৩৭/৩. অধ্যায়ঃ
কোন ব্যক্তির এক স্ত্রীর চেয়ে অপর স্ত্রীকে অধিক ভালোবাসা
সুনানে নাসাঈ : ৩৯৪৬
সুনানে নাসাঈহাদিস নম্বর ৩৯৪৬
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ النَّيْسَابُورِيُّ، الثِّقَةُ الْمَأْمُونُ قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنْ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: اجْتَمَعْنَ أَزْوَاجُ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأَرْسَلْنَ فَاطِمَةَ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقُلْنَ لَهَا: إِنَّ نِسَاءَكَ - وَذَكَرَ كَلِمَةً مَعْنَاهَا - يَنْشُدْنَكَ الْعَدْلَ فِي ابْنَةِ أَبِي قُحَافَةَ قَالَتْ: فَدَخَلَتْ عَلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ مَعَ عَائِشَةَ فِي مِرْطِهَا، فَقَالَتْ لَهُ: إِنَّ نِسَاءَكَ أَرْسَلْنَنِي، وَهُنَّ يَنْشُدْنَكَ الْعَدْلَ فِي ابْنَةِ أَبِي قُحَافَةَ، فَقَالَ لَهَا النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَتُحِبِّينِي؟» قَالَتْ: نَعَمْ قَالَ: «فَأَحِبِّيهَا». قَالَتْ: فَرَجَعَتْ إِلَيْهِنَّ، فَأَخْبَرَتْهُنَّ مَا قَالَ، فَقُلْنَ لَهَا: إِنَّكِ لَمْ تَصْنَعِي شَيْئًا، فَارْجِعِي إِلَيْهِ، فَقَالَتْ: وَاللَّهِ لَا أَرْجِعُ إِلَيْهِ فِيهَا أَبَدًا، وَكَانَتِ ابْنَةَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَقًّا، فَأَرْسَلْنَ زَيْنَبَ بِنْتَ جَحْشٍ، قَالَتْ عَائِشَةُ: وَهِيَ الَّتِي كَانَتْ تُسَامِينِي مِنْ أَزْوَاجِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَتْ: أَزْوَاجُكَ أَرْسَلْنَنِي، وَهُنَّ يَنْشُدْنَكَ الْعَدْلَ فِي ابْنَةِ أَبِي قُحَافَةَ، ثُمَّ أَقْبَلَتْ عَلَيَّ تَشْتِمُنِي، فَجَعَلْتُ أُرَاقِبُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَنْظُرُ طَرْفَهُ، هَلْ يَأْذَنُ لِي مِنْ أَنْ أَنْتَصِرَ مِنْهَا، قَالَتْ: فَشَتَمَتْنِي حَتَّى ظَنَنْتُ أَنَّهُ لَا يَكْرَهُ أَنْ أَنْتَصِرَ مِنْهَا، فَاسْتَقْبَلْتُهَا، فَلَمْ أَلْبَثْ أَنْ أَفْحَمْتُهَا، فَقَالَ لَهَا النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّهَا ابْنَةُ أَبِي بَكْرٍ»، قَالَتْ عَائِشَةُ: فَلَمْ أَرَ امْرَأَةً خَيْرًا، وَلَا أَكْثَرَ صَدَقَةً، وَلَا أَوْصَلَ لِلرَّحِمِ، وَأَبْذَلَ لِنَفْسِهَا فِي كُلِّ شَيْءٍ يُتَقَرَّبُ بِهِ إِلَى اللَّهِ تَعَالَى مِنْ زَيْنَبَ، مَا عَدَا سَوْرَةً مِنْ حِدَّةٍ كَانَتْ فِيهَا تُوشِكُ مِنْهَا الْفَيْئَةَ قَالَ أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ: «هَذَا خَطَأٌ، وَالصَّوَابُ الَّذِي قَبْلَهُ»________________________________________
হযরত আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ)-এর স্ত্রীগণ একত্রিত হলেন এবং ফাতিমা (রাঃ)-কে নবী (ﷺ)-এর নিকট এ বলে পাঠালেন যে, “আপনার স্ত্রীগণ আবু কুহাফার কন্যার ব্যাপারে তাদের সাথে ইনসাফ করার অনুরোধ করেছেন”-এ রকম কিছু বললেন।আয়িশা (রাঃ) বললেন, ফাতিমা (রাঃ) নবী (ﷺ)-এর নিকট প্রবেশ করলেন। তখন নবী (ﷺ) আয়িশা (রাঃ)-এর সাথে তার চাদরের ভেতরে ছিলেন। তিনি বললেন, “আপনার স্ত্রীগণ আমাকে পাঠিয়েছেন, তারা আবু কুহাফার মেয়ের বিষয়ে তাদের সাথে ইনসাফ করার অনুরোধ জানিয়েছেন।”রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে বললেন, “তুমি কি আমাকে ভালোবাস?”তিনি বললেনঃ “হ্যাঁ!”নবী (ﷺ) বললেন, “তাহলে তাঁকেও ভালোবাস।”আয়িশা (রাঃ) বলেন, ফাতিমা (রাঃ) তাদের কাছে ফিরে গেলেন এবং নবী (ﷺ) যা বলেছেন, তা তাদেরকে বললেন। তখন তারা বললেন, “আপনি তো আমাদের জন্য কিছুই করলেন না। পুনরায় রসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে যান।”তিনি বললেন, “আল্লাহর শপথ, তার কাছে আর আমি এই বিষয় নিয়ে কখনো যাব না।” ফাতিমা (রাঃ) (চরিত্র ও চাল-চলনের দিক থেকে) প্রকৃতপক্ষেই রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কন্যা ছিলেন।পুনরায় তারা সবাই (স্ত্রীগণ) মিলে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে যায়নাব বিনতু জাহ্শ-কে পাঠালেন। আয়িশা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর স্ত্রীগণের মধ্যে যায়নাব বিনতু জাহ্শই একমাত্র স্ত্রী (রসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে মর্যাদার দিক থেকে) যে আমার সমপর্যায়ের ছিল। তিনি বললেন, “আপনার স্ত্রীগণ আমাকে আপনার কাছে পাঠিয়েছেন। তারা আবু কুহাফার কন্যা (আয়িশার বিষয়ে) তাদের সাথে ইনসাফ করার অনুরোধ জানিয়েছেন।”আয়িশা (রাঃ) বললেন, এরপরে যায়নাব আমাকে কিছু তিক্ত কথা বলতে শুরু করে দিলেন। আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর দিকে লক্ষ্য করতে লাগলাম এবং তিনি আমার উত্তর দেয়ার ব্যাপারে মৌন সম্মতি দিচ্ছেন কিনা বুঝার জন্য তার ভাবভঙ্গি পর্যবেক্ষণ করতে লাগলাম। আয়িশা (রাঃ) বলেন, তিনি আমাকে তিক্ত কথা বলেই চলছেন। এতে আমি ধারণা করলাম যে, আমি তার কথার জবাব দিলে তিনি (ﷺ) তা অপছন্দ করবেন না। অতএব তার মুখোমুখি হলাম এবং তার মুখ বন্ধ করে দিলাম। এরপর নবী (ﷺ) বললেন, “এটা আবু বকর-এর কন্যা।”আয়িশা (রাঃ) বলেন, আমি যায়নাব থেকে বেশি দানশীল, আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষাকারী এবং যে কাজে দান-খয়রাত, সওয়াব ও আল্লাহর নৈকট্য লাভ হয়, তাতে তার চেয়ে বেশি সাধনাকারিণী আর কাউকে দেখিনি। তবে তিনি খুব তাড়াতাড়ি রাগতেন আবার তা খুব তাড়াতাড়িই প্রশমিত হতো। আবু আবদুর রহমান (ইমাম নাসাঈ) (রহঃ) বলেন, এ হাদীস ত্রুটিযুক্ত এবং পূর্বোক্ত হাদীসটিই সহীহ।
