২/৮৬. অধ্যায়ঃ
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ১/৬৯৪ - মুনাফিকের তিন চিহ্ন
চুক্তি পূরণ, প্রতিশ্রুতি রক্ষা ও অঙ্গীকার পালন করার গুরুত্ব
আল্লাহ তা‘আলা বলেন,﴾ وَأَوۡفُواْ بِٱلۡعَهۡدِۖ إِنَّ ٱلۡعَهۡدَ كَانَ مَسُۡٔولٗا﴿ [الاسراء: ٣٤]অর্থাৎ “আর প্রতিশ্রুতি পালন করো; নিশ্চয়ই প্রতিশ্রুতি সম্পর্কে কৈফিয়ত তলব করা হবে।” (সূরা বানী ইস্রাঈল ৩৪ আয়াত)তিনি অন্যত্র বলেছেন,﴾ وَأَوۡفُواْ بِعَهۡدِ ٱللَّهِ إِذَا عَٰهَدتُّمۡ ﴿ [النحل: ٩١]অর্থাৎ “তোমরা যখন পরস্পর অঙ্গীকার কর তখন আল্লাহর অঙ্গীকার পূর্ণ কর।” (সূরা নাহল ৯১ আয়াত)তিনি অন্য জায়গায় বলেছেন,﴾ يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوٓاْ أَوۡفُواْ بِٱلۡعُقُودِۚ ﴿ [المائدة: ١]অর্থাৎ “হে ঈমানদারগণ! তোমরা চুক্তিসমূহ পূর্ণ কর।” (সূরা মাইদাহ ১ আয়াত)তিনি আরো বলেছেন,﴾ يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ لِمَ تَقُولُونَ مَا لَا تَفۡعَلُونَ ٢ كَبُرَ مَقۡتًا عِندَ ٱللَّهِ أَن تَقُولُواْ مَا لَا تَفۡعَلُونَ ٣ ﴿ [الصف: ٢، ٣]অর্থাৎ “হে বিশ্বাসীগণ! তোমরা যা কর না, তা তোমরা বল কেন? তোমরা যা কর না তোমাদের তা বলা আল্লাহর নিকট অতিশয় অসন্তোষজনক।” (সূরা স্বাফফ ২-৩ আয়াত)
মুনাফিকের তিন চিহ্ন: সত্য, ওয়াদা ও আমানতের শিক্ষা
রিয়াদুস সালেহীন : ১/৬৯৪
রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ১/৬৯৪
وَعَن أَبي هُرَيرَةَ رضي الله عنه: أنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ ﷺ، قَالَ: آيَةُ المُنَافِقِ ثَلاَثٌ: إِذَا حَدَّثَ كَذَبَ، وَإِذَا وَعَدَ أخْلَفَ، وَإِذَا اؤْتُمِنَ خَانَ.متفقٌ عَلَيْهِ. زَادَ في رِوَايةٍ لمسلم: وإنْ صَامَ وَصَلَّى وَزَعَمَ أنَّهُ مُسْلِمٌ
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, ’’মুনাফিকের চিহ্ন হল তিনটি(১) কথা বললে মিথ্যা বলে।(২) ওয়াদা করলে তা খেলাপ করে।এবং (৩) আমানত রাখা হলে তাতে খিয়ানত করে।’’ (বুখারী ও মুসলিম) [১] মুসলিমের এক বর্ণনায় আছে, ’’যদিও সে রোযা রাখে এবং নামায পড়ে ও ধারণা করে যে, সে মুসলিম।’’
সহীহুল বুখারী ৩৩, ২৬৮২, ২৭৪৯, ৩১৭৮, মুসলিম ৫৮, তিরমিযী ২৬৩২, নাসায়ী ৫০২০, আবূ দাউদ ৪৬৮৮, আহমাদ ৬৭২৯, ৬৮২৫, ৬৮৪০
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ১/৬৯৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) মুনাফিকের তিনটি চিহ্ন বলেছেন। প্রথমত, কথা বললে মিথ্যা বলে। দ্বিতীয়ত, ওয়াদা করলে তা ভঙ্গ করে। তৃতীয়ত, আমানত রাখা হলে খিয়ানত করে। মুসলিমের এক বর্ণনায় এসেছে, যদিও সে রোজা রাখে, নামাজ পড়ে এবং নিজেকে মুসলিম মনে করে। এই হাদিস আমাদের বাহ্যিক আমলের পাশাপাশি চরিত্রের দিকেও নজর দিতে শেখায়। সত্য বলা, ওয়াদা রাখা এবং আমানত রক্ষা—এসব ঈমানি চরিত্রের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কেউ নামাজ-রোজা করলেও যদি কথায় মিথ্যা, প্রতিশ্রুতিতে খেলাপ এবং আমানতে খিয়ানত থাকে, তাহলে তা ভয়ংকর চরিত্রগত সমস্যা। তাই মুনাফিকের চিহ্ন থেকে বাঁচতে প্রতিদিনের কথা, লেনদেন ও সম্পর্কের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা দরকার।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মিথ্যা বলা মুনাফিকের চিহ্নের একটি।
- ওয়াদা ভঙ্গ করা বড় চরিত্রগত সমস্যা।
- আমানতে খিয়ানত করা নিন্দনীয় কাজ।
- ইবাদতের সঙ্গে ভালো চরিত্রও জরুরি।
