যৌতুক ও মোহরানা

মোট হাদিস ৭২

যৌতুক ও মোহরানা সংক্রান্ত হাদিস এবং ইসলামী বিধান

ইসলামে বিয়ে ব্যবস্থাকে সহজ ও অর্থবহ করতে মোহরানা নির্ধারণ করা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিধান। এখানে উল্লেখিত হাদিসগুলো থেকে পরিষ্কার জানা যায় যে, মোহরানা কেবল বিপুল অর্থ বা দামি সম্পদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি যেকোনো মূল্যবান বা কল্যাণকর বিষয়ের মাধ্যমেও আদায় করা সম্ভব। একটি হাদিসে দেখা যায়, আল্লাহর রাসূল (সা.) হযরত সাফিয়া (রা.)-কে দাসত্ব থেকে মুক্তি দেন এবং এই মুক্তিকেই তাঁর বিয়ের মোহরানা হিসেবে নির্ধারণ করেন। অন্যদিকে, অপর হাদিসগুলো থেকে জানা যায়, এক সাহাবির বিয়ের জন্য কোনো অর্থ বা এমনকি একটি লোহার আংটিও ছিল না। তখন নবীজি (সা.) তাঁর মুখস্থ থাকা পবিত্র কুরআনের সূরাগুলো কনেকে শিক্ষা দেওয়ার বিনিময়ে তাদের বিয়ে সম্পন্ন করেন। ইসলামিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এ থেকে প্রমাণিত হয় যে ইসলামে মোহরানাকে বাধ্যতামূলক করা হলেও তা নির্ধারণের ক্ষেত্রে পাত্রের সামর্থ্য বিবেচনা করা হয়েছে এবং বিষয়টিকে অত্যন্ত সহজ করা হয়েছে, যাতে সমাজে কোনো ধরনের জটিলতা বা অনৈতিক যৌতুকের প্রথা স্থান না পায়।

حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عَوْنٍ، أَخْبَرَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ قَتَادَةَ، وَعَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ صُهَيْبٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ أَعْتَقَ صَفِيَّةَ وَجَعَلَ عِتْقَهَا صَدَاقَهَا.

আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

নবী (ﷺ) সাফিয়্যাহ (রাঃ)-কে মুক্ত করেন এবং এ মুক্তিকে তাঁর মোহর হিসেবে গণ্য করেন।

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدَةَ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ حَدَّثَنَا ثَابِتٌ وَعَبْدُ الْعَزِيزِ عَنْ أَنَسٍ قَالَ صَارَتْ صَفِيَّةُ لِدِحْيَةَ الْكَلْبِيِّ ثُمَّ صَارَتْ لِرَسُولِ اللهِ ﷺ بَعْدُ فَتَزَوَّجَهَا وَجَعَلَ عِتْقَهَا صَدَاقَهَا قَالَ حَمَّادٌ فَقَالَ عَبْدُ الْعَزِيزِ لِثَابِتٍ يَا أَبَا مُحَمَّدٍ أَنْتَ سَأَلْتَ أَنَسًا مَا أَمْهَرَهَا قَالَ أَمْهَرَهَا نَفْسَهَا

আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

সাফিয়্যা (রাঃ) প্রথমে দিহ্‌য়া আল-কালবী (রাঃ) -এর ভাগে পড়েছিলেন। পরে তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -এর অধীনে আসেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁকে বিবাহ করেন এবং তাঁকে দাসত্বমুক্ত করাকে তাঁর মাহর গণ্য করেন। অধস্তন রাবী হাম্মাদ (রহঃ) বলেন, আবদুল আযীয (রহঃ) ছাবিত (রহঃ)-কে বললেন, হে আবূ মুহাম্মাদ! আপনি কি আনাস (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করেছিলেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সাফিয়্যা (রাঃ)-কে কী মাহর দিয়েছিলেন? আনাস (রাঃ) বলেন, তাঁর দাসত্ব মুক্তিই ছিল তাঁর মাহর।

[১৯৫৭] সহীহুল বুখারী ৩৭১, ৯৪৭, ২২২৮, ২২৩৫, ২৮৯৩, ৪২০০, ৪২০১, ৪২১১, ৪২১২, ৪২১৩, ৫০৮৫, ৫০৮৬, ৫১৫৯, ৫১৬৯, ৬৩৬৩, ৫৩৮৭ মুসলিম ১৩৬৫, তিরমিযী ১১১৫, নাসায়ী ৩৩৪২, ৩৩৪৩, ৩৩৮০, ৩৩৮১, ৩৩৮২, আবূ দাউদ ২০৫৪, ২৯৯৫, ২৯৯৬, ২৯৯৮, আহমাদ ১১৫৪১, ১১৫৮১, ১২২০৫, ১২২৭৬, ১২৩৩২, ১২৪৫৫, ১২৬৮৬, ১৩০৯৪, ১৩১৩৩, ১৩১৬৩, ১৩৫৭০, ১৩৬৮৯, দারেমী ২০৪২, ২২৪৩, ইরওয়াহ্ ১৮২৫, সহীহ, আবী দাউদ ১৭৯৩, তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।

أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مُوسَى، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ: " تَزَوَّجَ أَبُو طَلْحَةَ أُمَّ سُلَيْمٍ، فَكَانَ صِدَاقُ مَا بَيْنَهُمَا الْإِسْلَامَ، أَسْلَمَتْ أُمُّ سُلَيْمٍ قَبْلَ أَبِي طَلْحَةَ، فَخَطَبَهَا، فَقَالَتْ: إِنِّي قَدْ أَسْلَمْتُ، فَإِنْ أَسْلَمْتَ نَكَحْتُكَ، فَأَسْلَمَ فَكَانَ صِدَاقَ مَا بَيْنَهُمَا "

আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

আবূ ত্বলহাহ্ (রাঃ) উম্মু সুলায়ম (রাঃ)-কে বিবাহ করলেন। তাঁদের মাঝে মুহর ছিল ইসলাম। উম্মু সুলায়ম (রাঃ), আবূ ত্বলহাহ্ (রাঃ)-এর আগে ইসলাম কবুল করেন। আবূ ত্বলহাহ্ (রাঃ) তাঁকে বিবাহের প্রস্তাব দিলে তিনি বললেন: আমি ইসলাম গ্রহণ করেছি। যদি তুমি ইসলাম গ্রহণ কর, তাহলে আমি তোমাকে বিবাহ করবো। অতঃপর সে ইসলাম গ্রহণ করলে এটাই ছিল তাঁদের মুহর।

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ النَّضْرِ بْنِ مُسَاوِرٍ، قَالَ: أَنْبَأَنَا جَعْفَرُ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ: " خَطَبَ أَبُو طَلْحَةَ أُمَّ سُلَيْمٍ، فَقَالَتْ: وَاللَّهِ مَا مِثْلُكَ يَا أَبَا طَلْحَةَ يُرَدُّ، وَلَكِنَّكَ رَجُلٌ كَافِرٌ، وَأَنَا امْرَأَةٌ مُسْلِمَةٌ، وَلَا يَحِلُّ لِي أَنْ أَتَزَوَّجَكَ، فَإِنْ تُسْلِمْ فَذَاكَ مَهْرِي وَمَا أَسْأَلُكَ غَيْرَهُ، فَأَسْلَمَ فَكَانَ ذَلِكَ مَهْرَهَا " قَالَ ثَابِتٌ: «فَمَا سَمِعْتُ بِامْرَأَةٍ قَطُّ كَانَتْ أَكْرَمَ مَهْرًا مِنْ أُمِّ سُلَيْمٍ الْإِسْلَامَ، فَدَخَلَ بِهَا فَوَلَدَتْ لَهُ»

আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

আবূ ত্বলহাহ্ (রাঃ) উম্মু সুলায়ম (রাঃ)-কে বিবাহের পয়গাম দিলে তিনি বললেন: হে আবূ ত্বলহাহ্। আল্লাহর কসম! তোমার মতো ব্যক্তিকে ফিরিয়ে দেয়া যায় না। কিন্তু তুমি একজন কাফির, আর আমি মুসলিম নারী। তোমাকে বিবাহ করা আমার জন্য বৈধ নয়। যদি তুমি ইসলাম গ্রহণ কর, তাহলে তা-ই আমার মুহর হবে। আর তোমার কাছে এর অতিরিক্ত কিছুই চাই না। তখন তিনি ইসলাম গ্রহণ করলে তা-ই তাঁর মুহর নির্ধারিত হলো। সাবিত (রহঃ) বলেন: আমি কখনো এমন কোনো মহিলার কথা শুনিনি, যে মুহরের ক্ষেত্রে উম্মু সুলায়ম (রাঃ) হতে উত্তম। পরে তিনি তাঁর সাথে সহবস্থানে করলে তাঁর সন্তান হয়।

أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ قَتَادَةَ، وَعَبْدُ الْعَزِيزِ يَعْنِي ابْنَ صُهَيْبٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، ح وَأَنْبَأَنَا قُتَيْبَةُ، قَالَ: حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ ثَابِتٍ، وَشُعَيْبٌ، عَنْ أَنَسٍ «أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أَعْتَقَ صَفِيَّةَ وَجَعَلَهُ صَدَاقَهَا»

আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সফিয়্যাহ্ (রাঃ)-কে মুক্ত করে দিলেন, আর এটাকেই তিনি তাঁর মুহর নির্ধারণ করলেন।

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ آدَمَ، قَالَ: حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، ح وَأَنْبَأَنَا عَمْرُو بْنُ مَنْصُورٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ يُونُسَ، عَنْ ابْنِ الْحَبْحَابِ، عَنْ أَنَسٍ، «أَعْتَقَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صَفِيَّةَ، وَجَعَلَ عِتْقَهَا مَهْرَهَا» وَاللَّفْظُ لِمُحَمَّدٍ

আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সফিয়্যাহ্ (রাঃ)-কে মুক্ত করে দিলেন। এই মুক্ত করাকে তাঁর মুহর নির্ধারণ করলেন- এ শব্দের ভাষ্য মুহাম্মাদ (রহঃ)-এর।

حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ الطَّالْقَانِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدَةُ، حَدَّثَنَا سَعِيدٌ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ لَمَّا تَزَوَّجَ عَلِيٌّ فَاطِمَةَ قَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ «أَعْطِهَا شَيْئًا». قَالَ مَا عِنْدِي شَىْءٌ . قَالَ «أَيْنَ دِرْعُكَ الْحُطَمِيَّةُ " .

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

যখন ‘আলী (রাঃ), ফাতিমা (রাঃ)-কে বিয়ে করেন, তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁকে বললেনঃ তাঁকে কিছু প্রদান করো। তিনি বললেন, আমার নিকট কিছুই নেই। তিনি (ﷺ) বললেনঃ তোমার হুতামীয়া বর্মটি কোথায়? (সেটাই দাও)।

حَدَّثَنَا كَثِيرٌ، - يَعْنِي ابْنَ عُبَيْدٍ - حَدَّثَنَا أَبُو حَيْوَةَ، عَنْ شُعَيْبٍ، عَنْ غَيْلاَنَ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، مِثْلَهُ.

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত।

[১] সানাদ দুর্বল। এর পূর্বেরটি দেখুন।

حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، حَدَّثَنَا يُونُسُ بْنُ بُكَيْرٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، قَالَ حَدَّثَنِي دَاوُدُ بْنُ الْحُصَيْنِ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ رَدَّ النَّبِيُّ ﷺ ابْنَتَهُ زَيْنَبَ عَلَى أَبِي الْعَاصِي بْنِ الرَّبِيعِ بَعْدَ سِتِّ سِنِينَ بِالنِّكَاحِ الأَوَّلِ وَلَمْ يُحْدِثْ نِكَاحًا .قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ لَيْسَ بِإِسْنَادِهِ بَأْسٌ وَلَكِنْ لاَ نَعْرِفُ وَجْهَ هَذَا الْحَدِيثِ وَلَعَلَّهُ قَدْ جَاءَ هَذَا مِنْ قِبَلِ دَاوُدَ بْنِ حُصَيْنٍ مِنْ قِبَلِ حِفْظِهِ .

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর মেয়ে যাইনবকে প্রথম বিয়ে বহাল রেখেই আবুল আস ইবনুর রাবীকে ছয় বছর পর ফিরিয়ে দিয়েছেন, নতুন করে বিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করেননি।

আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসের সনদে কোন সমস্যা নেই। কিন্তু এর কারণ প্রসঙ্গে আমরা কিছু জানি না। সম্ভবতঃ এই বিষয়টি দাউদ ইবনু হুসাইনের স্মরণশক্তির দুর্বলতার জন্যেই উৎপত্তি হয়েছে।

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْمُبَارَكِ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ، قَالَ: حَدَّثَنَا دَاوُدُ بْنُ قَيْسٍ، عَنْ مُوسَى بْنِ يَسَارٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: «كَانَ الصَّدَاقُ إِذْ كَانَ فِينَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَشْرَةَ أَوَاقٍ»

আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন আমাদের মাঝে জীবিত ছিলেন, তখনকার মোহর ছিল দশ উক্বিয়্যাহ্।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন