স্ত্রীদের মধ্যে সমতা
মোট হাদিস ০৫
পারিবারিক জীবনে স্ত্রীদের মধ্যে সমতা ও ইনসাফ রক্ষায় নবীজীর আদর্শ
রাসুলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর স্ত্রীদের মাঝে অধিকার ও সুযোগ-সুবিধার দিক থেকে সবসময় নিখুঁত সমতা বজায় রাখতেন। তিনি আল্লাহর কাছে দুআ করতেন যেন অন্তরের ভালোবাসার মতো অনিয়ন্ত্রিত বিষয়ে তাঁকে পাকড়াও না করা হয়, কারণ হযরত আয়েশা (রাঃ)-এর প্রতি তাঁর বিশেষ ভালোবাসা ছিল। স্ত্রীদের মধ্যে এই ভালোবাসা নিয়ে স্বাভাবিক প্রতিযোগিতা ছিল, যার কারণে অন্য স্ত্রীরা নবী-কন্যা ফাতিমা (রাঃ) এবং উম্মুল মুমিনীন যায়নাব (রাঃ)-কে দিয়ে আয়েশা (রাঃ)-এর ব্যাপারে ইনসাফের অনুরোধ পাঠান। নবীজী তাঁর ভালোবাসার প্রতি সম্মান জানিয়ে আয়েশা (রাঃ)-কে ভালোবাসার কথা বলেন। এমনকি স্ত্রীদের পারস্পরিক বাদানুবাদের সময়ও আয়েশা (রাঃ) যখন যৌক্তিক জবাব দিয়ে বিজয়ী হন, তখন নবীজী প্রশংসাসূচক কণ্ঠে তাকে আবু বকরের যোগ্য কন্যা হিসেবে স্বীকৃতি দেন। এই ঘটনাগুলো একাধিক স্ত্রীর মাঝে জাগতিক সমতা ও আন্তরিক সম্পর্কের এক চমৎকার ভারসাম্যপূর্ণ শিক্ষা প্রদান করে।
أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عَلِيٍّ قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ قَالَ: حَدَّثَنَا هَمَّامٌ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ النَّضْرِ بْنِ أَنَسٍ، عَنْ بَشِيرِ بْنِ نَهِيكٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «مَنْ كَانَ لَهُ امْرَأَتَانِ يَمِيلُ لِإِحْدَاهُمَا عَلَى الْأُخْرَى جَاءَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَحَدُ شِقَّيْهِ مَائِلٌ»
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) সূত্রে নাবী (ﷺ) হতে বর্ণিত। তিনি (ﷺ) বলেন: যে ব্যক্তির দুই স্ত্রী রয়েছে এবং সে তাদের মধ্যে হতে একজনের প্রতি বেশি ঝুঁকে পড়ে, সে কিয়ামতের দিন এ অবস্থায় উঠবে যে, তার শরীরের একাংশ একদিকে ঝুঁকে রয়েছে।
أَخْبَرَنِي مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ قَالَ: حَدَّثَنَا يَزِيدُ قَالَ: أَنْبَأَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ أَبِي قِلَابَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يَزِيدَ، عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقْسِمُ بَيْنَ نِسَائِهِ ثُمَّ يَعْدِلُ، ثُمَّ يَقُولُ: «اللَّهُمَّ هَذَا فِعْلِي فِيمَا أَمْلِكُ، فَلَا تَلُمْنِي فِيمَا تَمْلِكُ، وَلَا أَمْلِكُ» أَرْسَلَهُ حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ
'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এমন ছিলেন যে, তাঁর সকল স্ত্রীদের মাঝে সমভাবে ভাগ-বণ্টন করতেন। এরপরে বলতেন: হে আল্লাহ! এটা আমার কাজ, যাতে আমার আয়ত্ত রয়েছে, আর যার মালিক তুমি; আমি নই, সে বিষয়ে আমাকে পাকড়াও করো না। হাম্মাদ ইবনু যায়দ (রহঃ) হাদীসটি মুরসাল হিসেবেও উল্লেখ করেন।
أَخْبَرَنِي عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ سَعْدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ بْنِ سَعْدٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَمِّي قَالَ: حَدَّثَنَا أَبِي، عَنْ صَالِحٍ، عَنْ ابْنِ شِهَابٍ قَالَ: أَخْبَرَنِي مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْحَارِثِ بْنِ هِشَامٍ، أَنَّ عَائِشَةَ قَالَتْ: أَرْسَلَ أَزْوَاجُ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَاطِمَةَ بِنْتَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَاسْتَأْذَنَتْ عَلَيْهِ وَهُوَ مُضْطَجِعٌ مَعِي فِي مِرْطِي، فَأَذِنَ لَهَا، فَقَالَتْ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِنَّ أَزْوَاجَكَ أَرْسَلْنَنِي إِلَيْكَ يَسْأَلْنَكَ الْعَدْلَ فِي ابْنَةِ أَبِي قُحَافَةَ، وَأَنَا سَاكِتَةٌ، فَقَالَ لَهَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَيْ بُنَيَّةُ، أَلَسْتِ تُحِبِّينَ مَنْ أُحِبُّ؟» قَالَتْ: بَلَى، قَالَ: «فَأَحِبِّي هَذِهِ».فَقَامَتْ فَاطِمَةُ حِينَ سَمِعَتْ ذَلِكَ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَرَجَعَتْ إِلَى أَزْوَاجِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَأَخْبَرَتْهُنَّ بِالَّذِي قَالَتْ، وَالَّذِي قَالَ لَهَا، فَقُلْنَ لَهَا: مَا نَرَاكِ أَغْنَيْتِ عَنَّا مِنْ شَيْءٍ، فَارْجِعِي إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقُولِي لَهُ: إِنَّ أَزْوَاجَكَ يَنْشُدْنَكَ الْعَدْلَ فِي ابْنَةِ أَبِي قُحَافَةَ، قَالَتْ فَاطِمَةُ: لَا وَاللَّهِ لَا أُكَلِّمُهُ فِيهَا أَبَدًا،قَالَتْ عَائِشَةُ: فَأَرْسَلَ أَزْوَاجُ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ زَيْنَبَ بِنْتَ جَحْشٍ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَهِيَ الَّتِي كَانَتْ تُسَامِينِي مِنْ أَزْوَاجِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي الْمَنْزِلَةِ عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَلَمْ أَرَ امْرَأَةً قَطُّ خَيْرًا فِي الدِّينِ مِنْ زَيْنَبَ، وَأَتْقَى لِلَّهِ عَزَّ وَجَلَّ، وَأَصْدَقَ حَدِيثًا، وَأَوْصَلَ لِلرَّحِمِ، وَأَعْظَمَ صَدَقَةً، وَأَشَدَّ ابْتِذَالًا لِنَفْسِهَا فِي الْعَمَلِ الَّذِي تَصَدَّقُ بِهِ، وَتَقَرَّبُ بِهِ مَا عَدَا سَوْرَةً مِنْ حِدَّةٍ كَانَتْ فِيهَا، تُسْرِعُ مِنْهَا الْفَيْئَةَ، فَاسْتَأْذَنَتْ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَرَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَعَ عَائِشَةَ فِي مِرْطِهَا عَلَى الْحَالِ الَّتِي كَانَتْ دَخَلَتْ فَاطِمَةُ عَلَيْهَا، فَأَذِنَ لَهَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَتْ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِنَّ أَزْوَاجَكَ أَرْسَلْنَنِي يَسْأَلْنَكَ الْعَدْلَ فِي ابْنَةِ أَبِي قُحَافَةَ، وَوَقَعَتْ بِي فَاسْتَطَالَتْ، وَأَنَا أَرْقُبُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَأَرْقُبُ طَرْفَهُ، هَلْ أَذِنَ لِي فِيهَا، فَلَمْ تَبْرَحْ زَيْنَبُ حَتَّى عَرَفْتُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا يَكْرَهُ أَنْ أَنْتَصِرَ، فَلَمَّا وَقَعْتُ بِهَا لَمْ أَنْشَبْهَا بِشَيْءٍ، حَتَّى أَنْحَيْتُ عَلَيْهَا، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّهَا ابْنَةُ أَبِي بَكْرٍ»
'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (সাঃ) এর স্ত্রীগণ একদিন রাসূলের কন্যা ফাত্বিমাহ্ (রাঃ)-কে রাসূলুল্লাহ (সাঃ)এর কাছে পাঠালেন। তিনি এসে অনুমতি চাইলেন, সে সময় রাসূলুল্লাহ(সাঃ) চাদর গায়ে আমার সাথে বিছানায় ছিলেন। রাসূলুল্লাহ(সাঃ) ফাত্বিমাহ্ (রাঃ)-কে অনুমতি দিলেন। তখন ফাত্বিমাহ্ (রাঃ) বললেন: হে আল্লাহ রাসূল (সাঃ) আপনার স্ত্রীগণ আমাকে আপনার কাছে পাঠিয়েছেন। তাঁরা আবু কুহাফার কন্যা ['আয়িশাহ্'র বিষয়ে তাঁদের সাথে ইনসাফ করার অনুরোধ করছেন। ('আয়িশাহ্ (রাঃ) বলেন) আমি তখন চুপ ছিলাম। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ফাত্বিমাহ্ (রাঃ)-কে বললেন, হে আমার মেয়ে! আমি যাকে ভালোবাসি তাঁকে কি তুমি ভালোবাস না? ফাত্বিমাহ্ (রাঃ) বললেন, ভালোবাসি! রাসূলুল্লাহ(সাঃ) বললেন, তাহলে ওকে ভালোবাস।রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর কথা শোনার পর ফাত্বিমাহ্ (রাঃ) উঠে গেলেন এবং রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর স্ত্রীদের কাছে ফিরে গিয়ে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) যা বলেছিলেন তা বললেন। তাঁরা বললেন, তুমি আমাদের কোন উপকারে আসলে না। তুমি রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর কাছে আবার যাও এবং তাঁকে বল, আপনার স্ত্রীগণ আবু কুহাফার কন্যা [ 'আয়িশাহ্ (রাঃ)]-এর বিষয়ে ইনসাফের আশা করছে। ফাত্বিমাহ্ (রাঃ) বললেন, এই সম্পর্কে আমি রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর সাথে আর কখনো কোন কথা বলব না।'আয়িশাহ্ (রাঃ) বললেন, এরপর রাসূলুল্লাহ (সাঃ)এর স্ত্রীগণ যায়নাব বিনতু জাহ্ (রাঃ)-কে রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর নিকট পাঠালেন। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর স্ত্রীগণের মাঝে তিনিই ছিলেন একজন যে রাসূলুল্লাহ(সাঃ) এর কাছে মর্যাদায় আমার সমপর্যায়ের ছিলেন। আমি যায়নাব (রাঃ)-এর চেয়ে বেশি দীনদার, আল্লাহভীরু, আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষাকারী, সত্যবাদী-দানশীলা যেই কাজে দান-খয়রাতের সাওয়াব হয় ও নৈকট্য অর্জন করা যায়, সেই কাজে সর্বাধিক সাধনাকারিণী আর কাউকে দেখিনি। শুধু এতটুকু কথা যে, তিনি হঠাৎ রেগে যেতেন। আবার তাঁর রাগ কমেও যেত খুব তাড়াতাড়ি।তিনি আসলেন এবং রাসূলুল্লাহ (সাঃ) থেকে অনুমতি চাইলেন। এ সময় রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ফাত্বিমাহ্ (রাঃ)-এর প্রবেশ করার সময় যেই রকম 'আয়িশাহ্ (রাঃ)-এর সাথে চাদর গায়ে দেয়া অবস্থায় ছিলেন, সেই অবস্থায় 'আয়িশাহ্ (রাঃ)-এর সাথে ছিলেন। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) তাঁকে অনুমতি দিলেন। তিনি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল। আপনার স্ত্রীগণ আমাকে পাঠিয়েছেন। তাঁরা আবু কুহাফার কন্যা ['আয়িশাহ্'র বিষয়ে তাঁদের সাথে আপনার ইনসাফ করার অনুরোধ করছেন। এই বলে তিনি আমার সাথে লেগেই গেলেন এবং দীর্ঘ সময় [ভালো-মন্দ অনেক কিছু বললেন।আমি রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর দিকে তাকাচ্ছিলাম যে, তিনি আমাকে উত্তর দেয়ার অনুমতি দিচ্ছেন কিনা এটা বুঝার জন্য। যায়নাব তাঁর আগের অবস্থাতেই আছেন। শেষে আমি বুঝতে পারলাম যে, আমার জবাব দেয়াটা রাসূলুল্লাহ (সাঃ) অপছন্দ করবেন না। আমি যখন তাঁর জবাব দেয়া শুরু করলাম, তখন তাঁকে আর কিছু বলার সুযোগ দিলাম না। এমনকি আমি তাঁর ওপর বিজয়ী হলাম। অবশেষে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বললেন, এতো আবূ বাকর-এরই কন্যা।
أَخْبَرَنِي عِمْرَانُ بْنُ بَكَّارٍ الْحِمْصِيُّ قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو الْيَمَانِ قَالَ: أَنْبَأَنَا شُعَيْبٌ، عَنْ الزُّهْرِيِّ قَالَ: أَخْبَرَنِي مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْحَارِثِ بْنِ هِشَامٍ، أَنَّ عَائِشَةَ قَالَتْ: فَذَكَرَتْ نَحْوَهُ، وَقَالَتْ: أَرْسَلَ أَزْوَاجُ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ زَيْنَبَ، فَاسْتَأْذَنَتْ، فَأَذِنَ لَهَا فَدَخَلَتْ، فَقَالَتْ: نَحْوَهُ خَالَفَهُمَا مَعْمَرٌ، رَوَاهُ عَنْ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ
'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি পূর্বের হাদীসটির মতো বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন: নবী (সাঃ)-এর স্ত্রীগণ যায়নাব (রাঃ)-কে পাঠালেন, তিনি নবী (সাঃ) থেকে অনুমতি চাইলে, তিনি (সাঃ) তাঁকে অনুমতি দিলেন। তিনি প্রবেশ করলেন এবং পূর্বে বর্ণিত হাদীসে যা বর্ণনা হয়েছে অনুরূপ বললেন।
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ النَّيْسَابُورِيُّ، الثِّقَةُ الْمَأْمُونُ قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنْ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: اجْتَمَعْنَ أَزْوَاجُ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأَرْسَلْنَ فَاطِمَةَ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقُلْنَ لَهَا: إِنَّ نِسَاءَكَ - وَذَكَرَ كَلِمَةً مَعْنَاهَا - يَنْشُدْنَكَ الْعَدْلَ فِي ابْنَةِ أَبِي قُحَافَةَ قَالَتْ: فَدَخَلَتْ عَلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ مَعَ عَائِشَةَ فِي مِرْطِهَا، فَقَالَتْ لَهُ: إِنَّ نِسَاءَكَ أَرْسَلْنَنِي، وَهُنَّ يَنْشُدْنَكَ الْعَدْلَ فِي ابْنَةِ أَبِي قُحَافَةَ، فَقَالَ لَهَا النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَتُحِبِّينِي؟» قَالَتْ: نَعَمْ قَالَ: «فَأَحِبِّيهَا». قَالَتْ: فَرَجَعَتْ إِلَيْهِنَّ، فَأَخْبَرَتْهُنَّ مَا قَالَ، فَقُلْنَ لَهَا: إِنَّكِ لَمْ تَصْنَعِي شَيْئًا، فَارْجِعِي إِلَيْهِ، فَقَالَتْ: وَاللَّهِ لَا أَرْجِعُ إِلَيْهِ فِيهَا أَبَدًا، وَكَانَتِ ابْنَةَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَقًّا،فَأَرْسَلْنَ زَيْنَبَ بِنْتَ جَحْشٍ، قَالَتْ عَائِشَةُ: وَهِيَ الَّتِي كَانَتْ تُسَامِينِي مِنْ أَزْوَاجِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَتْ: أَزْوَاجُكَ أَرْسَلْنَنِي، وَهُنَّ يَنْشُدْنَكَ الْعَدْلَ فِي ابْنَةِ أَبِي قُحَافَةَ، ثُمَّ أَقْبَلَتْ عَلَيَّ تَشْتِمُنِي، فَجَعَلْتُ أُرَاقِبُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَنْظُرُ طَرْفَهُ، هَلْ يَأْذَنُ لِي مِنْ أَنْ أَنْتَصِرَ مِنْهَا،قَالَتْ: فَشَتَمَتْنِي حَتَّى ظَنَنْتُ أَنَّهُ لَا يَكْرَهُ أَنْ أَنْتَصِرَ مِنْهَا، فَاسْتَقْبَلْتُهَا، فَلَمْ أَلْبَثْ أَنْ أَفْحَمْتُهَا، فَقَالَ لَهَا النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّهَا ابْنَةُ أَبِي بَكْرٍ»، قَالَتْ عَائِشَةُ: فَلَمْ أَرَ امْرَأَةً خَيْرًا، وَلَا أَكْثَرَ صَدَقَةً، وَلَا أَوْصَلَ لِلرَّحِمِ، وَأَبْذَلَ لِنَفْسِهَا فِي كُلِّ شَيْءٍ يُتَقَرَّبُ بِهِ إِلَى اللَّهِ تَعَالَى مِنْ زَيْنَبَ، مَا عَدَا سَوْرَةً مِنْ حِدَّةٍ كَانَتْ فِيهَا تُوشِكُ مِنْهَا الْفَيْئَةَ قَالَ أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ: «هَذَا خَطَأٌ، وَالصَّوَابُ الَّذِي قَبْلَهُ»________________________________________
'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (সাঃ) এর স্ত্রীগণ একত্রিত হলেন এবং ফাত্বিমাহ্ (রাঃ)-কে নবী (সাঃ) এর নিকট এ বলে পাঠালেন যে, আপনার স্ত্রীগণ আবু কুহাফার কন্যার ব্যাপারে তাঁদের সাথে ইনসাফ করার অনুরোধ করেছেন-এ রকম কিছু বললেন। 'আয়িশাহ্ (রাঃ) বললেন, ফাত্বিমাহ্ (রাঃ) নবী (সাঃ)-এর নিকট প্রবেশ করলেন। তখন নবী (সাঃ) 'আয়িশাহ্ (রাঃ)-এর সাথে তাঁর চাদরের ভেতরে ছিলেন। তিনি বললেন, আপনার স্ত্রীগণ আমাকে পাঠিয়েছেন, তাঁরা আবু কুহাফার মেয়ের বিষয়ে তাঁদের সাথে ইনসাফ করার অনুরোধ জানিয়েছেন।রাসূলুল্লাহ (সাঃ) তাঁকে বললেন, তুমি কি আমাকে ভালোবাস? তিনি বললেন : হ্যাঁ! নবী (সাঃ) বললেন, তাহলে তাঁকেও ভালোবাস। 'আয়িশাহ্ (রাঃ) বলেন, ফাত্বিমাহ্ (রাঃ) তাঁদের কাছে ফিরে গেলেন এবং নবী (সাঃ) যা বলেছেন, তা তাঁদেরকে বললেন। তখন তাঁরা বললেন, আপনি তো আমাদের জন্য কিছুই করলেন না। পুনরায় রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর কাছে যান। তিনি বললেন, আল্লাহর শপথ, তাঁর কাছে আর আমি এই বিষয় নিয়ে কখনো যাব না। ফাত্বিমাহ্ (রাঃ) [চরিত্র ও চাল-চলনের দিক থেকে] প্রকৃতপক্ষেই রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর কন্যা ছিলেন।পুনরায় তাঁরা সবাই [স্ত্রীগণ] মিলে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর কাছে যায়নাব বিনতু জাহ্শ (রাঃ)-কে পাঠালেন। 'আয়িশাহ্ (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর স্ত্রীগণের মধ্যে যায়নাব বিনতু জাহ্শই একমাত্র স্ত্রী [রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর কাছে মর্যাদার দিক থেকে] যে আমার সমপর্যায়ের ছিল। তিনি বললেন, আপনার স্ত্রীগণ আমাকে আপনার কাছে পাঠিয়েছেন। তাঁরা আবু কুহাফার কন্যা ['আয়িশাহ্'র বিষয়ে তাঁদের সাথে ইনসাফ করার অনুরোধ জানিয়েছেন।'আয়িশাহ্ (রাঃ) বললেন, এরপরে যায়নাব আমাকে কিছু তিক্ত কথা বলতে শুরু করে দিলেন। আমি রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর দিকে লক্ষ্য করতে লাগলাম এবং তিনি আমার উত্তর দেয়ার ব্যাপারে মৌন সম্মতি দিচ্ছে কিনা বুঝার জন্য তাঁর ভাবভঙ্গি পর্যবেক্ষণ করতে লাগলাম। 'আয়িশাহ্ (রাঃ) বলেন, তিনি আমাকে তিক্ত কথা বলেই চলছেন। এতে আমি ধারণা করলাম যে, আমি তাঁর কথার জবাব দিলে তিনি (সাঃ) তা অপছন্দ করবেন না। অতএব তাঁর মুখোমুখি হলাম এবং তাঁর মুখ বন্ধ করে দিলাম। এরপর নবী (সাঃ) বললেন, এতো আবূ বাকর-এর কন্যা। 'আয়িশাহ্ (রাঃ) বলেন, আমি যায়নাব থেকে বেশি দানশীল, আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষাকারী এবং যে কাজে দান-খয়রাত, সাওয়াব ও আল্লাহর নৈকট্য লাভ হয়, তাতে তাঁর চেয়ে বেশি সাধনাকারিণী আর কাউকে দেখিনি। তবে তিনি (সাঃ) খুব তাড়াতাড়ি রাগতেন আবার তা খুব তাড়াতাড়িই প্রশমিত হতো।
আবূ 'আবদুর রহমান [ইমাম নাসায়ী] (রহঃ) বলেন, এ হাদীস ত্রুটিযুক্ত এবং পূর্বোক্ত হাদীসটিই সহীহ।
