১/৫. অধ্যায়ঃ

রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৯/৬৯ - দাম্পত্য গোপনতা ও সীমা মানার শিক্ষা

মুরাক্বাবাহ্ (আল্লাহর ধ্যান)

আল্লাহ তা‘আলা বলেন,﴾ ٱلَّذِي يَرَىٰكَ حِينَ تَقُومُ ٢١٨ وَتَقَلُّبَكَ فِي ٱلسَّٰجِدِينَ ٢١٩ ﴿ [الشعراء: ٢١٨، ٢١٩]অর্থাৎ “যিনি তোমাকে দেখেন; যখন তুমি দন্ডায়মান হও (নামাযে) এবং তোমাকে দেখেন সিজদাকারীদের সাথে উঠতে-বসতে।” (সূরা শু‘আরা ২১৮-২১৯ আয়াত)তিনি অন্যত্র বলেন,﴾ وَهُوَ مَعَكُمۡ أَيۡنَ مَا كُنتُمۡۚ ﴿ [الحديد: ٤]অর্থাৎ “তোমরা যেখানেই থাক না কেন তিনি তোমাদের সঙ্গে আছেন।” (সূরা হাদীদ ৪ আয়াত)তিনি আরো বলেন,﴾ إِنَّ ٱللَّهَ لَا يَخۡفَىٰ عَلَيۡهِ شَيۡءٞ فِي ٱلۡأَرۡضِ وَلَا فِي ٱلسَّمَآءِ ٥ ﴿ [ال عمران: ٥]অর্থাৎ “নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে যমীন ও আকাশের কোনো কিছুই গোপন নেই।” (সূরা আলে ইমরান ৫ আয়াত)তিনি আরো বলেন,﴾ إِنَّ رَبَّكَ لَبِٱلۡمِرۡصَادِ ١٤ ﴿ [الفجر: ١٤]অর্থাৎ “নিশ্চয় তোমার প্রতিপালক সময়ের প্রতীক্ষায় থেকে সতর্ক দৃষ্টি রাখেন।” (সূরা ফজর ১৪ আয়াত)তাঁর অমোঘ বাণী,﴾ يَعۡلَمُ خَآئِنَةَ ٱلۡأَعۡيُنِ وَمَا تُخۡفِي ٱلصُّدُورُ ١٩ ﴿ [غافر: ١٩]অর্থাৎ “চক্ষুর চোরা চাহনি ও অন্তরে যা গোপন আছে সে সম্বন্ধে তিনি অবহিত।”(সূরা মুমিন ১৯ আয়াত)এ ছাড়া এ প্রসঙ্গে আরো অনেক আয়াত রয়েছে। উক্ত মর্মবোধক হাদীসসমূহঃ-

দাম্পত্য গোপনতা: ব্যক্তিগত বিষয়ে অযথা হস্তক্ষেপ থেকে বাঁচা

রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ৯/৬৯

التاسع: عن عمر رضي الله عنه عن النبي ﷺ قال: «لا يسأل الرجل فيم ضرب امرأته» (رواه أبو دواد وغيره) .

উমার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

“কোনো স্বামী তার স্ত্রীকে কি জন্য প্রহার করেছে তা নিয়ে (যথাযথ কর্তৃপক্ষ ছাড়া অন্য কারও পক্ষ থেকে) প্রশ্ন করা যাবে না।” (কারণ এতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যকার প্রাইভেসী লঙ্ঘন হয়) আবূ দাউদ ও অন্যান্য মুহাদ্দিসগণ এটি বর্ণনা করেছেন। (আবূ দাউদ ও ইবনু মাজাহ)।[১]

আমি (আলবানী) বলছিঃ এ হাদীসের সনদ দুর্বল। এ সম্পর্কে আমি ‘‘ইরওয়াউল গালীল’’ গ্রন্থে (২০৩৪) বিস্তারিত আলোচনা করেছি। হাদীসটিকে আবূ দাঊদ (২১৪৭), নাসায়ী ‘‘আলকুবরা’’ গ্রন্থে, ইবনু মাজাহ্ (১৯৮৬), বাইহাক্বী ও আহমাদ বর্ণনা করেছেন। কিন্তু বর্ণনাকারী আব্দুর রহমান মাসলামীর কারণে হাদীসটি দুর্বল। তার সম্পর্কে হাফিয যাহাবী বলেনঃ তাকে শুধুমাত্র এ হাদীসেই চেনা যায়। তার থেকে শুধুমাত্র দাঊদ ইবনু আব্দিল্লাহ্ আওদী এককভাবে বর্ণনা করেছেন। আর শাইখ আহমাদ শাকের ‘‘মুসনাদু আহমাদ’’ এর টীকায় দাউদ ইবনু আব্দিল্লাহ্ আওদীকে দুর্বল আখ্যা দিয়েছেন। কিন্তু তা সঠিক নয়। কারণ দুর্বল হচ্ছেন দাঊদ ইবনু ইয়াযীদ আওদী, যিনি এ সনদে নেই।

রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৯/৬৯-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসের অনুবাদে বলা হয়েছে, কোনো স্বামী তার স্ত্রীকে কেন প্রহার করেছে, সে বিষয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষ ছাড়া অন্য কারও পক্ষ থেকে প্রশ্ন করা যাবে না। অনুবাদেই কারণ হিসেবে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যকার গোপনতা ভঙ্গের কথা উল্লেখ আছে। তাই এর মূল শিক্ষা হলো দাম্পত্য জীবনের ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে অযথা কৌতূহল বা অনধিকার হস্তক্ষেপ না করা। তবে ইসলামী স্কলারদের মতে, কোনো জুলুম, ক্ষতি বা অন্যায় ঘটলে তা গোপনতার নামে ঢেকে রাখা যাবে না; ন্যায়সঙ্গত কর্তৃপক্ষ বা সমাধানের পথ নেওয়া যাবে। সুতরাং এই হাদিসকে পারিবারিক গোপনতা ও সীমা মানার শিক্ষা হিসেবে বুঝতে হবে, অন্যায়ের অনুমতি হিসেবে নয়।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • স্বামী-স্ত্রীর ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে অযথা কৌতূহল করা উচিত নয়।
  • দাম্পত্য গোপনতা রক্ষা করা সামাজিক আদবের অংশ।
  • যথাযথ কর্তৃপক্ষের বিষয়কে সাধারণ আলাপের বিষয় বানানো ঠিক নয়।
  • ইসলামী স্কলারদের মতে, গোপনতার নামে জুলুমকে প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন