স্ত্রীদের মধ্যে ঈর্ষা

মোট হাদিস ০৪

পারিবারিক জীবনে স্ত্রীদের পারস্পরিক ঈর্ষা ও সমতা রক্ষায় ইসলামের বিধান

রাসুলুল্লাহ (ﷺ)-এর পবিত্র জীবনের এই হাদিসগুলো থেকে স্ত্রীদের পারস্পরিক স্বাভাবিক ঈর্ষাবোধ এবং তাদের প্রতি সমতা রক্ষার গুরুত্ব জানা যায়। হাদিসে দেখা যায়, উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়েশা (রাঃ) স্বভাবসুলভ ঈর্ষাবশত অন্য স্ত্রীর পাঠানো খাবারের পাত্র ভেঙে ফেললে নবীজী অত্যন্ত ধৈর্য ও বিচক্ষণতার সাথে পরিস্থিতি সামাল দেন। তিনি ক্ষুব্ধ না হয়ে একে মায়ের আত্মমর্যাদা বা ঈর্ষা হিসেবে উল্লেখ করেন এবং কাফফারা হিসেবে ভাঙা পাত্রের বদলে ভালো পাত্র ও খাবার ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন। এছাড়া, তিনি মানুষের ওপর শয়তানের প্রভাব সম্পর্কে সচেতন করেন। অপরদিকে, একাধিক স্ত্রী থাকলে তাদের মাঝে পূর্ণ সমতা ও ইনসাফ বজায় রাখার কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে; অন্যথায় কিয়ামতের দিন শরীরের একাংশ ঝুঁকে থাকা অবস্থায় উঠতে হবে। এই শিক্ষাগুলো মুসলিম পরিবারে শান্তি ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় অত্যন্ত জরুরি।

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، قَالَ: حَدَّثَنَا خَالِدٌ قَالَ: حَدَّثَنَا حُمَيْدٌ قَالَ: حَدَّثَنَا أَنَسٌ قَالَ: كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عِنْدَ إِحْدَى أُمَّهَاتِ الْمُؤْمِنِينَ، فَأَرْسَلَتْ أُخْرَى بِقَصْعَةٍ فِيهَا طَعَامٌ، فَضَرَبَتْ يَدَ الرَّسُولِ، فَسَقَطَتِ الْقَصْعَةُ، فَانْكَسَرَتْ، فَأَخَذَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْكِسْرَتَيْنِ فَضَمَّ إِحْدَاهُمَا إِلَى الْأُخْرَى، فَجَعَلَ يَجْمَعُ فِيهَا الطَّعَامَ، وَيَقُولُ: «غَارَتْ أُمُّكُمْ كُلُوا» فَأَكَلُوا، فَأَمْسَكَ حَتَّى جَاءَتْ بِقَصْعَتِهَا الَّتِي فِي بَيْتِهَا، فَدَفَعَ الْقَصْعَةَ الصَّحِيحَةَ إِلَى الرَّسُولِ، وَتَرَكَ الْمَكْسُورَةَ فِي بَيْتِ الَّتِي كَسَرَتْهَا

আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

একদিন নবী (ﷺ) মু'মিনদের মাতাদের (রাসূলের স্ত্রীগণের) কোন একজনের ঘরে ছিলেন। এরপর অন্য একজন (স্ত্রী) এক পেয়ালা খাবার পাঠালেন। অতঃপর তিনি (ঐ স্ত্রী) বাহকের হাতে আঘাত করলেন। এতে পেয়ালাটি পড়ে ভেঙ্গে গেল। নবী (ﷺ) ভাঙ্গা টুকরা দু'টি নিয়ে একটি অপরটির সাথে জোড়া দিলেন, আর তাঁর মধ্যে খাবার রাখতে লাগলেন এবং বললেন : তোমাদের মাতার আত্মমর্যাদায় লেগেছে; তোমরা খাও। তখন তাঁরা খেলেন এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তা ধরে রাখলেন। এরপরে নবী (ﷺ) যার ঘরে ছিলেন তিনি একটি পেয়ালা আনলেন। ভালো পেয়ালাটি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বাহককে দিলেন আর ভাঙ্গা পেয়ালাটি যিনি ভেঙেছেন তাঁর ঘরে রাখলেন।

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ فُلَيْتٍ، عَنْ جَسْرَةَ بِنْتِ دَجَاجَةَ، عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: مَا رَأَيْتُ صَانِعَةَ طَعَامٍ مِثْلَ صَفِيَّةَ، أَهْدَتْ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَاءً فِيهِ طَعَامٌ، فَمَا مَلَكْتُ نَفْسِي أَنْ كَسَرْتُهُ، فَسَأَلْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ كَفَّارَتِهِ فَقَالَ: «إِنَاءٌ كَإِنَاءٍ، وَطَعَامٌ كَطَعَامٍ»

'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

আমি এ রকম কাউকে দেখিনি যে, সফিয়্যার মতো ভালো খাবার তৈরি করতে পারে। তিনি নাবী (ﷺ)-এর কাছে হাদিয়্যাহ্ পাঠালেন যাতে এক থালা খাবার ছিল। তখন আমি আমার নিজেকে আর সংযত রাখতে পারিনি; বিধায় থালাটি ভেঙ্গে দিলাম। এরপর আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে তার কাফফারাহ্ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি (ﷺ) বললেন, থালার পরিবর্তে থালা, আর খাবারের পরিবর্তে খাবার।

أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ قَالَ: حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ يَحْيَى هُوَ ابْنُ سَعِيدٍ الْأَنْصَارِيُّ، عَنْ عُبَادَةَ بْنِ الْوَلِيدِ بْنِ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ، أَنَّ عَائِشَةَ قَالَتْ: الْتَمَسْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَأَدْخَلْتُ يَدِي فِي شَعْرِهِ، فَقَالَ: «قَدْ جَاءَكِ شَيْطَانُكِ» فَقُلْتُ: أَمَا لَكَ شَيْطَانٌ؟ فَقَالَ: «بَلَى، وَلَكِنَّ اللَّهَ أَعَانَنِي عَلَيْهِ فَأَسْلَمَ»

'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে খুঁজছিলাম বিধায় তাঁর [নাবী (ﷺ)-এর] চুলের মধ্যে আমার হাত ঢুকিয়ে দিলাম। তিনি (ﷺ) বললেন: অবশ্যই তোমার কাছে তোমার শয়তানটি এসেছে। আমি বললাম, আপনার জন্য কি শয়তান নেই? তিনি (ﷺ) বললেন: হ্যাঁ আছে। তবে আল্লাহ তাআলা তার বিরুদ্ধে আমাকে সাহায্য করেছেন; ফলে সে আত্মসমর্পণ করেছে।

أَخْبَرَنَا الرَّبِيعُ بْنُ سُلَيْمَانَ قَالَ: حَدَّثَنَا أَسَدُ بْنُ مُوسَى قَالَ: حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ أَبِي الْمُتَوَكِّلِ، عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ، أَنَّهَا يَعْنِي أَتَتْ بِطَعَامٍ فِي صَحْفَةٍ لَهَا إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَصْحَابِهِ، فَجَاءَتْ عَائِشَةُ مُتَّزِرَةً بِكِسَاءٍ، وَمَعَهَا فِهْرٌ، فَفَلَقَتْ بِهِ الصَّحْفَةَ، فَجَمَعَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَيْنَ فِلْقَتَيْ الصَّحْفَةِ، وَيَقُولُ: «كُلُوا غَارَتْ أُمُّكُمْ» مَرَّتَيْنِ، ثُمَّ أَخَذَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صَحْفَةَ عَائِشَةَ، فَبَعَثَ بِهَا إِلَى أُمِّ سَلَمَةَ، وَأَعْطَى صَحْفَةَ أُمِّ سَلَمَةَ عَائِشَةَ

উম্মু সালামাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

একবার তিনি থালায় করে কিছু খাবার রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এবং তার সাহাবীদের কাছে নিয়ে আসলেন। অতঃপর 'আয়িশাহ্ (রাঃ) চাদর গায়ে দিয়ে আসলেন। তার হাতে ছিল একটি পাথর। পাথরটি দিয়ে থালাটি দু’ টুকরো করে দিলেন, নাবী (সাঃ) থালার ভাঙ্গা টুকরো দু'টি একত্র করে বললেন, তোমরা খাও। তোমাদের মাতার আত্মমর্যাদায় লেগেছে। এ কথাটি দু'বার বললেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)-এর থালা নিয়ে উম্মু সালামাহ্ (রাঃ)-এর কাছে পাঠালেন। আর উম্মু সালামাহ্ (রাঃ)-এর থালাটি ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)-কে দিয়ে দিলেন।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন