১/৭১. অধ্যায়ঃ
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ১০/৬১৬ - দুনিয়ার উত্থান-পতনের শিক্ষা
মু‘মিনদের জন্য বিনয়ী ও বিনম্র হওয়ার গুরুত্ব
মহান আল্লাহ বলেন, [ الشعراء : ٢١٥ ] ﴾ وَاخْفِضْ جَنَاحَكَ لِمَنِ اتَّبَعَكَ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ ﴿অর্থাৎ, তুমি তোমার অনুসারী বিশ্বাসীদের প্রতি সদয় হও। (সূরা শুআরা ২১৫ আয়াত)আল্লাহ তাআলা বলেন,﴾ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا مَن يَرْتَدَّ مِنكُمْ عَن دِينِهِ فَسَوْفَ يَأْتِي اللَّهُ بِقَوْمٍ يُحِبُّهُمْ وَيُحِبُّونَهُ أَذِلَّةٍ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ أَعِزَّةٍ عَلَى الْكَافِرِينَ ﴿ [ المائدة : ٥٤ ]অর্থাৎ, হে বিশ্বাসীগণ! তোমাদের মধ্যে কেউ ধর্ম হতে ফিরে গেলে আল্লাহ এমন এক সম্প্রদায় আনয়ন করবেন, যাদেরকে তিনি ভালবাসবেন ও যারা তাঁকে ভালবাসবে, তারা হবে বিশ্বাসীদের প্রতি কোমল ও অবিশ্বাসীদের প্রতি কঠোর। (সূরা মাঈদাহ ৫৪ আয়াত)তিনি আরো বলেন,﴾ يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّا خَلَقْنَاكُم مِّن ذَكَرٍ وَأُنثَىٰ وَجَعَلْنَاكُمْ شُعُوبًا وَقَبَائِلَ لِتَعَارَفُوا إِنَّ أَكْرَمَكُمْ عِندَ اللَّهِ أَتْقَاكُمْ ﴿ [ الحجرات : ١٣ ]অর্থাৎ, হে মানুষ! আমি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছি এক পুরুষ ও এক নারী হতে, পরে তোমাদেরকে বিভক্ত করেছি বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে, যাতে তোমরা একে অপরের সাথে পরিচিত হতে পার। তোমাদের মধ্যে ঐ ব্যক্তিই আল্লাহর নিকট অধিক মর্যাদাসম্পন্ন যে অধিক আল্লাহ-ভীরু। (সূরা হুজরাত ১৩ আয়াত)তিনি আরো বলেন, [ النجم : ٣٢ ] ﴾ فَلَا تُزَكُّوا أَنفُسَكُمْ هُوَ أَعْلَمُ بِمَنِ اتَّقَىٰ ﴿অর্থাৎ, তোমরা আত্মপ্রশংসা করো না। তিনিই সম্যক জানেন আল্লাহভীরু কে। (সূরা নজম ৩২ আয়াত)তিনি অন্য জায়গায় বলেন,﴾ وَنَادَىٰ أَصْحَابُ الْأَعْرَافِ رِجَالًا يَعْرِفُونَهُم بِسِيمَاهُمْ قَالُوا مَا أَغْنَىٰ عَنكُمْ جَمْعُكُمْ وَمَا كُنتُمْ تَسْتَكْبِرُونَ، أَهُؤُلَاءِ الَّذِينَ أَقْسَمْتُمْ لَا يَنَالُهُمُ اللَّهُ بِرَحْمَةٍ ادْخُلُوا الْجَنَّةَ لَا خَوْفٌ عَلَيْكُمْ وَلَا أَنتُمْ تَحْزَنُونَ ﴿ [ الأعراف : ٤٨-٤٩ ]অর্থাৎ, আ‘রাফবাসিরা কিছু লোককে তাদের লক্ষণ দ্বারা চিনতে পেরে তাদেরকে আহবান ক’রে বলবে, তোমাদের দল ও তোমাদের অহংকার কোন কাজে আসল না। (বলা হবেঃ) এদেরই সম্বন্ধে কি তোমরা শপথ ক’রে বলতে যে, আল্লাহ এদের প্রতি দয়া প্রদর্শন করবেন না। এদেরকেই বলা হবে, তোমরা বেহেশতে প্রবেশ কর, তোমাদের কোন ভয় নেই এবং তোমরা দুঃখিতও হবে না। (সূরা আ‘রাফ ৪৮-৪৯ আয়াত)
দুনিয়ার উত্থান-পতন ও অহংকার থেকে সতর্কতা
রিয়াদুস সালেহীন : ১০/৬১৬
রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ১০/৬১৬
وَعَن أَنَسٍ رضي الله عنه، قَالَ: كَانَتْ نَاقَةُ رَسُولِ اللهِ ﷺ العَضْبَاءُ لاَ تُسْبَقُ، أَوْ لاَ تَكَادُ تُسْبَقُ، فَجَاءَ أعْرَابيٌّ عَلَى قَعُودٍ لَهُ، فَسَبَقَهَا، فَشَقَّ ذَلِكَ عَلَى الْمُسْلِمِينَ حَتَّى عَرَفَهُ، فَقَالَ: «حَقٌّ عَلَى اللهِ أنْ لاَ يَرْتَفِعَ شَيْءٌ مِنَ الدُّنْيَا إِلاَّ وَضَعَهُ». رواه البخاري
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর আযববা নামক উটনীটি প্রতিযোগিতায় কোনদিন হারত না অথবা তাকে অতিক্রম করে কেউ যেতে পারত না। একবার এক বেদুঈন তার একটি সওয়ারী উঁটে সওয়ার হয়ে আসলে সেটি তার আগে চলে গেল। মুসলিমদের কাছে তা কষ্টদায়ক মনে হল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এ কথা জানতে পারলে বললেন, ’’আল্লাহর বিধান হল, দুনিয়ার কোনো জিনিস উন্নত হলে, তিনি তাকে অবনত করেন।’’ (বুখারী) [১]
সহীহুল বুখারী ২৮৭১, ২৮৭২, ৬৫০১, নাসায়ী ৩৫৮৮, আবূ দাউদ ৪৮০২, আহমাদ ১১৫৯৯, ১৩২৪৭
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ১০/৬১৬-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর আযববা নামের উটনীর ঘটনা এসেছে। উটনীটি সাধারণত প্রতিযোগিতায় হারত না। একবার এক বেদুঈনের সওয়ারী উট তাকে ছাড়িয়ে যায়। এতে মুসলিমদের কষ্ট লাগে। তখন রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেন, আল্লাহর বিধান হলো, দুনিয়ার কোনো জিনিস উন্নত হলে তিনি তাকে অবনত করেন। এই কথায় দুনিয়ার অস্থায়িত্ব ও বিনয়ের শিক্ষা আছে। কোনো সফলতা, শক্তি বা খ্যাতি স্থায়ী নয়। তাই সাফল্যে অহংকার করা ঠিক নয়, আর সামান্য পতনে হতাশ হওয়াও উচিত নয়। হাদিসটি আমাদের শেখায়, দুনিয়ার উত্থান-পতন আল্লাহর নিয়মের মধ্যে ঘটে; মুমিনের কাজ হলো বিনয়ী থাকা ও আল্লাহর ওপর ভরসা রাখা। ফলে মুমিন সাফল্যকে পরীক্ষা এবং পতনকে শিক্ষা হিসেবে দেখতে শেখে। তাই এই ঘটনা হৃদয়ে দুনিয়ার মোহ কমিয়ে আল্লাহর নিয়ম স্মরণ করায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- দুনিয়ার সাফল্য স্থায়ী নয়।
- উন্নতি পেলে অহংকার না করে বিনয়ী থাকা উচিত।
- পতন বা হারে অতিরিক্ত ভেঙে পড়া ঠিক নয়।
