হুনায়নের যুদ্ধ
মোট হাদিস ১২
হুনায়নের যুদ্ধের সহীহ হাদিস, ইতিহাস এবং শিক্ষণীয় ঘটনা
হুনায়নের যুদ্ধ ইসলামের ইতিহাসের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং শিক্ষণীয় অধ্যায়। বর্ণিত হাদিসগুলো থেকে আমরা জানতে পারি যে, যুদ্ধের শুরুতে কাফিরদের অতর্কিত তীর আক্রমণের কারণে এবং গনীমতের মাল সংগ্রহের ব্যস্ততায় মুসলিম বাহিনী সাময়িকভাবে কিছুটা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়েছিল। তবে কঠিন সেই পরিস্থিতিতেও আল্লাহর রাসূল (ﷺ) তাঁর সাদা খচ্চরের পিঠে চড়ে অবিচল ও দৃঢ় ছিলেন। তিনি অত্যন্ত বীরত্বের সাথে নিজের পরিচয় ঘোষণা করে বলছিলেন যে, তিনি আল্লাহর সত্য নবী। পরবর্তীতে হযরত আব্বাস (রাঃ)-এর উচ্চকণ্ঠের আহ্বানে সাহাবিরা, বিশেষ করে আনসার ও বানি হারিস গোত্রের লোকেরা অত্যন্ত দ্রুততার সাথে নবীর পাশে ফিরে আসেন। এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নিজ হাতে কিছু পাথরের টুকরো শত্রুদের দিকে নিক্ষেপ করেন, যার ফলে কাফিরদের শক্তি নিস্তেজ হয়ে যায় এবং শেষ পর্যন্ত মুসলিমরা এক অলৌকিক ও ঐতিহাসিক বিজয় লাভ করে। এই ঘটনা থেকে স্পষ্ট হয় যে, যেকোনো কঠিন পরিস্থিতিতে আল্লাহর ওপর ভরসা এবং নেতার প্রতি আনুগত্যই সফলতার মূল চাবিকাঠি।
وَحَدَّثَنِي زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، وَمُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، وَأَبُو بَكْرِ بْنُ خَلاَّدٍ قَالُوا حَدَّثَنَا يَحْيَى، بْنُ سَعِيدٍ عَنْ سُفْيَانَ، قَالَ حَدَّثَنِي أَبُو إِسْحَاقَ، عَنِ الْبَرَاءِ، قَالَ قَالَ لَهُ رَجُلٌ يَا أَبَا عُمَارَةَ . فَذَكَرَ الْحَدِيثَ وَهُوَ أَقَلُّ مِنْ حَدِيثِهِمْ وَهَؤُلاَءِ أَتَمُّ حَدِيثًا .
বারা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তাঁকে এক ব্যক্তি বলল, হে আবূ ‘উমারাহ! .... তারপর অবশিষ্ট হাদীস বর্ণনা করেন। এ হাদীস ছিল তাঁদের বর্ণিত হাদীস থেকে সংক্ষিপ্ত। আর তাঁদের হাদীস ছিল পূর্ণ।
ই.ফা. ৪৪৬৭, ই.সে. ৪৪৬৯
مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيْرٍ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ أَبِيْ إِسْحَاقَ قَالَ سَمِعْتُ الْبَرَاءَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ وَجَاءَهُ رَجُلٌ فَقَالَ يَا أَبَا عُمَارَةَ أَتَوَلَّيْتَ يَوْمَ حُنَيْنٍ فَقَالَ أَمَّا أَنَا فَأَشْهَدُ عَلَى النَّبِيِّ ﷺ أَنَّهُ لَمْ يُوَلِّ وَلَكِنْ عَجِلَ سَرَعَانُ الْقَوْمِ فَرَشَقَتْهُمْ هَوَازِنُ وَأَبُوْ سُفْيَانَ بْنُ الْحَارِثِ آخِذٌ بِرَأْسِ بَغْلَتِهِ الْبَيْضَاءِ يَقُوْلُأَنـَا الـنّـَبـِيُّ لَا كـَذِبْ أَنـَا ابْنُ عـَبـْدِ الْـمُـطِّلـِبْ.
বারা ইবনু ‘আযিব (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি বলেছেন, আমি বারাআ ইব্নু 'আযিব (রাঃ) – কে বলতে শুনেছি যে, এক ব্যক্তি এসে তাঁকে জিজ্ঞেস করল, হে আবূ 'উমারাহ! হুনাইনের দিন কি আপনি পৃষ্ঠপ্রদর্শন করেছিলেন? তখন তিনি বলেন যে, আমি তো নিজেই নবী (ﷺ) সম্পর্কে সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তিনি পৃষ্ঠপ্রদর্শন করেননি। তবে মুজাহিদদের অগ্রবর্তী যোদ্ধাগণ (গানীমাত সংগ্রহের জন্য) তাড়াহুড়া করলে হাওয়াযিন গোত্রের লোকেরা তাঁদের প্রতি তীর নিক্ষেপ করতে থাকে। এ সময় আবূ সুফ্ইয়ান ইবনুল হারিস (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (ﷺ)- এর সাদা খচ্চরটির মাথা ধরে দাঁড়িয়েছিলেন। আর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তখন বলেছিলেন- আমি আল্লাহ্র নবী, এটা মিথ্যা নয়। আমি 'আবদুল মুত্তালিবের সন্তান।
أَبُو الْوَلِيْدِ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ أَبِيْ إِسْحَاقَ قِيْلَ لِلْبَرَاءِ وَأَنَا أَسْمَعُ أَوَلَّيْتُمْ مَعَ النَّبِيِّ يَوْمَ حُنَيْنٍ فَقَالَ أَمَّا النَّبِيُّ ﷺ فَلَا كَانُوْا رُمَاةً فَقَالَ :أَنـَا الـنّـَبـِيُّ لَا كـَذِبْ أَنـَا ابْنُ عـَبـْدِ الْـمُـطِّلـِبْ.
বারা ইবনু ‘আযিব (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি শুনলাম যে, বারাআ ইবনু 'আযিব (রাঃ)- কে জিজ্ঞেস করা হল, হুনাইন যুদ্ধের দিন আপনারা কি নবী (ﷺ)- এর সঙ্গে পৃষ্ঠপ্রদর্শন করেছিলেন? তিনি বললেন, কিন্তু নবী (ﷺ) পৃষ্ঠ প্রদর্শন করেননি। তবে তারা (হাওয়াযিনের লোকেরা) ছিল দক্ষ তীরন্দাজ, তাদের তীর বর্ষণে মুসলিমরা পিছনে হটলেও নবী (ﷺ) (অটলভাবে দাঁড়িয়ে) বলছিলেন- আমি আল্লাহ্র নবী, এটা মিথ্যা নয়। আমি 'আবদুল মুত্তালিবের সন্তান।
مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ حَدَّثَنَا غُنْدَرٌ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ أَبِيْ إِسْحَاقَ سَمِعَ الْبَرَاءَ وَسَأَلَهُ رَجُلٌ مِنْ قَيْسٍ أَفَرَرْتُمْ عَنْ رَسُوْلِ اللهِ ﷺ يَوْمَ حُنَيْنٍ فَقَالَ لَكِنْ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ لَمْ يَفِرَّ كَانَتْ هَوَازِنُ رُمَاةً وَإِنَّا لَمَّا حَمَلْنَا عَلَيْهِمْ انْكَشَفُوْا فَأَكْبَبْنَا عَلَى الْغَنَائِمِ فَاسْتُقْبِلْنَا بِالسِّهَامِ وَلَقَدْ رَأَيْتُ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ عَلَى بَغْلَتِهِ الْبَيْضَاءِ وَإِنَّ أَبَا سُفْيَانَ بْنَ الْحَارِثِ آخِذٌ بِزِمَامِهَا وَهُوَ يَقُوْلُ:أَنـَا الـنّـَبـِيُّ لَا كـَذِبْقَالَ إِسْرَائِيْلُ وَزُهَيْرٌ نَزَلَ النَّبِيُّ ﷺ عَنْ بَغْلَتِهِ.
বারা ইবনু ‘আযিব (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
বারআ (রাঃ)- কে বলতে শুনেছেন যে, তাঁকে কায়স গোত্রের এক লোক জিজ্ঞেস করেছিলেন যে, হুনাইনের দিন আপনারা কি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)- এর নিকট হতে পালিয়েছিলেন? তখন তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কিন্তু পালিয়ে যাননি। হাওয়াযিন গোত্রের লোকেরা ছিল সুদক্ষ তীরন্দাজ। আমরা যখন তাদের উপর আক্রমণ চালালাম তখন তারা ছত্রভঙ্গ হয়ে গেল। আমরা গানীমাত তুলতে শুরু করলাম তখন আমরা তাদের তীরন্দাজ বাহিনীর দ্বারা আক্রান্ত হয়ে পড়লাম। তখন আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)- কে তাঁর সাদা রংয়ের খচ্চরটির পিঠে আরোহিত অবস্থায় দেখলাম। আর আবূ সুফ্ইয়ান (রাঃ) তাঁর খচ্চরটির লাগাম ধরেছিলেন। তিনি বলছিলেন- আমি আল্লাহ্র নবী, এটা মিথ্যা নয়।বর্ণনাকারী ইসরাঈল এবং যুহায়র (রহঃ) বলেছেন যে, তখন নবী (ﷺ) তাঁর খচ্চর থেকে অবতরণ করেছিলেন।
وَحَدَّثَنَاهُ إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، وَمُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، وَعَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، جَمِيعًا عَنْ عَبْدِ، الرَّزَّاقِ أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، بِهَذَا الإِسْنَادِ . نَحْوَهُ غَيْرَ أَنَّهُ قَالَ فَرْوَةُ بْنُ نُعَامَةَ الْجُذَامِيُّ . وَقَالَ " انْهَزَمُوا وَرَبِّ الْكَعْبَةِ انْهَزَمُوا وَرَبِّ الْكَعْبَةِ " . وَزَادَ فِي الْحَدِيثِ حَتَّى هَزَمَهُمُ اللَّهُ قَالَ وَكَأَنِّي أَنْظُرُ إِلَى النَّبِيِّ ﷺ يَرْكُضُ خَلْفَهُمْ عَلَى بَغْلَتِهِ .
যুহরী (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
একই সূত্রে উল্লিখিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তবে তিনি ‘ফারওয়াহ্ ইবনু নু’আমাহ্ জুযামী’ কথাটি অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন এবং তিনি বলেছেন যে, তারা পরাজিত হয়েছে, কা’বার রবের কসম! তারা পরাজিত হয়েছে কা’বার রবের কসম!” তিনি তাঁর হাদীসে এ কথাটিও বাড়তি বর্ণনা করেছেন যে, “অবশেষে আল্লাহ তা’আলা তাদেরকে পরাজিত করলেন”। রাবী বলেন, আমি যেন নবী (ﷺ) -কে তাদের পিছন থেকে দেখলাম যে, তিনি স্বীয় খচ্চরের উপর থেকে নিজ পায়ের গোড়ালি দিয়ে একে প্রহার করছিলেন। (দ্রুত গতিতে চলার জন্য।)
ই.ফা. ৪৪৬২, ই.সে. ৪৪৬৪
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، أَخْبَرَنَا أَبُو خَيْثَمَةَ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، قَالَ قَالَ رَجُلٌ لِلْبَرَاءِ يَا أَبَا عُمَارَةَ أَفَرَرْتُمْ يَوْمَ حُنَيْنٍ قَالَ لاَ وَاللَّهِ مَا وَلَّى رَسُولُ اللَّهِ ﷺ وَلَكِنَّهُ خَرَجَ شُبَّانُ أَصْحَابِهِ وَأَخِفَّاؤُهُمْ حُسَّرًا لَيْسَ عَلَيْهِمْ سِلاَحٌ أَوْ كَثِيرُ سِلاَحٍ فَلَقُوا قَوْمًا رُمَاةً لاَ يَكَادُ يَسْقُطُ لَهُمْ سَهْمٌ جَمْعَ هَوَازِنَ وَبَنِي نَصْرٍ فَرَشَقُوهُمْ رَشْقًا مَا يَكَادُونَ يُخْطِئُونَ فَأَقْبَلُوا هُنَاكَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ ﷺ وَرَسُولُ اللَّهِ ﷺ عَلَى بَغْلَتِهِ الْبَيْضَاءِ وَأَبُو سُفْيَانَ بْنُ الْحَارِثِ بْنِ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ يَقُودُ بِهِ فَنَزَلَ فَاسْتَنْصَرَ وَقَالَ «أَنَا النَّبِيُّ لاَ كَذِبْ أَنَا ابْنُ عَبْدِ الْمُطَّلِبْ " . ثُمَّ صَفَّهُمْ .
আবূ ইসহাক (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
এক ব্যক্তি বারা (রাঃ) –কে বললেন, হে আবূ ‘উমারাহ! আপনারা কি হুনায়নের যুদ্ধে পলায়ন করেছিলেন? তিনি বললেন, না। আল্লাহর কসম! রাসূলুল্লাহ (ﷺ) পলায়ন করেননি। বরং তাঁর কয়েকজন হালকা পাতলা, চালাক-চতুর তরুণ সাথী, অস্ত্র-শস্ত্র ও বেশী হাতিয়ার বিহীন তাঁরা সরে পড়েন। তাঁরা এমন একদল তীরন্দাজের মুকাবিলা করছিলেন, যাদের তীরের লক্ষ্যস্থল ব্যর্থ হবার নয়। তারা ছিল হাওয়াযিন ও নাসর গোত্রের লোক। তারা এমনভাবে তীর ছুঁড়ছিল যে, লক্ষ্যস্থল ব্যর্থ হওয়ার ছিল না।তখন তাঁরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) –এর দিকে এগিয়ে এলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সে সময় তাঁর সাদা রঙ্গের খচ্চরের উপর ছিলেন। আর আবূ সুফইয়ান ইবনু হারিস ইবনু ‘আবদুল মুত্তালিব (রাঃ) একে টেনে নিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি নামলেন এবং আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করলেন। রাবী বলেন, যেন তিনি বলেছিলেনঃ “আমি অবশ্যই নবী, এ কথা মিথ্যা নয়। আমি ইবনু ‘আবদুল মুত্তালিব”। তারপর তিনি স্বীয় সেনাদলকে শ্রেণীবদ্ধ করলেন।
ই.ফা. ৪৪৬৪, ই.সে. ৪৪৬৬
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ جَنَابٍ الْمِصِّيصِيُّ، حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ يُونُسَ، عَنْ زَكَرِيَّاءَ، عَنْ أَبِي، إِسْحَاقَ قَالَ جَاءَ رَجُلٌ إِلَى الْبَرَاءِ فَقَالَ أَكُنْتُمْ وَلَّيْتُمْ يَوْمَ حُنَيْنٍ يَا أَبَا عُمَارَةَ فَقَالَ أَشْهَدُ عَلَى نَبِيِّ اللَّهِ ﷺ مَا وَلَّى وَلَكِنَّهُ انْطَلَقَ أَخِفَّاءُ مِنَ النَّاسِ وَحُسَّرٌ إِلَى هَذَا الْحَىِّ مِنْ هَوَازِنَ وَهُمْ قَوْمٌ رُمَاةٌ فَرَمَوْهُمْ بِرِشْقٍ مِنْ نَبْلٍ كَأَنَّهَا رِجْلٌ مِنْ جَرَادٍ فَانْكَشَفُوا فَأَقْبَلَ الْقَوْمُ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ ﷺ وَأَبُو سُفْيَانَ بْنُ الْحَارِثِ يَقُودُ بِهِ بَغْلَتَهُ فَنَزَلَ وَدَعَا وَاسْتَنْصَرَ وَهُوَ يَقُولُ «أَنَا النَّبِيُّ لاَ كَذِبْ أَنَا ابْنُ عَبْدِ الْمُطَّلِبْ اللَّهُمَّ نَزِّلْ نَصْرَكَ». قَالَ الْبَرَاءُ كُنَّا وَاللَّهِ إِذَا احْمَرَّ الْبَأْسُ نَتَّقِي بِهِ وَإِنَّ الشُّجَاعَ مِنَّا لَلَّذِي يُحَاذِي بِهِ . يَعْنِي النَّبِيَّ ﷺ .
আবূ ইসহাক (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
এক ব্যক্তি বারা (রাঃ) –এর নিকট এসে বলল, আপনারা কি হুনায়নের দিনে পলায়ন করেছিলেন? তখন তিনি বললেন, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, নবী (ﷺ) পলায়ন করেননি। কিন্তু কিছু সংখ্যক চালাকচতুর হালকাপাতলা লোক ‘হাওয়াযিন’ গোত্রের দিকে গিয়েছিল। আর তারা ছিল তীরন্দাজ সম্প্রদায়। তারা তাদের প্রতি তীর ছুঁড়লো, যেন সেগুলো পঙ্গপালের পায়ের মত।তখন তারা পিছন দিকে হটে গেল। আর লোকেরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) –এর কাছে এগিয়ে এলো। আবূ সুফইয়ান ইবনু হারিস (রাঃ) তাঁর খচ্চর টেনে নিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি অবতরণ করলেন এবং আল্লাহর কাছে সাহায্য চেয়ে দোয়া করলেন এবং তিনি বললেনঃ আমি অবশ্যই আল্লাহর নবী, এ কথা মিথ্যে নয়। আমি ইবনু ‘আবদুল মুত্তালিব। “ইয়া আল্লাহ্! আপনার সাহায্য অবতীর্ণ করুন”। বারা (রাঃ) বললেন, আল্লাহর কসম! যুদ্ধের উত্তেজনা যখন ঘোরতর হয়ে উঠত, তখন আমরা তাঁর মাধ্যমে আত্মরক্ষা করতাম। নিশ্চয়ই আমাদের মাঝে বীরপুরুষ তিনিই যাঁকে যুদ্ধে তাঁর সামনে রাখা হয়, অর্থাৎ- নবী (ﷺ)।
ই.ফা. ৪৪৬৫, ই.সে. ৪৪৬৭
وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، وَابْنُ، بَشَّارٍ - وَاللَّفْظُ لاِبْنِ الْمُثَنَّى - قَالاَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ، بْنُ جَعْفَرٍ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، قَالَ سَمِعْتُ الْبَرَاءَ، وَسَأَلَهُ، رَجُلٌ مِنْ قَيْسٍ أَفَرَرْتُمْ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ يَوْمَ حُنَيْنٍ فَقَالَ الْبَرَاءُ وَلَكِنْ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ لَمْ يَفِرَّ وَكَانَتْ هَوَازِنُ يَوْمَئِذٍ رُمَاةً وَإِنَّا لَمَّا حَمَلْنَا عَلَيْهِمُ انْكَشَفُوا فَأَكْبَبْنَا عَلَى الْغَنَائِمِ فَاسْتَقْبَلُونَا بِالسِّهَامِ وَلَقَدْ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ عَلَى بَغْلَتِهِ الْبَيْضَاءِ وَإِنَّ أَبَا سُفْيَانَ بْنَ الْحَارِثِ آخِذٌ بِلِجَامِهَا وَهُوَ يَقُولُ «أَنَا النَّبِيُّ لاَ كَذِبْ أَنَا ابْنُ عَبْدِ الْمُطَّلِبْ " .
আবূ ইসহাক (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি বারা (রাঃ)–এর কাছে শুনেছি, বানী কায়সের এক ব্যক্তি তাঁকে জিজ্ঞেস করেছিল, আপনারা কি হুনায়নের দিন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে পলায়ন করেছিলেন? তখন বারা (রাঃ) বললেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) অবশ্য পলায়ন করেননি। (তবে ব্যাপার এই ছিল যে,) ‘হাওয়াযিন গোত্রের লোকেরা দক্ষ তীরন্দাজ ছিল। আমরা যখন তাদের উপর আক্রমণ করলাম তখন তারা পলায়ন করল। এমন সময় আমরা গনীমাতের মালের দিকে ঝুঁকে পড়লাম।তখন তারা ফিরে এসে আমাদের উপর অতর্কিতে তীর ছুঁড়তে শুরু করল। আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) –কে তাঁর সাদা বর্ণের খচ্চরের উপর দেখতে পেলাম। আর আবূ সুফইয়ান ইবনু হারিস (রাঃ) খচ্চরের লাগাম ধরে রেখেছিলেন। আর নবী (ﷺ) বলেছিলেনঃ “আমি অবশ্যই নবী, এ কথা মিথ্যে নয়। আমি ইবনু ‘আবদুল মুত্তালিব”।
ই.ফা. ৪৪৬৬, ই.সে. ৪৪৬৮
وَحَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ يُونُسَ الْحَنَفِيُّ، حَدَّثَنَا عِكْرِمَةُ بْنُ عَمَّارٍ، حَدَّثَنِي إِيَاسُ بْنُ سَلَمَةَ، حَدَّثَنِي أَبِي قَالَ، غَزَوْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ حُنَيْنًا فَلَمَّا وَاجَهْنَا الْعَدُوَّ تَقَدَّمْتُ فَأَعْلُو ثَنِيَّةً فَاسْتَقْبَلَنِي رَجُلٌ مِنَ الْعَدُوِّ فَأَرْمِيهِ بِسَهْمٍ فَتَوَارَى عَنِّي فَمَا دَرَيْتُ مَا صَنَعَ وَنَظَرْتُ إِلَى الْقَوْمِ فَإِذَا هُمْ قَدْ طَلَعُوا مِنْ ثَنِيَّةٍ أُخْرَى فَالْتَقَوْا هُمْ وَصَحَابَةُ النَّبِيِّ ﷺ فَوَلَّى صَحَابَةُ النَّبِيِّ ﷺ وَأَرْجِعُ مُنْهَزِمًا وَعَلَىَّ بُرْدَتَانِ مُتَّزِرًا بِإِحْدَاهُمَا مُرْتَدِيًا بِالأُخْرَى فَاسْتَطْلَقَ إِزَارِي فَجَمَعْتُهُمَا جَمِيعًا وَمَرَرْتُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ ﷺ مُنْهَزِمًا وَهُوَ عَلَى بَغْلَتِهِ الشَّهْبَاءِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ «لَقَدْ رَأَى ابْنُ الأَكْوَعِ فَزَعًا». فَلَمَّا غَشُوا رَسُولَ اللَّهِ ﷺ نَزَلَ عَنِ الْبَغْلَةِ ثُمَّ قَبَضَ قَبْضَةً مِنْ تُرَابٍ مِنَ الأَرْضِ ثُمَّ اسْتَقْبَلَ بِهِ وُجُوهَهُمْ فَقَالَ «شَاهَتِ الْوُجُوهُ». فَمَا خَلَقَ اللَّهُ مِنْهُمْ إِنْسَانًا إِلاَّ مَلأَ عَيْنَيْهِ تُرَابًا بِتِلْكَ الْقَبْضَةِ فَوَلَّوْا مُدْبِرِينَ فَهَزَمَهُمُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ وَقَسَمَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ غَنَائِمَهُمْ بَيْنَ الْمُسْلِمِينَ .
সালামাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমরা হুনায়নের দিন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) –এর সঙ্গে থেকে যুদ্ধ করেছি। যখন আমরা শত্রুদের সম্মুখীন হলাম, তখন এ পর্যায়ে আমি অগ্রসর হয়ে একটি টিলার উপর উঠলাম। তখন শত্রুদের এক ব্যক্তি আমার মুকাবিলায় অগ্রসর হলো। আমি একটি তীর নিক্ষেপ করলাম, তখন সে আমার থেকে আত্মগোপন করল। আমি তখন বুঝতে পারিনি তার ব্যাপারটি কী হয়েছে।তারপর যখন শত্রুদলের প্রতি লক্ষ্য করলাম, তখন দেখতে পেলাম যে, তারা অপর এক টিলায় আরোহণ করেছে। তারপর তারা এবং নবী (ﷺ) –এর সাথীরা সামনা-সামনি হলো। তখন নবী (ﷺ) –এর সাহাবাগণ পিছনে সরে পড়ল। আমি পরাজিত অবস্থায় প্রত্যাবর্তন করলাম। তখন আমার পরিধানে ছিল দু’টি চাদর। তন্মধ্যে একটি চাদর ছিল বাঁধা অবস্থায় এবং অপরটি ছিল খোলা। এক পর্যায়ে আমার লুঙ্গিটি খুলে গেল। তখন আমি সে দু’টি একত্র করলাম এবং পরাজিত অবস্থায় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) –এর কাছ দিয়ে গমন করলাম। আর তিনি তখন তাঁর সাদা রং-এর খচ্চরের উপর আরোহিত অবস্থায় ছিলেন। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, ইবনুল আকওয়া সন্ত্রস্ত অবস্থায় প্রত্যাবর্তন করেছে।এরপর শত্রুরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) –কে ঘিরে ফেললো। তখন তিনি স্বীয় খচ্চর থেকে অবতরণ করলেন। তারপর এক মুষ্টি মাটি যমীন থেকে তুলে নিলেন। এরপর তাদের মুখমণ্ডলে তা নিক্ষেপ করলেন এবং বললেন, তাদের মুখমণ্ডল বিকৃত হয়ে গেছে। এরপর তাদের সকল মানুষের দু’চোখ-ই সে এক মুষ্টি মাটির ধূলায় ভরে গেল। তারা পশ্চাৎ দিকে পলায়ন করলো। আল্লাহ্ তা’আলা এ দ্বারাই তাদেরকে পরাস্ত করলেন। এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) গনীমাতের সম্পদ মুসলিমদের মধ্যে বণ্টন করে দিলেন।
ই.ফা. ৪৪৬৮, ই.সে. ৪৪৭০
وَحَدَّثَنِي أَبُو الطَّاهِرِ، أَحْمَدُ بْنُ عَمْرِو بْنِ سَرْحٍ أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، قَالَ حَدَّثَنِي كَثِيرُ بْنُ عَبَّاسِ بْنِ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ، قَالَ قَالَ عَبَّاسٌ شَهِدْتُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ يَوْمَ حُنَيْنٍ فَلَزِمْتُ أَنَا وَأَبُو سُفْيَانَ بْنُ الْحَارِثِ بْنِ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ فَلَمْ نُفَارِقْهُ وَرَسُولُ اللَّهِ ﷺ عَلَى بَغْلَةٍ لَهُ بَيْضَاءَ أَهْدَاهَا لَهُ فَرْوَةُ بْنُ نُفَاثَةَ الْجُذَامِيُّ فَلَمَّا الْتَقَى الْمُسْلِمُونَ وَالْكُفَّارُ وَلَّى الْمُسْلِمُونَ مُدْبِرِينَ فَطَفِقَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ يَرْكُضُ بَغْلَتَهُ قِبَلَ الْكُفَّارِ قَالَ عَبَّاسٌ وَ أَنَا آخِذٌ بِلِجَامِ بَغْلَةِ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ أَكُفُّهَا إِرَادَةَ أَنْ لاَ تُسْرِعَ وَأَبُو سُفْيَانَ آخِذٌ بِرِكَابِ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ " أَىْ عَبَّاسُ نَادِ أَصْحَابَ السَّمُرَةِ " . فَقَالَ عَبَّاسٌ وَكَانَ رَجُلاً صَيِّتًا فَقُلْتُ بِأَعْلَى صَوْتِي أَيْنَ أَصْحَابُ السَّمُرَةِ قَالَ فَوَاللَّهِ لَكَأَنَّ عَطْفَتَهُمْ حِينَ سَمِعُوا صَوْتِي عَطْفَةُ الْبَقَرِ عَلَى أَوْلاَدِهَا . فَقَالُوا يَا لَبَّيْكَ يَا لَبَّيْكَ - قَالَ - فَاقْتَتَلُوا وَالْكُفَّارَ وَالدَّعْوَةُ فِي الأَنْصَارِ يَقُولُونَ يَا مَعْشَرَ الأَنْصَارِ يَا مَعْشَرَ الأَنْصَارِ قَالَ ثُمَّ قُصِرَتِ الدَّعْوَةُ عَلَى بَنِي الْحَارِثِ بْنِ الْخَزْرَجِ فَقَالُوا يَا بَنِي الْحَارِثِ بْنِ الْخَزْرَجِ يَا بَنِي الْحَارِثِ بْنِ الْخَزْرَجِ . فَنَظَرَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ وَهُوَ عَلَى بَغْلَتِهِ كَالْمُتَطَاوِلِ عَلَيْهَا إِلَى قِتَالِهِمْ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ «هَذَا حِينَ حَمِيَ الْوَطِيسُ» . قَالَ ثُمَّ أَخَذَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ حَصَيَاتٍ فَرَمَى بِهِنَّ وُجُوهَ الْكُفَّارِ ثُمَّ قَالَ " انْهَزَمُوا وَرَبِّ مُحَمَّدٍ " .قَالَ فَذَهَبْتُ أَنْظُرُ فَإِذَا الْقِتَالُ عَلَى هَيْئَتِهِ فِيمَا أَرَى - قَالَ - فَوَاللَّهِ مَا هُوَ إِلاَّ أَنْ رَمَاهُمْ بِحَصَيَاتِهِ فَمَا زِلْتُ أَرَى حَدَّهُمْ كَلِيلاً وَأَمْرَهُمْ مُدْبِرًا .
আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি হুনায়নের যুদ্ধের দিন রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সঙ্গে ছিলাম। আমি এবং আবূ সুফ্ইয়ান ইবনু হারিস ইবনু ‘আবদুল মুত্তালিব রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -এর একেবারে সঙ্গেই ছিলাম। আমরা কখনও তাঁর থেকে আলাদা হইনি। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একটি সাদা বর্ণের খচ্চরের উপর আরোহণ করেছিলেন। সে খচ্চরটি ফারওয়াহ্ ইবনু নুফাসাহ্ জুযামী তাঁকে হাদিয়া স্বরূপ দিয়েছিলেন। (তাকে দুলদুল নামে ডাকা হতো।)যখন মুসলিম এবং কাফির পরস্পর সম্মুখ যুদ্ধে লিপ্ত হল তখন মুসলিমগণ (যুদ্ধের এক পর্যায়ে) পেছনের দিকে পলায়ন করতে লাগলেন। আর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) স্বীয় পায়ের গোড়ালি দিয়ে নিজের খচ্চরকে আঘাত করে কাফিরদের দিকে ধাবিত করছিলেন। ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, আমি তাঁর খচ্চরের লাগাম ধরে রেখেছিলাম এবং একে থামিয়ে রাখার চেষ্টা করছিলাম যেন দ্রুত গতিতে অগ্রসর হতে না পারে। আর আবূ সুফ্ইয়ান (রাঃ) তাঁর খচ্চরের ‘রেকাব’ (হাউদাজের বন্ধনের পট্টি) ধরে রেখেছিলেন। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ হে ‘আব্বাস! আসহাবে সামুরাকে আহ্বান করো।‘আব্বাস (রাঃ) বলেন- আর তিনি ছিলেন উচ্চ আওয়াজের অধিকারী ব্যক্তি-তখন আমি উচ্চৈঃস্বরে আওয়াজ দিয়ে বললাম, হে আসহাবে সামুরাহ্! তোমরা কোথায় যাচ্ছ? তিনি বলেন, আল্লাহর কসম! তা শুনামাত্র তারা এমনভাবে প্রত্যাবর্তন করতে শুরু করলেন যেমনভাবে গাভী তার বাচ্চার আওয়াজ শুনে দ্রুত দৌড়ে আসে। এবং তারা বলতে লাগল, আমরা আপনার নিকট হাজির, আমরা আপনার নিকট হাজির।রাবী বলেন, এরপর তারা কাফিরদের সাথে পুনরায় যুদ্ধে লিপ্ত হন। তিনি আনসারদেরকেও এমনিভাবে আহ্বান করলেন যে, হে আনসারগণ! রাবী বলেন, এরপর আহ্বান সমাপ্ত করা হলো বানী হারিস ইবনু খাযরাজের মাধ্যমে। (তাঁরা আহ্বান করলেন, হে বানী হারিস ইবনুল খাযরাজ।) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) স্বীয় খচ্চরের উপর আরোহিত অবস্থায় আপন ঘাড় উঁচু করে তাদের যুদ্ধের অবস্থা দেখেন। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ এটাই হল যুদ্ধের উত্তেজনাপূর্ণ চরম মুহূর্ত।রাবী বলেন, এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কয়েকটি পাথরের টুকরা হাতে নিলেন এবং এগুলো তিনি বিধর্মীদের মুখের উপর ছুঁড়ে মারলেন। এরপর বললেন, মুহাম্মাদ (ﷺ) -এর রবের কসম! তারা পরাজিত হয়েছে। ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, আমি যুদ্ধক্ষেত্রে যুদ্ধের অবস্থান পরিদর্শন করতে গিয়ে দেখলাম যে, যথারীতি যুদ্ধ চলছে। এমন সময় তিনি পাথরের টুকরাগুলো নিক্ষেপ করলেন। আল্লাহর শপথ! তখন হঠাৎ দেখি যে, কাফিরদের শক্তি নিস্তেজ হয়ে গেল এবং তাদের যুদ্ধের মোড় ঘুরে গেল।
ই.ফা. ৪৪৬১, ই.সে. ৪৪৬৩
