২/৮৫. অধ্যায়ঃ
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ২/৬৯১ - গোপন কথা রক্ষায় আবূ বকরের আমানতদারি
গোপনীয়তা রক্ষা করার গুরুত্ব
আল্লাহ তা‘আলা বলেন,﴾وَأَوۡفُواْ بِٱلۡعَهۡدِۖ إِنَّ ٱلۡعَهۡدَ كَانَ مَسُۡٔولٗا﴿ [الاسراء: ٣٤]অর্থাৎ “প্রতিশ্রুতি পালন করো; নিশ্চয়ই প্রতিশ্রুতি সম্পর্কে কৈফিয়ত তলব করা হবে।” (সূরা বানী ইস্রাঈল ৩৪ আয়াত)
গোপন কথা রক্ষা: আবূ বকর (রা.)-এর আমানতদারির শিক্ষা
রিয়াদুস সালেহীন : ২/৬৯১
রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ২/৬৯১
وَعَن عَبدِ اللهِ بنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنهُمَا: أنَّ عُمَرَ رضي الله عنه حِيْنَ تأيَّمَتْ بِنْتُهُ حَفْصَةُ، قَالَ: لَقِيتُ عُثْمَانَ بْنَ عَفّانَ رضي الله عنه، فَعَرَضْتُ عَلَيْهِ حَفْصَةَ، فَقُلْتُ: إنْ شِئْتَ أَنْكَحْتُكَ حَفْصَةَ بِنْتَ عُمَرَ؟ قَالَ: سأنْظُرُ فِي أمْرِي. فَلَبِثْتُ لَيَالِيَ ثُمَّ لَقِيَنِي، فَقَالَ: قَدْ بَدَا لِي أنْ لاَ أتَزَوَّجَ يَوْمِي هَذَا.فَلَقِيتُ أَبَا بَكْرٍ رضي الله عنه، فَقُلتُ: إنْ شِئْتَ أنْكَحْتُكَ حَفْصَةَ بنْتَ عُمَرَ، فَصَمتَ أَبُو بَكْرٍ رضي الله عنه، فَلَمْ يَرْجِعْ إلَيَّ شَيْئاً ! فَكُنْتُ عَلَيْهِ أوْجَدَ مِنِّي عَلَى عُثْمَانَ، فَلَبِثَ لَيَالِيَ ثُمَّ خَطَبَهَا النَّبيُّ ﷺ، فَأنْكَحْتُهَا إيَّاهُ.فَلَقِيَنِي أَبُو بَكْرٍ، فَقَالَ: لَعَلَّكَ وَجَدْتَ عَلَيَّ حِيْنَ عَرَضْتَ عَلَيَّ حَفْصَةَ فَلَمْ أرْجِعْ إِلَيْكَ شَيْئاً؟ فَقُلتُ: نَعَمْ، قَالَ: فَإنَّهُ لَمْ يَمْنَعْنِي أَنْ أرْجِعَ إِلَيْكَ فِيمَا عَرَضْتَ عَلَيَّ إِلاَّ أنِّي كُنْتُ عَلِمْتُ أنَّ النبيَّ ﷺ ذَكَرَهَا، فَلَمْ أكُنْ ِلأُفْشِيَ سِرَّ رَسُولِ الله ﷺ، وَلَوْ تَرَكَهَا النَّبيُّ ﷺ لَقَبِلْتُهَا. رواه البخاري
আব্দুল্লাহ ইবনে উমার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
যখন উমর (রাঃ)-এর কন্যা হাফসা (রাঃ) বিধবা হয়ে গেলেন, তখন তিনি বললেন যে, আমি ’উসমান ইবনে ’আফ্ফানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলাম এবং হাফসাকে বিবাহ করার জন্য দরখাস্ত দিয়ে তাঁকে বললাম, ’আপনি ইচ্ছা করলে আপনার বিবাহ আমি উমরের কন্যা হাফসার সাথে দিয়ে দিচ্ছি?’ তিনি বললেন, ’আমি আমার (এ) ব্যাপারে বিবেচনা করব।’ সুতরাং আমি কয়েকটি রাত্রি অপেক্ষা করলাম। অতঃপর তিনি আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বললেন, ’আমার এখনবিয়ে না করাটাই ভাল মনে করছি।’ (উমর বলেন,) অতঃপর আমি আবূ বকর (রাঃ)-এর সাথে দেখা করে বললাম, ’যদি আপনি ইচ্ছা করেন, তাহলে আমি আপনার বিবাহ হাফসার সাথে দিয়ে দিই।’ আবূ বকর চুপ থাকলেন এবং কোন উত্তর দিলেন না। সুতরাং আমি ’উসমান অপেক্ষা তাঁর প্রতি বেশী দুঃখিত হলাম। তারপর কয়েকটি রাত্রি অপেক্ষা করলাম। অতঃপর নবী (ﷺ) স্বয়ং তাঁকে বিবাহের পায়গাম দিলেন। ফলে আমি হাফসার বিবাহ তাঁর সাথেই দিয়ে দিলাম। তারপর আবূ বকর আমার সাথে সাক্ষাৎ করে বললেন, ’আপনি আমাকে হাফসাকে বিবাহ করার দরখাস্ত দিয়েছিলেন এবং আমি কোন উত্তর দিইনি। সেজন্য হয়তো আপনি আমার উপর দুঃখিত হয়েছেন? আমি বললাম, ’হ্যাঁ।’ তিনি বললেন, ’আমার আপনাকে উত্তর না দেওয়ার কারণ এই ছিল যে, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) হাফসাকে বিবাহ করার ব্যাপারে আলোচনা করেছিলেন। সুতরাং আমি আল্লাহর রাসূল (ﷺ) এর গোপন কথা প্রকাশ করতে চাচ্ছিলাম না। যদি নবী (ﷺ) হাফসাকে বর্জন করতেন, তাহলে নিশ্চয়ই আমি তাঁকে গ্রহণ করতাম।’ (বুখারী) [১]
সহীহুল বুখারী ৪০০৫, ৫১২২, ৫১২৫, ৫১৪৫, নাসায়ী ৩২৪৮, ৩২৫৯, আহমাদ ৭৫, ৪৭৯২
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ২/৬৯১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে হাফসা (রা.)-এর বিয়ের ঘটনার মাধ্যমে গোপন কথা রক্ষার সুন্দর শিক্ষা পাওয়া যায়। উমার (রা.) প্রথমে উসমান (রা.)-এর কাছে এবং পরে আবূ বকর (রা.)-এর কাছে হাফসা (রা.)-এর বিয়ের প্রস্তাব দেন। আবূ বকর (রা.) কোনো উত্তর দেননি। এতে উমার (রা.) কষ্ট পেয়েছিলেন। পরে জানা গেল, রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) হাফসা (রা.)-কে বিবাহ করার কথা আলোচনা করেছিলেন। আবূ বকর (রা.) সেই গোপন কথা প্রকাশ করতে চাননি। যদি নবীজি (صلى الله عليه وسلم) তাঁকে বিয়ে না করতেন, তাহলে আবূ বকর (রা.) প্রস্তাব গ্রহণ করতেন। এই হাদিস আমানতদারি, নীরবতা ও গোপন কথা রক্ষার বড় শিক্ষা দেয়। সব কথা জানা থাকলেও বলা ঠিক নয়, যদি তা গোপনীয় হয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- গোপন কথা জানা থাকলে তা প্রকাশ না করা আমানতদারি।
- চুপ থাকা কখনো দায়িত্বশীল আচরণ হতে পারে।
- অন্যের ব্যক্তিগত আলোচনা রক্ষা করা উচিত।
- কষ্ট পেলেও সত্য জানার আগে তাড়াহুড়া করে সিদ্ধান্ত দেওয়া ঠিক নয়।
