২/৯৩. অধ্যায়ঃ
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ১/৭০৯ - নামাজে যেতে দৌড় নয়, স্থিরতা
নামায, ইলম শিক্ষা তথা অন্যান্য ইবাদতে ধীর-স্থিরতা ও গাম্ভীর্যের সাথে গিয়ে যোগদান করা উত্তম
আল্লাহ তা‘আলা বলেন,﴾ ذَٰلِكَۖ وَمَن يُعَظِّمۡ شَعَٰٓئِرَ ٱللَّهِ فَإِنَّهَا مِن تَقۡوَى ٱلۡقُلُوبِ ٣٢ ﴿ [الحج: ٣٢]অর্থাৎ “কেউ আল্লাহর (দ্বীনের) প্রতীকসমূহের সম্মান করলে এটা তো তার হৃদয়ের তাক্বওয়া (সংযমশীলতা)রই বহিঃপ্রকাশ।” (সূরা হজ্জ্ব ৩২ আয়াত)
নামাজে যেতে স্থিরতা: দৌড়ে নয়, শান্তভাবে মসজিদে আসা
রিয়াদুস সালেহীন : ১/৭০৯
রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ১/৭০৯
وَعَن أَبي هُرَيرَةَ رضي الله عنه، قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ ﷺ ﷺ، يَقُولُ: إِذَا أُقِيمَتِ الصَّلاَةُ، فَلاَ تَأتُوهَا وَأنْتُمْ تَسْعَونَ، وَأتُوهَا وَأنْتُمْ تَمْشُونَ، وَعَلَيْكُمُ السَّكِينَةُ، فَمَا أدْرَكْتُم فَصَلُّوا، وَمَا فَاتكُمْ فَأَتِمُّوا. متفقٌ عَلَيْهِزَادَ مُسلِمٌ في رِوَايةٍ لَهُ: فَإنَّ أحَدَكُمْ إِذَا كَانَ يَعْمِدُ إِلَى الصَّلاَةِ فَهُوَ في صَلاَةٍ
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি যে, ’’যখন নামাযের জন্য ইক্বামত (তাকবির) দেওয়া হয় তখন তোমরা তাতে দৌড়ে আসবে না, বরং তোমরা গাম্ভীর্য-সহকারে স্বাভাবিকরূপে হেঁটে আসবে। তারপর যতটা নামায (ইমামের সাথে) পাবে, পড়ে নেবে। আর যতটা ছুটে যাবে, ততটা (নিজে) পূরণ করে নেবে।’’ (বুখারী ও মুসলিম) [১] মুসলিমের এক বর্ণনায় এ কথা বেশি আছে, ’’কারণ তোমাদের কেউ যখন নামাযের উদ্দেশ্যে যায়, সে আসলে নামাযেই থাকে।’’
সহীহুল বুখারী ৬৩৬, ৯০৮, মুসলিম ৬০২, তিরমিযী ৩২৭, নাসায়ী ৮৬১, আবূ দাউদ ৫৭২, ৫৭৩, ইবনু মাজাহ ৭৭৫, আহমাদ ৭১৮৯, ৭২০৯, ৭৬০৬, ৭৭৩৫, ২৭৪৪৫, ৮৭৪০, ১০৫১২, ১৩১৪৬, মুওয়াত্তা মালিক ১৫২, দারেমী ১২৮২
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ১/৭০৯-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে নামাজে আসার আদব শেখানো হয়েছে। রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم বলেছেন, নামাজের ইকামত হলে দৌড়ে আসবে না; বরং গাম্ভীর্য ও স্থিরতার সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে হেঁটে আসবে। এরপর ইমামের সঙ্গে যতটা নামাজ পাওয়া যায়, তা পড়তে হবে এবং যা ছুটে যায়, পরে পূরণ করতে হবে। মুসলিমের এক বর্ণনায় এসেছে, কেউ যখন নামাজের উদ্দেশ্যে যায়, সে যেন নামাজেই থাকে। তাই নামাজের পথে অস্থিরতা নয়; শান্ত মন, স্থির চলাফেরা এবং আদব বজায় রাখা জরুরি। এই হাদিস থেকে বোঝা যায়, নামাজ শুধু মসজিদে দাঁড়ানোর পরই শুরু হয় না; নামাজের উদ্দেশ্যে যাওয়ার সময়ের আচরণও গুরুত্বপূর্ণ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ইকামত হয়ে গেলেও মসজিদে দৌড়ে যাওয়া ঠিক নয়।
- নামাজের জন্য শান্তভাবে ও গাম্ভীর্যের সঙ্গে যেতে হবে।
- ইমামের সঙ্গে যতটুকু পাওয়া যায় পড়তে হবে, ছুটে গেলে পূরণ করতে হবে।
