৩/১০০. অধ্যায়ঃ
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৬/৭৩৭ - বিসমিল্লাহ ও খাবারের বরকত
শুরুতে বিসমিল্লাহ এবং শেষে আল-হামদু লিল্লাহ বলা
খাবারের বরকত: বিসমিল্লাহ বলার সহজ শিক্ষা
রিয়াদুস সালেহীন : ৬/৭৩৭
রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ৬/৭৩৭
وَعَن عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنهَا، قَالَتْ: كَانَ رَسُولُ اللهِ ﷺ يَأكُلُ طَعَاماً فِي سِتَّةٍ مِنْ أصْحَابِهِ، فَجَاءَ أعْرَابِيٌّ، فَأكَلَهُ بلُقْمَتَيْنِ. فَقَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ : « أَمَا إنَّهُ لَوْ سَمَّى لَكَفَاكُمْ ». رواه الترمذي، وقال: حديث حسن صحيح
'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, ছয়জন সাহাবীর সাথে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) খাদ্য আহার করছিলেন। এমন সময় এক বেদুঈন হাজির হল এবং সে দু’গ্রাসেই সমস্ত খাদ্য খেয়ে ফেলল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) (এ সব দেখে) বললেন, ’’শোনো! যদি এ ব্যক্তি (শুরুতে) ’বিসমিল্লাহ’ বলত, তাহলে এই খাবারই তোমাদের সবার জন্য যথেষ্ট হত।’’ (তিরমিযী হাসান সহীহ)[১]
আবূ দাউদ ১৮৫৮, ৩৭৬৭, ইবনু মাজাহ ৩২৬৪, আহমাদ ২৪৫৮২, ২৫২০৫, ২৫৫৫৮, ২৫৭৬০, দারেমী ২০২০
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৬/৭৩৭-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আয়িশা (রা.) একটি ঘটনার কথা বলেছেন। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) ছয়জন সাহাবীর সঙ্গে খাবার খাচ্ছিলেন। তখন এক বেদুঈন এসে দুগ্রাসেই সব খাবার খেয়ে ফেলল। নবীজি বললেন, যদি সে বিসমিল্লাহ বলত, তাহলে এই খাবারই সবার জন্য যথেষ্ট হতো। এখানে খাবারের বরকত ও বিসমিল্লাহর গুরুত্ব সুন্দরভাবে বোঝানো হয়েছে। খাবার অল্প বা বেশি—শুরুতে আল্লাহর নাম নেওয়া উচিত। হাদিসটি আমাদের শেখায়, খাবারের আদব না মানলে খাবারের স্বাভাবিক উপকার ও ভাগাভাগির সৌন্দর্য নষ্ট হতে পারে। তবে এখানে নির্দিষ্ট ঘটনা বর্ণিত হয়েছে; তাই শিক্ষা হলো খাবারের শুরুতে বিসমিল্লাহ বলা এবং একসঙ্গে খাবারের সময় অন্যদের কথাও খেয়াল রাখা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- খাবারের শুরুতে বিসমিল্লাহ বলা খাবারের আদব।
- একসঙ্গে খাবার খেলে অন্যদের অংশের কথাও খেয়াল রাখা উচিত।
- নবীজি খাবারের বরকতের সঙ্গে আল্লাহর নাম স্মরণের সম্পর্ক দেখিয়েছেন।
