২/৯৬. অধ্যায়ঃ

সফরকারীকে উপদেশ দেওয়া, বিদায় দেওয়ার দো‘আ পড়া ও তার কাছে নেক দো‘আর নিবেদন ইত্যাদি

আল্লাহ তা’আলা বলেন,﴿ وَوَصَّىٰ بِهَآ إِبۡرَٰهِ‍ۧمُ بَنِيهِ وَيَعۡقُوبُ يَٰبَنِيَّ إِنَّ ٱللَّهَ ٱصۡطَفَىٰ لَكُمُ ٱلدِّينَ فَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنتُم مُّسۡلِمُونَ ١٣٢ أَمۡ كُنتُمۡ شُهَدَآءَ إِذۡ حَضَرَ يَعۡقُوبَ ٱلۡمَوۡتُ إِذۡ قَالَ لِبَنِيهِ مَا تَعۡبُدُونَ مِنۢ بَعۡدِيۖ قَالُواْ نَعۡبُدُ إِلَٰهَكَ وَإِلَٰهَ ءَابَآئِكَ إِبۡرَٰهِ‍ۧمَ وَإِسۡمَٰعِيلَ وَإِسۡحَٰقَ إِلَٰهٗا وَٰحِدٗا وَنَحۡنُ لَهُۥ مُسۡلِمُونَ ١٣٣ ﴾ [البقرة: ١٣٢، ١٣٣]অর্থাৎ “ইব্রাহীম ও ইয়াকূব এ সম্বন্ধে তাদের পুত্রগণকে নির্দেশ দিয়েছিল, হে পুত্রগণ! আল্লাহ তোমাদের জন্য দ্বীনকে (ইসলাম ধর্মকে) মনোনীত করেছেন। সুতরাং আত্মসমর্পণকারী না হয়ে তোমরা অবশ্যই মৃত্যুবরণ করো না। ইয়াকুবের নিকট যখন মৃত্যু এসেছিল তোমরা কি তখন উপস্থিত ছিলে? সে যখন নিজ পুত্রগণকে জিজ্ঞাসা করেছিল, আমার (মৃত্যুর) পরে তোমরা কিসের উপাসনা করবে। তারা তখন বলেছিল, আমরা আপনার উপাস্য ও আপনার পিতৃপুরুষ ইব্রাহীম, ইসমাঈল ও ইসহাকের উপাস্য, সেই অদ্বিতীয় উপাস্যের উপাসনা করব। আর আমরা তাঁর কাছে আত্মসমর্পণকারী।” (সূরা বাক্বারাহ ১৩২-১৩৩ আয়াত)এ বিষয়ে অনেক হাদীস আছে তন্মধ্যেঃ-حديث زيد بن أرقم رضي الله عنه -الذي سبق في باب إكرام أهل بيت رسول الله صلى الله عليه وسلم -قال‏:‏ قام رسول الله صلى الله عليه وسلم فينا خطيباً، فحمد الله، وأثنى عليه، ووعظ وذكر، ثم قال‏:‏ “أما بعد”ألا أيها الناس إنما أنا بشر يوشك أن يأتي رسول الله ربي فأجيب، وأنا تارك فيكم ثقلين ‏:‏‏ "‏ أولهما‏:‏ كتاب الله، فيه الهدى والنور، فخذو بكتاب الله، واستمسكوا به” فحث على كتاب الله، ورغب فيه، ثم قال‏:‏ “وأهل بيتي، أذكركم الله في أهل بيتي‏"‏ ‏(‏‏(‏رواه مسلم‏)‏‏)‏ وقد سبق بطوله‏.‏যায়েদ ইবনে আরক্বামের হাদীস যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পরিবার পরিজনের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করার পরিচ্ছেদে অতীত হয়ে গেছে, তাতে যায়দ বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (একদা) আমাদের মাঝে উঠে ভাষণ দান করলেন; তিনি আল্লাহর প্রশংসা করলেন তাঁর গুণ বর্ণনা করলেন এবং উপদেশ ও নসীহত করলেন ও বললেন, ’’অতঃপর হে জনমন্ডলী! শোন! আমি তোমাদের মতই একজন মানুষ। অদূর ভবিষ্যতে হয়তো আমার প্রতিপালকের দূত আমার নিকট পৌঁছে যাবে। আর আমি তাঁর ডাকে সাড়া দেব। এমতাবস্থায় আমি তোমাদের মধ্যে দু’টি ভারী (সম্মানিত) বস্তু রেখে যাচ্ছি, প্রথমটি আল্লাহর কিতাব; যাতে হিদায়াত ও আলো নিহিত আছে। অতএব তোমরা আল্লাহর কিতাবকে সুদৃঢ়ভাবে ধারণ করো।’’অতঃপর তিনি আল্লাহর কিতাব (মান্য করার) ব্যাপারে উৎসাহিত করলেন এবং তার প্রতি অনুপ্রাণিত করলেন। তারপর তিনি বললেন, ’’দ্বিতীয় বস্তুটি হচ্ছে আমার পরিবার-পরিজন। আমি তোমাদেরকে আমার ’আহলে বায়ত’ (পরিবার)এর ব্যাপারে আল্লাহ স্মরণ করিয়ে দিতে চাই। (যেন তাদের প্রতি কোন অন্যায় আচরণ করো না।)’’ (মুসলিম ২৪০৮, হাদীসটি পূর্ণরূপে পূর্বে গত হয়েছে।)

রিয়াদুস সলেহিনহাদিস নম্বর ১/৭১৭

وَعَن أَبي سُلَيمَانَ مَالِكِ بنِ الحُوَيْرِثِ رضي الله عنه، قَالَ: أَتَيْنَا رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم، وَنَحْنُ شَبَبَةٌ مُتَقَارِبُونَ، فَأقَمْنَا عِنْدَهُ عِشْرِينَ لَيْلَةً، وَكَانَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم رَحِيماً رَفِيقاً، فَظَنَّ أنَّا قَدِ اشْتَقْنَا أهْلَنَا، فَسَألَنَا عَمَّنْ تَرَكْنَا مِنْ أهْلِنَا، فَأخْبَرْنَاهُ، فَقَالَ: « ارْجِعُوا إِلَى أهْلِيكُمْ، فَأَقِيمُوا فِيهمْ، وَعَلِّمُوهُم وَمُرُوهُمْ، وَصَلُّوا صَلاَةَ كَذَا فِي حِيْنِ كَذَا، وَصَلُّوا كَذَا فِي حِيْنِ كَذَا، فَإذَا حَضَرَتِ الصَّلاَةُ فَلْيُؤَذِّنْ لَكُمْ أحَدُكُمْ وَلْيَؤُمَّكُمْ أكْبَرُكُمْ ». متفقٌ عَلَيْهِ .زاد البخاري في رواية لَهُ: وَصَلُّوا كَمَا رَأيْتُمُونِي أُصَلِّي

আবূ সুলায়মান মালেক ইবনে হুওয়াইরিস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমরা প্রায় সমবয়স্ক কতিপয় নব যুবক রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট এসে বিশ দিন অবস্থান করলাম। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) অত্যন্ত দয়ালু ও স্নেহপরবশ ছিলেন। তাই তিনি ধারণা করলেন যে, আমরা আমাদের পরিবারের কাছে ফিরে যাবার জন্য উদ্গ্রীব হয়ে উঠেছি। সেহেতু তিনি আমাদেরকে প্রশ্ন করলেন যে, আমরা আমাদের পরিবারে কাকে ছেড়ে এসেছি?সুতরাং আমরা তাঁকে জানালে তিনি বললেন, ’’তোমরা তোমাদের পরিবারের কাছে ফিরে যাও এবং তাদের মাঝেই বসবাস কর। তাদেরকে শিক্ষা দান কর এবং তাদেরকে (ভাল কাজের) আদেশ দাও। অমুক নামায অমুক সময়ে পড়। অমুক নামায অমুক সময়ে পড়। সুতরাং যখন নামাযের সময় হবে, তখন তোমাদের মধ্যে কেউ একজন আযান দেবে এবং তোমাদের মধ্যে যে বড় সে ইমামতি করবে।’’ (বুখারী ও মুসলিম)[১]বুখারীর বর্ণনায় এরূপ বাড়তিভাবে আছে যে, ’’আমাকে তোমরা যেভাবে নামায পড়তে দেখেছ, ঠিক সেইভাবেই নামায পড়।’’

সহীহুল বুখারী ৬২৮, ৬৩০, ৬৩১, ৬৫৮, ৬৭৭, ৬৮৫, ৮০২, ৮১৯, ৮২৩, ৮২৪, ২৮৪৮, ৬০০৮, ৭২৪৬, মুসলিম ৬৭৪, তিরমিযী ২০৫, ২৮৭, নাসায়ী ৬৩৪, ৬৩৫, ৬৬৯, ৭৮১, ১০৮৫, ১১৫১, ১১৫২, ১১৫৩, আবূ দাউদ ৫৮৯, ৮৪২, ৮৪৩, ৮৪৪, ইবনু মাজাহ ৯৭৯, আহমাদ ১৫১৭১, ২০০০৬, দারেমী ১২৫৩

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন