রেশম পরার বিধান
মোট হাদিস ১১০
রেশম পরার বিধান ও এই সম্পর্কিত প্রয়োজনীয় হাদিস
ইসলামিক বিধান অনুযায়ী পুরুষদের জন্য রেশমি কাপড় পরা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। রাসুলুল্লাহ (ﷺ) স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, দুনিয়াতে যে পুরুষ রেশম পরিধান করবে, আখিরাতে বা পরকালে তার কোনো অংশ থাকবে না। উমর (রাঃ) এবং আলী (রাঃ)-এর বর্ণিত হাদিস থেকে জানা যায়, নবী (ﷺ) রেশমি পোশাক উপহার দিলেও তা নিজে পরতে নিষেধ করেছেন এবং তারা এগুলো অন্যদের দান করে দিয়েছেন। অন্য একটি হাদিসে এসেছে, দুনিয়ার রেশমি পোশাকের চেয়ে জান্নাতে সা‘দ ইবন মু‘আয (রাঃ)-এর ব্যবহারের সাধারণ রুমালও অনেক বেশি চমৎকার ও উত্তম। ইসলামী বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নিষেধাজ্ঞা মূলত পুরুষদের জন্য প্রযোজ্য এবং নারীরা রেশমি কাপড় পরিধান করতে পারবেন।
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا يُونُسُ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا شَيْبَانُ، عَنْ قَتَادَةَ، حَدَّثَنَا أَنَسٌ ـ رضى الله عنه ـ قَالَ أُهْدِيَ لِلنَّبِيِّ ﷺ جُبَّةُ سُنْدُسٍ، وَكَانَ يَنْهَى عَنِ الْحَرِيرِ، فَعَجِبَ النَّاسُ مِنْهَا فَقَالَ «وَالَّذِي نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ لَمَنَادِيلُ سَعْدِ بْنِ مُعَاذٍ فِي الْجَنَّةِ أَحْسَنُ مِنْ هَذَا».
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) -কে একটি রেশমী জুব্বা হাদিয়া দেয়া হল। অথচ তিনি রেশমী কাপড় ব্যবহার করতে নিষেধ করতেন। এতে সাহাবীগণ খুশী হলেন। তখন তিনি বললেন, সেই সত্তার কসম! যার হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ, জান্নাতে সা‘দ ইবনু মু‘আযের রুমালগুলো এর চেয়ে উৎকৃষ্ট।
مُحَمَّدٌ أَخْبَرَنَا وَكِيعٌ أَخْبَرَنَا شُعْبَةُ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ أَنَسٍ قَالَ رَخَّصَ النَّبِيُّ ﷺ لِلزُّبَيْرِ وَعَبْدِ الرَّحْمٰنِ فِي لُبْسِ الْحَرِيرِ لِحِكَّةٍ بِهِمَا.
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) যুবায়র ও ‘আবদুর রহমান –কে তাঁদের চর্মরোগের কারণে রেশমী কাপড় পরিধান করার অনুমতি প্রদান করেছিলেন।
حَدَّثَنَا النُّفَيْلِيُّ، حَدَّثَنَا عِيسَى، - يَعْنِي ابْنَ يُونُسَ - عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي عَرُوبَةَ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ رَخَّصَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ لِعَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ وَلِلزُّبَيْرِ بْنِ الْعَوَّامِ فِي قُمُصِ الْحَرِيرِ فِي السَّفَرِ مِنْ حِكَّةٍ كَانَتْ بِهِمَا .
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ‘আবদুর রহমান ইবনু ‘আওফ ও যুবাইর ইবনুল ‘আওয়াম (রাঃ)-কে তাঁদের শরীরে চর্মরোগের কারণে সফরের সময় রেশমি পোশাক ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছেন।
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ، حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ يُونُسَ، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ رَأَيْتُ عَلَى زَيْنَبَ بِنْتِ رَسُولِ اللَّهِ ـ ﷺ ـ قَمِيصَ حَرِيرٍ سِيَرَاءَ.
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কন্যা যায়নাব (রাঃ)’র পরিধানে লাল রং-এর রেশমী কাপড়ের জামা দেখেছি।
[২৯৩০] সহীহুল বুখারী ৫৮৪২, নাসায়ী ৫২৯২, ৫২৯৭, আবূ দাউদ ৪০৫৮।
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَزُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، - وَهُوَ ابْنُ عُلَيَّةَ - عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ صُهَيْبٍ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ «مَنْ لَبِسَ الْحَرِيرَ فِي الدُّنْيَا لَمْ يَلْبَسْهُ فِي الآخِرَةِ».
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: যে লোক ইহকালে রেশম জাতীয় বস্ত্র পরে, আখিরাতে সে তা পরিধান করতে পারবে না।
ই.ফা. ৫২৫১, ই.সে. ৫২৬৪
وَحَدَّثَنَاهُ أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ رَخَّصَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ - أَوْ رُخِّصَ - لِلزُّبَيْرِ بْنِ الْعَوَّامِ وَعَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ فِي لُبْسِ الْحَرِيرِ لِحِكَّةٍ كَانَتْ بِهِمَا.
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যুবায়র ইবনু আও্ওয়াম ও আবদুর রহমান ইবনু আওফ (রাঃ) কে তাঁদের চর্ম (এলার্জি) রোগের দরুন রেশমী বস্ত্র ব্যবহারের সুযোগ দিয়েছেন। কিংবা তিনি বলেন, তাঁদের অনুমতি দেয়া হয়েছিল।
ই.ফা. ৫২৫৭, ই.সে. ৫২৭০
وَحَدَّثَنِي زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا عَفَّانُ، حَدَّثَنَا هَمَّامٌ، حَدَّثَنَا قَتَادَةُ، أَنَّ أَنَسًا، أَخْبَرَهُ أَنَّ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ عَوْفٍ وَالزُّبَيْرَ بْنَ الْعَوَّامِ شَكَوَا إِلَى رَسُولِ اللَّهِ ﷺ الْقَمْلَ فَرَخَّصَ لَهُمَا فِي قُمُصِ الْحَرِيرِ فِي غَزَاةٍ لَهُمَا .
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আবদুর রহমান ইবনু আওফ ও যুবায়র ইবনু আও্ওয়াম (রাঃ) নবী (ﷺ) এর কাছে (শরীরে) উকুনের অভিযোগ করলে তিনি তাঁদেরকে এক যুদ্ধে রেশমী কামিস (জামা) পরার অনুমতি দিয়েছেন।
ই.ফা. ৫২৫৯, ই.সে. ৫২৭২
أَخْبَرَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ حُرَيْثٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ يُونُسَ، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنْ الزُّهْرِيِّ، عَنْ أَنَسٍ قَالَ: «رَأَيْتُ عَلَى زَيْنَبَ بِنْتِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَمِيصَ حَرِيرٍ سِيَرَاءَ»...[حكم الألباني] شاذ والمحفوظ أم كلثوم مكان زينب
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি নাবী (ﷺ)-এর কন্যা যায়নাব-কে ডোরাকাটা রেশম কামীস পরিধান করতে দেখেছি।
أَخْبَرَنَا إِسْحَقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ: أَنْبَأَنَا عِيسَى بْنُ يُونُسَ، قَالَ: حَدَّثَنَا سَعِيدٌ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسٍ، «أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَرْخَصَ لِعَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ، وَالزُّبَيْرِ بْنِ الْعَوَّامِ فِي قُمُصِ حَرِيرٍ مِنْ حِكَّةٍ كَانَتْ بِهِمَا»
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) 'আবদুর রহমান ইবনু 'আওফ এবং যুবায়র ইবনুল 'আওয়াম (রাঃ)-কে রেশমী পোশাক পরিধানের অনুমতি দান করেছিলেন; কেননা তাঁদের চর্মরোগ হয়েছিল।
أَخْبَرَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ، قَالَ: حَدَّثَنَا خَالِدٌ، قَالَ: حَدَّثَنَا سَعِيدٌ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسٍ، «أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَخَّصَ لِعَبْدِ الرَّحْمَنِ، وَالزُّبَيْرِ فِي قُمُصِ حَرِيرٍ كَانَتْ بِهِمَا - يَعْنِي لِحِكَّةٍ -»
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
কৃতাদাহ্ (রহঃ) আনাস (রাঃ) হতে বর্ণনা করেন। নবী (ﷺ) আবদুর রহমান এবং যুবায়র (রাঃ)-কে তাঁদের চর্মরোগে আক্রান্ত হওয়ার দরুন রেশমী পোশাক ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছিলেন।
