নবী মুহাম্মদ ﷺ-এর রাতের রুটিন
মোট হাদিস ০৫
হাদিসের আলোকে নবী মুহাম্মদ ﷺ-এর রাতের রুটিন ও ইবাদত
হজরত আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত সহীহ হাদিসগুলোর মাধ্যমে আমরা প্রিয়নবী মুহাম্মদ ﷺ-এর রাতের রুটিন ও গভীর ইবাদতের এক অনন্য চিত্র জানতে পারি। কোনো এক রাতে উম্মুল মুমিনীন আয়েশা (রাঃ) রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে বিছানায় না পেয়ে খুঁজতে বের হন এবং দেখতে পান যে, তিনি দীর্ঘ রুকু বা সিজদারত অবস্থায় মহান আল্লাহর তাসবীহ পাঠ করছেন। অন্য এক রাতের বর্ণনায় এসেছে, নবীজি ﷺ গভীর রাতে আয়েশা (রাঃ) ঘুমিয়ে পড়েছেন মনে করে অত্যন্ত নিঃশব্দে জুতো ও চাদর নিয়ে ঘর থেকে বের হন। তিনি জিবরাইল (আঃ)-এর নির্দেশে জান্নাতুল বাকী কবরস্থানে যান, সেখানে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে হাত তুলে শায়িত মুমিনদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন। এই হাদিসগুলো প্রমাণ করে যে, রাতের একাংশ তিনি উম্মতের মাগফিরাত ও গভীর ইবাদতে অতিবাহিত করতেন।
أَخْبَرَنِي إِبْرَاهِيمُ بْنُ الْحَسَنِ الْمِقْسَمِيُّ، عَنْ حَجَّاجٍ، عَنْ ابْنِ جُرَيْجٍ، عَنْ عَطَاءٍ، أَخْبَرَنِي ابْنُ أَبِي مُلَيْكَةَ، عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: فَقَدْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ذَاتَ لَيْلَةٍ، فَظَنَنْتُ أَنَّهُ ذَهَبَ إِلَى بَعْضِ نِسَائِهِ، فَتَجَسَّسْتُهُ، فَإِذَا هُوَ رَاكِعٌ أَوْ سَاجِدٌ، يَقُولُ: «سُبْحَانَكَ وَبِحَمْدِكَ، لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ» فَقُلْتُ: بِأَبِي وَأُمِّي، إِنَّكَ لَفِي شَأْنٍ، وَإِنِّي لَفِي شَأْنٍ آخَرَ
'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
এক রাতে আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বিছানায় না পেয়ে মনে করলাম যে, হয়তো তিনি (ﷺ) তাঁর অন্য কোন স্ত্রীর কাছে গেছেন। অতঃপর আমি সন্ধান করে পেলাম যে, তিনি রুকূ' বা সিজদায় রত অবস্থায় বলছেন: “সুবহানাকা ওয়া বিহামদিকা, লা ইলাহা ইল্লা আনতা" [হে আল্লাহ! তোমার সপ্রশংস পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করছি, তুমি ব্যতীত কোন মাবুদ নেই।] এতে আমি বললাম, আমার পিতামাতা আপনার জন্য কুরবান হোক, আপনি আছেন এ অবস্থায় আর আমি আছি অন্য অবস্থায়।
أَخْبَرَنَا إِسْحَاقُ بْنُ مَنْصُورٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ قَالَ: أَنْبَأَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ قَالَ: أَخْبَرَنِي ابْنُ أَبِي مُلَيْكَةَ، أَنَّ عَائِشَةَ قَالَتْ: افْتَقَدْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ذَاتَ لَيْلَةٍ، فَظَنَنْتُ أَنَّهُ ذَهَبَ إِلَى بَعْضِ نِسَائِهِ، فَتَجَسَّسْتُ، ثُمَّ رَجَعْتُ، فَإِذَا هُوَ رَاكِعٌ أَوْ سَاجِدٌ، يَقُولُ: «سُبْحَانَكَ وَبِحَمْدِكَ، لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ» فَقُلْتُ: بِأَبِي وَأُمِّي إِنَّكَ لَفِي شَأْنٍ، وَإِنِّي لَفِي آخَرَ________________________________________
'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
এক রাতে আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বিছানায় না পেয়ে মনে করলাম যে, হয়তো তিনি (ﷺ) তাঁর অন্য কোন স্ত্রীর কাছে গিয়েছেন। অতঃপর আমি খোঁজ করে ফিরে আসলাম। তখন দেখতে পেলাম যে, তিনি (ﷺ) রুকূ' বা সিজদারত অবস্থায় আছেন এবং বলছেন: “সুবহা-নাকা ওয়াবিহামদিকা লা- ইলা-হা ইল্লা- আনতা" [হে আল্লাহ! তোমার সপ্রশংস পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করছি, তুমি ব্যতীত কোন মা'বুদ নেই। এতে আমি বললাম, আমার পিতামাতা আপনার জন্য কুরবান হোক। আপনি আছেন এ অবস্থায় আর আমি আছি অন্য অবস্থায়।
أَخْبَرَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ قَالَ: أَنْبَأَنَا ابْنُ وَهْبٍ قَالَ: أَخْبَرَنِي ابْنُ جُرَيْجٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ كَثِيرٍ، أَنَّهُ سَمِعَ مُحَمَّدَ بْنَ قَيْسٍ يَقُولُ: سَمِعْتُ عَائِشَةَ تَقُولُ: أَلَا أُحَدِّثُكُمْ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَعَنِّي؟ قُلْنَا: بَلَى، قَالَتْ: لَمَّا كَانَتْ لَيْلَتِي انْقَلَبَ، فَوَضَعَ نَعْلَيْهِ عِنْدَ رِجْلَيْهِ، وَوَضَعَ رِدَاءَهُ، وَبَسَطَ إِزَارَهُ عَلَى فِرَاشِهِ، وَلَمْ يَلْبَثْ إِلَّا رَيْثَمَا ظَنَّ أَنِّي قَدْ رَقَدْتُ، ثُمَّ انْتَعَلَ رُوَيْدًا، وَأَخَذَ رِدَاءَهُ رُوَيْدًا، ثُمَّ فَتَحَ الْبَابَ رُوَيْدًا وَخَرَجَ وَأَجَافَهُ رُوَيْدًا، وَجَعَلْتُ دِرْعِي فِي رَأْسِي فَاخْتَمَرْتُ، وَتَقَنَّعْتُ إِزَارِي، وَانْطَلَقْتُ فِي إِثْرِهِ حَتَّى جَاءَ الْبَقِيعَ، فَرَفَعَ يَدَيْهِ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ، وَأَطَالَ الْقِيَامَ، ثُمَّ انْحَرَفَ، وَانْحَرَفْتُ، فَأَسْرَعَ فَأَسْرَعْتُ، فَهَرْوَلَ فَهَرْوَلْتُ، فَأَحْضَرَ فَأَحْضَرْتُ، وَسَبَقْتُهُ فَدَخَلْتُ، وَلَيْسَ إِلَّا أَنْ اضْطَجَعْتُ فَدَخَلَ، فَقَالَ: «مَا لَكِ يَا عَائِشُ رَابِيَةً؟» قَالَ: سُلَيْمَانُ حَسِبْتُهُ قَالَ: حَشْيَا قَالَ: «لَتُخْبِرِنِّي أَوْ لَيُخْبِرَنِّي اللَّطِيفُ الْخَبِيرُ؟» قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، بِأَبِي أَنْتَ وَأُمِّي، فَأَخْبَرْتُهُ الْخَبَرَ، قَالَ: «أَنْتِ السَّوَادُ الَّذِي رَأَيْتُ أَمَامِي؟» قُلْتُ: نَعَمْ، قَالَتْ: فَلَهَدَنِي لَهْدَةً فِي صَدْرِي أَوْجَعَتْنِي، قَالَ: أَظَنَنْتِ أَنْ يَحِيفَ اللَّهُ عَلَيْكِ وَرَسُولُهُ، قَالَتْ: مَهْمَا يَكْتُمُ النَّاسُ فَقَدْ عَلِمَهُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ؟ قَالَ: «نَعَمْ»، قَالَ: «فَإِنَّ جِبْرِيلَ عَلَيْهِ السَّلَامُ أَتَانِي حِينَ رَأَيْتِ، وَلَمْ يَكُنْ يَدْخُلُ عَلَيْكِ، وَقَدْ وَضَعْتِ ثِيَابَكِ فَنَادَانِي، فَأَخْفَى مِنْكِ فَأَجَبْتُهُ، وَأَخْفَيْتُهُ مِنْكِ، وَظَنَنْتُ أَنَّكِ قَدْ رَقَدْتِ، فَكَرِهْتُ أَنْ أُوقِظَكِ، وَخَشِيتُ أَنْ تَسْتَوْحِشِي، فَأَمَرَنِي أَنْ آتِيَ أَهْلَ الْبَقِيعِ، فَأَسْتَغْفِرَ لَهُمْ» خَالَفَهُ حَجَّاجُ بْنُ مُحَمَّدٍ فَقَالَ: عَنْ ابْنِ جُرَيْجٍ، عَنْ ابْنِ أَبِي مُلَيْكَةَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ قَيْسٍ "
'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
মুহাম্মাদ ইবনু ক্বায়স (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি 'আয়িশাহ্ (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: নাবী (ﷺ) এবং আমার সম্পর্কে কি তোমাদেরকে একটি ঘটনা বর্ণনা করব না? আমরা বললাম, হ্যাঁ অবশ্যই? তিনি বললেন: তিনি (ﷺ) আমার পালার একরাতে আমার কাছে আসলেন। তারপর তাঁর জুতা পায়ের কাছে রাখলেন, তাঁর চাদর রাখলেন এবং তাঁর একটি লুঙ্গি বিছানার উপর বিছালেন। তারপর তিনি ততক্ষণ অবস্থান করলেন যতক্ষণ তাঁর ধারণা হলো যে, আমি ঘুমিয়ে পড়েছি।তারপর উঠে জুতা পরলেন এবং তাঁর চাদর নিলেন। তারপর ধীরে ধীরে দরজা খুলে বের হলেন এবং আস্তে করে দরজা চাপিয়ে দিলেন। আর আমি মাথার উপর দিয়ে জামা পরলাম, ওড়না পরলাম এবং চাদর গায়ে দিলাম ও তাঁর পিছনে অনুসরণ করলাম। তিনি বাক্বী' (নামক) কবরস্থানে এসে তিনবার হাত উঠালেন ও অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলেন, তারপর ফিরে আসছিলেন। আমিও ফিরে আসছিলাম। তিনি (ﷺ) একটু তীব্রগতিতে চলতে লাগলেন, আমিও তীব্রগতিতে চললাম, তিনি দৌড়ালেন, আমিও দৌড়ালাম। তিনি পৌঁছে গেলেন, তবে আমি তাঁর আগে পৌঁছলাম। ঘরে প্রবেশ করেই বিছানায় শুয়ে পড়লাম।তিনিও প্রবেশ করলেন এবং বললেন: হে 'আয়িশাহ্! তোমার যে কি হয়েছে তোমার শ্বাস-প্রশ্বাস বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্ণনাকারী সুলায়মান বলেন, আমি ধারণা করছি ইবনু ওয়াহ্ব رَابِيَةً-এর পরিবর্তে حَشْيَا দ্রুত চলার কারণে 'হাঁপিয়ে ওঠা' শব্দটি বলেছেন। তিনি (ﷺ) বললেন, (ঘটনা কি বল), নয় তো আল্লাহ যিনি সূক্ষ্মদর্শী ও সর্বজ্ঞ, তিনিই আমাকে জানিয়ে দিবেন। আমি বললাম, আমার বাবা-মা আপনার প্রতি কুরবান হোক, অতঃপর আমি তাঁকে ঘটনাটি জানালাম। তিনি (ﷺ) বললেন, তাহলে তুমিই সেই ছায়া যা আমার সামনে দেখছিলাম? আমি বললাম, হ্যাঁ।'আয়িশাহ্ (রাঃ) বললেন, এরপর তিনি (ﷺ) আমার বুকে একটি চাপড়াঘাত করলেন যা আমাকে ব্যথিত করল। তারপর তিনি (ﷺ) বললেন: তুমি কি ধারণা করেছ যে, আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল (ﷺ) তোমার ওপর অন্যায় করবে? 'আয়িশাহ্ (রাঃ) বললেন, মানুষ যতই গোপন রাখুক না কেন, আল্লাহ তা অবশ্যই জানেন। তিনি বললেন, হ্যাঁ।রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন: তুমি যখন আমাকে দেখছিলে তখন জিবরীল (আঃ) আমার কাছে এসেছিলেন। তোমার [শুয়ে যাওয়ায়] কাপড় খোলার কারণে জিবরীল (আঃ) ঘরে প্রবেশ করেননি। তোমার থেকে গোপনে আমাকে ডাকলেন, বিধায় আমিও তোমার থেকে গোপনে জবাব গেলাম। মনে করলাম, তুমি ঘুমিয়ে পড়েছ; তাই তোমাকে জাগিয়ে দেয়াটা পছন্দ করলাম না এবং এ ভয়ও ছিল যে, তুমি একাকিত্ব বোধ করবে। জিবরীল (আঃ) আমাকে নির্দেশ দিলে আমি বাক্বী'তে অবস্থানকারীদের [বাক্বী' নামক কবরস্থানে শায়িতদের] কাছে যাই এবং তাদের রবের কাছে তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করি।
حَدَّثَنَا يُوسُفُ بْنُ سَعِيدِ بْنِ مُسْلِمٍ الْمِصِّيصِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا حَجَّاجٌ، عَنْ ابْنِ جُرَيْجٍ، أَخْبَرَنِي عَبْدُ اللَّهِ ابْنُ أَبِي مُلَيْكَةَ، أَنَّهُ سَمِعَ مُحَمَّدَ بْنَ قَيْسِ بْنِ مَخْرَمَةَ يَقُولُ: سَمِعْتُ عَائِشَةَ تُحَدِّثُ، قَالَتْ: أَلَا أُحَدِّثُكُمْ عَنِّي، وَعَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ؟ قُلْنَا: بَلَى، قَالَتْ: لَمَّا كَانَتْ لَيْلَتِي الَّتِي هُوَ عِنْدِي - تَعْنِي النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ - انْقَلَبَ، فَوَضَعَ نَعْلَيْهِ عِنْدَ رِجْلَيْهِ، وَوَضَعَ رِدَاءَهُ، وَبَسَطَ طَرَفَ إِزَارِهِ عَلَى فِرَاشِهِ، فَلَمْ يَلْبَثْ إِلَّا رَيْثَمَا ظَنَّ أَنِّي قَدْ رَقَدْتُ، ثُمَّ انْتَعَلَ رُوَيْدًا، وَأَخَذَ رِدَاءَهُ رُوَيْدًا، ثُمَّ فَتَحَ الْبَابَ رُوَيْدًا، وَخَرَجَ وَأَجَافَهُ رُوَيْدًا، وَجَعَلْتُ دِرْعِي فِي رَأْسِي، وَاخْتَمَرْتُ، وَتَقَنَّعْتُ إِزَارِي، فَانْطَلَقْتُ فِي إِثْرِهِ حَتَّى جَاءَ الْبَقِيعَ، فَرَفَعَ يَدَيْهِ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ وَأَطَالَ الْقِيَامَ، ثُمَّ انْحَرَفَ فَانْحَرَفْتُ، فَأَسْرَعَ فَأَسْرَعْتُ، فَهَرْوَلَ فَهَرْوَلْتُ، فَأَحْضَرَ فَأَحْضَرْتُ، وَسَبَقْتُهُ فَدَخَلْتُ، فَلَيْسَ إِلَّا أَنْ اضْطَجَعْتُ، فَدَخَلَ فَقَالَ: «مَا لَكِ يَا عَائِشَةُ حَشْيَا رَابِيَةً؟» قَالَتْ: لَا، قَالَ: «لَتُخْبِرِنِّي أَوْ لَيُخْبِرَنِّي اللَّطِيفُ الْخَبِيرُ؟» قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، بِأَبِي أَنْتَ وَأُمِّي، فَأَخْبَرْتُهُ الْخَبَرَ، قَالَ: «فَأَنْتِ السَّوَادُ الَّذِي رَأَيْتُهُ أَمَامِي؟» قَالَتْ: نَعَمْ، قَالَتْ: فَلَهَدَنِي فِي صَدْرِي لَهْدَةً أَوْجَعَتْنِي، ثُمَّ قَالَ: «أَظَنَنْتِ أَنْ يَحِيفَ اللَّهُ عَلَيْكِ وَرَسُولُهُ» قَالَتْ: مَهْمَا يَكْتُمُ النَّاسُ فَقَدْ عَلِمَهُ اللَّهُ؟ قَالَ: «نَعَمْ». قَالَ: «فَإِنَّ جِبْرِيلَ عَلَيْهِ السَّلَامُ أَتَانِي حِينَ رَأَيْتِ، وَلَمْ يَكُنْ يَدْخُلُ عَلَيْكِ، وَقَدْ وَضَعْتِ ثِيَابَكِ فَنَادَانِي، فَأَخْفَى مِنْكِ، فَأَجَبْتُهُ فَأَخْفَيْتُ مِنْكِ، فَظَنَنْتُ أَنْ قَدْ رَقَدْتِ، وَخَشِيتُ أَنْ تَسْتَوْحِشِي، فَأَمَرَنِي أَنْ آتِيَ أَهْلَ الْبَقِيعِ، فَأَسْتَغْفِرَ لَهُمْ» رَوَاهُ عَاصِمٌ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَامِرٍ، عَنْ عَائِشَةَ عَلَى غَيْرِ هَذَا اللَّفْظِ
'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
মুহাম্মাদ ইবনু কায়স ইবনু মাখরামাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, 'আয়িশাহ্ (রাঃ) বলেন যে, আমি কি তোমাকে নাবী (ﷺ) এবং আমার সম্পর্কে একটি ঘটনা বর্ণনা করব না? আমরা বললাম, হ্যাঁ, অবশ্যই? তিনি বললেন: যে রাতে নাবী (ﷺ) -এর আমার সাথে থাকার কথা, সেই রাত যখন এলো, তিনি (ﷺ) আসলেন। তারপর তাঁর জুতা পায়ের কাছে রাখলেন। চাদর খুলে রাখলেন। লুঙ্গির এক পার্শ্ব বিছানার উপর বিছালেন। তারপর ততক্ষণ অবস্থান করলেন, যতক্ষণ না তাঁর মনে হলো আমি ঘুমিয়ে পড়েছি।তারপর আস্তে করে জুতা পরলেন, আস্তে করে চাদর নিলেন, তারপর আস্তে করে দরজা খুলে বের হলেন এবং আস্তে করে দরজা বন্ধ করলেন। আর আমি মাথার দিক থেকে আমার কামিজটি পরিধান করলাম, ওড়না পরলাম, চাদরটি গায়ে দিয়ে আবৃত হলাম, তারপর তাঁর পিছনে চলতে লাগলাম। তিনি বাক্বী' কবরস্থান পর্যন্ত আসলেন এবং তিনবার হাত উঠালেন, বহুক্ষণ দাঁড়িয়ে রইলেন, তারপর ফিরে আসছিলেন। আমিও ফিরে আসছিলাম, তিনি (ﷺ) তীব্রগতিতে হাঁটলে আমিও তীব্র গতিতে চললাম। তিনি (ﷺ) একটু দৌড়ে চললেন, আমিও একটু দৌড়ে চললাম। পরিশেষে তিনি (ﷺ) বাড়িতে পৌঁছে গেলেন। তবে তাঁর আগেই আমি পৌঁছলাম। ঘরে প্রবেশ করেই শুয়ে পরলাম।তিনিও প্রবেশ করে বললেন: হে 'আয়িশাহ্! তোমার কি হয়েছে, তুমি হাঁপাচ্ছ যে? 'আয়িশাহ্ (রাঃ) বললেন, না তো। তিনি (ﷺ) বললেন, হয় তুমি আমাকে বল, নয়ত আমাকে সূক্ষ্মদর্শী ও সর্বজ্ঞ সত্তা সে বিষয়ে সংবাদ দিব। আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আমার বাবা-মা আপনার জন্য কুরবান হোক এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বিষয়টি খুলে বললাম। তিনি (ﷺ) বললেন, তাহলে তুমিই সেই ছায়া যা আমি আমার সামনে দেখেছিলাম। 'আয়িশাহ্ (রাঃ) বললেন: হ্যাঁ।তিনি বলেন, তখন তিনি আমার বুকের উপর একটি চাপড়াঘাত করলেন, যা আমাকে ব্যথিত করল। এরপর তিনি (ﷺ) বললেন: তোমার কি ধারণা যে, আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল (ﷺ) তোমার ওপর অন্যায় করবেন? 'আয়িশাহ্ (রাঃ) বললেন, মানুষ যতই গোপন করুক, আল্লাহ তা অবশ্যই জানেন। তিনি (ﷺ) বললেন, হ্যাঁ।তারপর বললেন, তুমি যখন আমাকে দেখছিলে তখন জিবরীল (আঃ) আমার কাছে এসেছিলেন, তখন তুমি পোশাক রেখেছিলে বিধায় জিবরীল (আঃ) ঘরে প্রবেশ করেনি। তিনি তোমার থেকে গোপনে আমাকে ডাকলেন, আমিও তোমার থেকে গোপনে ছিলাম। আমি মনে করলাম, তুমি ঘুমিয়ে পড়েছ এবং ভয় করলাম যে, তোমাকে জাগিয়ে দিলে একাকিত্ব অনুভব করবে। জিবরীল (আঃ) আমাকে বাকী' কবরস্থানের কাছে যাওয়ার নির্দেশ দেন, যেন আমি তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করি।
أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ قَالَ: أَنْبَأَنَا شَرِيكٌ، عَنْ عَاصِمٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَامِرِ بْنِ رَبِيعَةَ، عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: فَقَدْتُهُ مِنَ اللَّيْلِ وَسَاقَ الْحَدِيثَ
'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
'আবদুল্লাহ ইবনু 'আমির ইবনু রবী'আহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি 'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, এক রাতে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বিছানায় পেলাম না। তারপর তিনি পুরো হাদীস বর্ণনা দেন।
