২/৮৫. অধ্যায়ঃ
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৩/৬৯২ - ফাতেমা (রা.) ও গোপন কথা রক্ষার শিক্ষা
গোপনীয়তা রক্ষা করার গুরুত্ব
আল্লাহ তা‘আলা বলেন,﴾وَأَوۡفُواْ بِٱلۡعَهۡدِۖ إِنَّ ٱلۡعَهۡدَ كَانَ مَسُۡٔولٗا﴿ [الاسراء: ٣٤]অর্থাৎ “প্রতিশ্রুতি পালন করো; নিশ্চয়ই প্রতিশ্রুতি সম্পর্কে কৈফিয়ত তলব করা হবে।” (সূরা বানী ইস্রাঈল ৩৪ আয়াত)
ফাতেমা (রা.)-এর গোপনীয়তা: আমানত, ধৈর্য ও সুসংবাদের হাদিস
রিয়াদুস সালেহীন : ৩/৬৯২
রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ৩/৬৯২
وَعَن عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنهَا، قَالَتْ: كُنَّ أَزْوَاجُ النَّبيِّ ﷺ عِنْدَهُ، فَأقْبَلَتْ فَاطِمَةُ رَضِيَ اللهُ عَنهَا تَمْشِي، مَا تُخْطِئُ مِشيتُهَا مِنْ مشْيَةِ رَسُولِ اللهِ ﷺ شَيْئاً، فَلَمَّا رَآهَا رَحَّبَ بِهَا، وَقَالَ: «مَرْحَباً بابْنَتِي»، ثُمَّ أجْلَسَهَا عَنْ يَمِينِهِ أَوْ عَنْ شِمَالِهِ، ثُمَّ سَارَّهَا فَبَكتْ بُكَاءً شَدِيداً، فَلَمَّا رَأَى جَزَعَهَا، سَارَّهَا الثَّانِيَةَ فَضَحِكَتْ، فَقُلتُ لَهَا: خَصَّكِ رَسُولُ اللهِ ﷺ ﷺ مِنْ بَيْنِ نِسَائِهِ بِالسِّرَارِ، ثُمَّ أنْتِ تَبْكِينَ! فَلَمَّا قَامَ رَسُولُ اللهِ ﷺ ﷺ سَألْتُهَا: مَا قَالَ لَكِ رَسُولُ اللهِ ﷺ ﷺ؟ قَالَتْ: مَا كُنْتُ لأُفْشِي عَلَى رَسُولِ اللهِ ﷺ سِرَّهُ، فَلَمَّا تُوُفِّيَ رَسُولُ اللهِ ﷺ ﷺ قُلْتُ: عَزَمْتُ عَلَيْكِ بِمَا لِي عَلَيْكِ مِنَ الحَقِّ، لَمَا حَدَّثْتِنِي مَا قَالَ لَكِ رَسُولُ اللهِ ﷺ ﷺ؟ فَقَالَتْ: أمَّا الآنَ فَنَعَمْ، أمَّا حِيْنَ سَارَّنِي في المَرَّةِ الأُولَى فَأَخْبَرَنِي أَنَّ جِبْريلَ كَانَ يُعَارِضُهُ القُرآنَ فِي كُلِّ سَنَةٍ مَرَّةً أَوْ مَرَّتَيْنِ، وَأنَّهُ عَارَضَهُ الآنَ مَرَّتَيْنِ، وَإنِّي لا أُرَى الأجَلَ إِلاَّ قَدِ اقْتَرَبَ، فَاتَّقِي اللهَ وَاصْبِرِي، فَإِنَّهُ نِعْمَ السَّلَفُ أنَا لَكِ، فَبَكَيْتُ بُكَائِي الَّذِي رَأيْتِ، فَلَمَّا رَأى جَزَعِي سَارَّنِي الثَّانِيَةَ، فَقَالَ: « يَا فَاطِمَةُ، أمَا تَرْضَيْنَ أنْ تَكُونِي سَيِّدَةَ نِسَاءِ المُؤُمِنِينَ، أَوْ سَيَّدَةَ نِساءِ هذِهِ الأُمَّةِ ؟ » فَضَحِكتُ ضَحِكِي الَّذِي رَأيْتِ.متفقٌ عَلَيْهِ، وهذا لفظ مسلم
'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) এর স্ত্রীরা সকলেই তাঁর কাছে ছিল। ইত্যবসরে ফাতেমা (রাঃ) হেঁটে (আমাদের নিকট) এল। তাঁর চলন এবং আল্লাহর রাসূল (ﷺ) এর চলনের মধ্যে কোন পার্থক্য ছিল না। অতঃপর নবী (ﷺ) তাঁকে দেখে স্বাগত জানালেন এবং বললেন, ’আমার কন্যার শুভাগমন হোক।’ অতঃপর তিনি তাঁকে নিজের ডান অথবা বাম পাশে বসালেন। তারপর তিনি তাঁকে কানে কানে গোপনে কিছু বললেন। ফাতেমা (রাঃ) জোরেশোরে কাঁদতে আরম্ভ করলেন। সুতরাং তিনি তাঁর অস্থিরতা দেখে পুনর্বার তাঁকে কানে কানে কিছু বললেন। ফলে (এবার) সে হাসতে লাগল।(আয়েশা বলেন,) অতঃপর আমি ফাতেমাকে বললাম, ’রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর স্ত্রীদের মাঝে (তাদেরকে বাদ দিয়ে) তোমাকে গোপনে কিছু বলার জন্য বেছে নেওয়া সত্ত্বেও তুমি কাঁদছ?’ তারপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন উঠে গেলেন, তখন আমি তাঁকে বললাম, ’রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তোমাকে কী বললেন?’ সে বলল, ’আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর গোপন কথা প্রকাশ করব না।’অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মৃত্যুবরণ করলে আমি ফাতেমাকে বললাম, ’তোমার প্রতি আমার অধিকার রয়েছে। তাই আমি তোমাকে কসম দিয়ে বলছি যে, তুমি আমাকে বল, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তোমাকে কী বলেছিলেন?’ সে বলল, ’এখন বলতে কোন অসুবিধা নেই।’ আল্লাহর রাসূল (ﷺ) প্রথমবারে কানাকানি করার সময় আমাকে সংবাদ দিয়েছিলেন যে, ’’জিব্রাঈল (আঃ) প্রত্যেক বছর একবার (অথবা দু’বার) করে কোরআন শোনান। কিন্তু এখন তিনি দু’বার শুনালেন। সুতরাং আমি বুঝতে পারছি যে, আমার মৃত্যু সন্নিকটে। সুতরাং তুমি (হে ফাতেমা!) আল্লাহকে ভয় করো এবং ধৈর্য ধারণ করো। কেননা, আমি তোমার জন্য উত্তম অগ্রগামী।’’ সুতরাং আমি (এ কথা শুনে) কেঁদে ফেললাম, যা তুমি দেখলে।অতঃপর তিনি আমার অস্থিরতা দেখে দ্বিতীয়বার কানে কানে বললেন, ’’হে ফাতেমা! তুমি কি এটা পছন্দ কর না যে, মু’মিন নারীদের তুমি সর্দার হবে অথবা এই উম্মতের নারীদের সর্দার হবে?’’ সুতরাং (এমন সুসংবাদ শুনে) আমি হাসলাম, যা তুমি দেখলে।’ (বুখারী, শব্দাবলী মুসলিমের) [১]
সহীহুল বুখারী ৩৬২৪, ৩৬২৬, ৩৭১৬, ৪৪৩৪, ৬২৮৫, মুসলিম ২৪৫০, তিরমিযী ৩৮৭২, ইবনু মাজাহ ১৬২১, আহমাদ ২৩৯৬২, ২৫৫০১, ২৫৮৭৫
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৩/৬৯২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে ফাতেমা (রা.)-এর আচরণে গোপন কথা রক্ষার সুন্দর উদাহরণ পাওয়া যায়। নবীজি (صلى الله عليه وسلم) তাঁকে কাছে বসিয়ে কানে কানে কিছু বললেন। প্রথম কথায় তিনি কাঁদলেন, দ্বিতীয় কথায় হাসলেন। আয়েশা (রা.) জানতে চাইলে ফাতেমা (রা.) বললেন, তিনি রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর গোপন কথা প্রকাশ করবেন না। নবীজি (صلى الله عليه وسلم)-এর মৃত্যুর পর তিনি বিষয়টি বলেন। প্রথম কথায় নবীজি (صلى الله عليه وسلم) নিজের মৃত্যু নিকটবর্তী হওয়ার ইঙ্গিত দেন এবং তাকওয়া ও ধৈর্যের কথা বলেন। দ্বিতীয় কথায় ফাতেমা (রা.)-কে মুমিন নারীদের বা এই উম্মতের নারীদের সর্দার হওয়ার সুসংবাদ দেন। এই হাদিসে গোপনীয়তা, ধৈর্য, কন্যার প্রতি স্নেহ এবং সুসংবাদ—সবই আছে, তবে মূল শিক্ষা হলো আমানত রক্ষা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- গোপন কথা সময়ের আগে প্রকাশ করা উচিত নয়।
- দুঃখের সংবাদে ধৈর্য ধরার শিক্ষা আছে।
- সন্তানের প্রতি স্নেহ ও সম্মান সুন্দর আচরণের অংশ।
- আমানত রক্ষা চরিত্রের বড় গুণ।
