إِلٰهَ إلاَّ اللهُ؟!» قُلْتُ: يَا رَسُولَ الله، إِنَّمَا كَانَ مُتَعَوِّذاً، فَقَالَ: «أقَتَلْتَهُ بَعْدَ مَا قَالَ لاَ إِلٰهَ إلاَّ اللهُ؟!» فَمَا زَالَ يُكَرِّرُهَا عَلَيَّ حَتَّى تَمنْيَّتُ أنِّي لَمْ أكُنْ أسْلَمْتُ قَبْلَ ذلِكَ اليَوْمِ. مُتَّفَقٌ عَلَيهِوفي رواية: فَقَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ ﷺ: أقالَ: لاَ إِلٰهَ إِلاَّ اللهُ وَقَتَلْتَهُ؟! قُلْتُ: يَا رَسُولَ الله، إِنَّمَا قَالَهَا خَوْفاً مِن السِّلاحِ، قَالَ: « أَفَلاَ شَقَقْتَ عَنْ قَلْبِهِ حَتَّى تَعْلَمَ أَقَالَهَا أمْ لاَ؟! فمَا زَالَ يُكَرِّرُهَا حَتَّى تَمَنَّيْتُ أنِّي أسْلَمْتُ يَوْمَئذٍ.
উসামাহ্ ইবনু যায়দ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদেরকে জুহাইনা গোত্রের এক শাখা হুরাকার দিকে পাঠালেন। অতঃপর আমরা সকাল সকাল পানির ঝর্নার নিকট তাদের উপর আক্রমণ করলাম। (যুদ্ধ চলাকালীন) আমি ও একজন আনসারী তাদের এক ব্যক্তির পিছনে ধাওয়া করলাম। যখন আমরা তাকে ঘিরে ফেললাম, তখন সে ’লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলল। আনসারী থেমে গেলেন, কিন্তু আমি তাকে আমার বল্লম দিয়ে গেঁথে দিলাম। এমনকি শেষ পর্যন্ত তাকে হত্যা করে ফেললাম।অতঃপর যখন আমরা মদ্বীনা পৌঁছলাম, তখন নবী (ﷺ) এর নিকট এ খবর পৌঁছল। তিনি বললেন, ’’হে উসামা! তার ’লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলার পরেও কি তুমি তাকে হত্যা করেছ?’’ আমি বললাম, ’হে আল্লাহর রাসূল! সে প্রাণ বাঁচানোর জন্য এরূপ করেছে।’ পুনরায় তিনি বললেন, ’’লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলার পরও তুমি তাকে খুন করেছ?’’ তিনি আমার সামনে এ কথা বারবার বলতে থাকলেন। এমনকি আমি আকাঙ্ক্ষা করলাম যে, যদি আজকের পূর্বে আমি ইসলাম গ্রহণ না করতাম (অর্থাৎ এখন আমি মুসলিম হতাম)। (বুখারী ও মুসলিম) [১]অন্য এক বর্ণনায় আছে, রাসূল (ﷺ) বললেন, ’’সে কি ’লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলেছে এবং তুমি তাকে হত্যা করেছ?’’ আমি বললাম, ’হে আল্লাহর রাসূল! সে কেবলমাত্র অস্ত্রের ভয়ে এই (কলেমা) বলেছে।’ তিনি বললেন, ’’তুমি কি তার অন্তর চিরে দেখেছিলে যে, সে এ (কলেমা) অন্তর থেকে বলেছিল কি না?’’ অতঃপর একথা পুনঃ পুনঃ বলতে থাকলেন। এমনকি আমি আকাঙ্ক্ষা করলাম যে, যদি আমি আজ মুসলিম হতাম।
সহীহুল বুখারী ৪২৬৯, ৬৮৭২, মুসলিম ৯৬, আবূ দাউদ ২৬৪৩, আহমাদ ২১২৩৮, ২১২৯৫
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৪/৩৯৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে উসামা ইবনু যায়দ (রাঃ)-এর একটি ঘটনা এসেছে। যুদ্ধের সময় এক ব্যক্তি ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলার পরও উসামা (রাঃ) তাকে হত্যা করেন। পরে নবী (صلى الله عليه وسلم) বারবার জিজ্ঞেস করেন, সে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলার পরও কি তুমি তাকে হত্যা করেছ? উসামা (রাঃ) বলেন, সে অস্ত্রের ভয়ে বলেছিল। তখন নবী (صلى الله عليه وسلم) বলেন, তুমি কি তার অন্তর চিরে দেখেছিলে? এই কথাটি হাদিসের মূল শিক্ষা খুব পরিষ্কার করে: মানুষের অন্তরের উদ্দেশ্য নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত মানুষ দিতে পারে না। বাহ্যিকভাবে কলেমা বললে তাকে সম্মান করতে হবে। সন্দেহ, রাগ বা যুদ্ধের চাপ কলেমার মর্যাদাকে বাতিল করতে পারে না।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কলেমা বলার পর মানুষের নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দিতে হবে।
- অন্তরের উদ্দেশ্য নিয়ে চূড়ান্ত বিচার আল্লাহর।
- সন্দেহের ভিত্তিতে কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া বিপজ্জনক।
- রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) কলেমার মর্যাদা বারবার স্মরণ করিয়েছেন।
