২/৯১. অধ্যায়ঃ
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৩/৭০৬ - নামাজে কথা বলা ও কোমল শিক্ষা
ওয়ায-নসীহত এবং তাতে মধ্যমপন্থা অবলম্বন করার বিবরণ
আল্লাহ তা‘আলা বলেন,﴾ ٱدۡعُ إِلَىٰ سَبِيلِ رَبِّكَ بِٱلۡحِكۡمَةِ وَٱلۡمَوۡعِظَةِ ٱلۡحَسَنَةِۖ ﴿ [النحل: ١٢٥]অর্থাৎ “তুমি মানুষকে তোমার প্রতিপালকের পথে আহবান কর হিকমত ও সদুপদেশ দ্বারা।” (সূরা নাহল ১২৫ আয়াত)
নামাজে কথা বলা নিষেধ ও রাসূল صلى الله عليه وسلم-এর কোমল শিক্ষার আদব
রিয়াদুস সালেহীন : ৩/৭০৬
রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ৩/৭০৬
وَعَن مُعاوِيَةَ بنِ الحَكَمِ السُّلَمِيِّ رضي الله عنه، قَالَ: بَيْنَا أنَا أُصَلّي مَعَ رَسُولِ اللهِ ﷺ، إذْ عَطَسَ رَجُلٌ مِنَ القَوْمِ، فَقُلْتُ: يَرْحَمُكَ اللهُ، فَرَمَانِي القَوْمُ بِأبْصَارِهِمْ! فَقُلْتُ: وَاثُكْلَ أُمِّيَاهُ، مَا شَأنُكُمْ تَنْظُرُونَ إلَيَّ ؟! فَجَعَلُوا يَضْرِبُونَ بِأَيدِيهِم عَلَى أَفْخَاذِهِمْ! فَلَمَّا رَأيْتُهُمْ يُصَمِّتُونَنِي لَكِنّي سَكَتُّ، فَلَمَّا صَلّى رَسُولُ اللهِ ﷺ ﷺ، فَبِأبِي هُوَ وَأُمِّي، مَا رَأيْتُ مُعَلِّماً قَبْلَهُ وَلاَ بَعْدَهُ أحْسَنَ تَعْلِيماً مِنْهُ، فَوَاللهِ مَا كَهَرَني، وَلاَ ضَرَبَنِي، وَلاَ شَتَمَنِي.قَالَ: « إنَّ هذِهِ الصَّلاَةَ لاَ يَصْلُحُ فِيهَا شَيْءٌ مِنْ كَلامِ النَّاسِ، إنَّمَا هِيَ التَّسْبِيحُ وَالتَّكْبِيرُ، وَقِراءةُ القُرْآنِ»، أَوْ كَمَا قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ ﷺ . قلتُ: يَا رَسُولَ اللهِ ﷺ، إنّي حَدِيثُ عَهْدٍ بِجَاهِلِيَّةٍ، وَقَدْ جَاءَ اللهُ بِالإسْلاَمِ، وَإنَّ مِنّا رِجَالاً يَأتُونَ الْكُهّانَ؟ قَالَ: فَلاَ تَأتِهِمْ. قُلْتُ: وَمِنّا رِجَالٌ يَتَطَيَّرُونَ ؟ قَالَ: ذَاكَ شَيْء يَجِدُونَهُ في صُدُورِهِمْ فَلاَ يَصُدَّنَّهُمْ . رواه مسلم
মুআবিয়া ইবনে হাকাম সুলামী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, আমি (একবার) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সঙ্গে নামাজ পড়ছিলাম। ইত্যবসরে হঠাৎ একজন মুক্তাদীর হাঁচি হলে আমি (তার জবাবে) ’য়্যারহামুকাল্লাহ’ (আল্লাহ তোমাকে রহম করুন) বললাম। তখন অন্য মুক্তাদীরা আমার দিকে দৃষ্টি নিক্ষেপ করতে লাগল। আমি বললাম, ’হায়! হায়! আমার মা আমাকে হারিয়ে ফেলুক! তোমাদের কী হয়েছে যে, তোমরা আমার দিকে তাকিয়ে দেখছো?’ (এ কথা শুনে) তারা তাদের নিজ নিজ হাত দিয়ে নিজ নিজ উরুতে আঘাত করতে লাগল। তাদেরকে যখন দেখলাম যে, তারা আমাকে চুপ করাতে চাচ্ছে (তখন তো আমার অত্যন্ত রাগ হয়েছিল); কিন্তু আমি চুপ হয়ে গেলাম।অতঃপর আল্লাহর রাসূল (ﷺ) যখন নামাজ সমাপ্ত করলেন—আমার পিতা-মাতা তাঁর জন্য কুরবান হোক, আমি তাঁর চেয়ে উত্তম শিক্ষাদাতা না আগে দেখেছি আর না এর পরে। আল্লাহর শপথ! তিনি না আমাকে তিরস্কার করলেন, আর না আমাকে মারধর করলেন, আর না আমাকে গালি দিলেন—তখন তিনি বললেন, ’’এই নামাজে লোকদের কোন কথা বলা বৈধ নয়। (এতে যা বলতে হয়,) তা হল তাসবীহ, তাকবির ও কোরআন পাঠ।’’ অথবা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এই মত কোন কথা বললেন।''আমি বললাম, ’ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমি জাহেলিয়াতের লাগোয়া সময়ের (নও মুসলিম)। আল্লাহ ইসলাম আনয়ন করেছেন। আমাদের মধ্যে কিছু লোক গণকের কাছে (অদৃষ্ট ও ভবিষ্যৎ জানতে) যায়।’ তিনি বললেন, ’’তুমি তাদের কাছে যাবে না।’’ আমি বললাম, ’আমাদের মধ্যে কিছু লোক অশুভ লক্ষণ গ্রহণ করে থাকে।’ তিনি বললেন, ’’এটা এমন একটি অনুভূতি যা লোকে তাদের অন্তরে উপলব্ধি করে থাকে। সুতরাং এই অনুভূতি তাদেরকে যেন (বাঞ্ছিত কর্ম সম্পাদনে) বাধা না দেয়।’’ (মুসলিম)[১]
মুসলিম ৫৩৭, নাসায়ী ১২১৮, আবূ দাউদ ৯৩০, ৯৩১, ৩২৮২, ৩৯০৯, আহমাদ ২৩২৫০, ২৩২৫৩, ২৩২৫৬, দারেমী ১৫০২
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৩/৭০৬-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে নামাজের আদব এবং রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর কোমল শিক্ষাদানের পদ্ধতি একসাথে এসেছে। মু‘আবিয়াহ ইবনে হাকাম রা. নামাজের মধ্যে হাঁচির জবাবে কথা বলে ফেলেছিলেন। অন্যরা তাকে চুপ করাতে চাইলে তিনি প্রথমে বুঝতে পারেননি। নামাজ শেষে রাসূল صلى الله عليه وسلم তাকে মারেননি, গালি দেননি, কঠোর তিরস্কারও করেননি; বরং বুঝিয়ে বললেন, নামাজে মানুষের সাধারণ কথা বলা ঠিক নয়। এতে তাসবীহ, তাকবীর ও কুরআন পাঠ থাকে। এরপর তিনি গণকের কাছে না যেতে বলেন এবং অশুভ লক্ষণের অনুভূতি যেন কাজ থেকে বাধা না দেয়, সেটিও শেখান। এই হাদিসে নামাজে কথা বলা, কোমল শিক্ষা, গণক থেকে দূরে থাকা এবং কুসংস্কারের প্রভাব না নেওয়ার স্পষ্ট শিক্ষা আছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নামাজে মানুষের সাধারণ কথা বলা বৈধ নয়।
- ভুলকারীকেও কোমল ভাষায় শিক্ষা দেওয়া নববী আদব।
- গণকের কাছে যাওয়া থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।
- অশুভ লক্ষণের অনুভূতি মানুষকে ভালো কাজ থেকে থামিয়ে না দিক।
