নামাজে সুতরা
মোট হাদিস ১০
নামাজে সুতরা রাখার নিয়ম ও সহীহ হাদিসের আলোকপাত
সালাত বা নামাজ আদায়ের সময় সামনে সুতরা বা আড়াল রাখা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাহ। বর্ণিত সহীহ হাদিস অনুযায়ী, তাবুক যুদ্ধের সময় রাসুলুল্লাহ (ﷺ)-কে সালাতের সুতরা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি জানান যে, এর উচ্চতা হাওদার পেছনের কাঠের মতো হওয়া উচিত। অন্য একটি বর্ণনায় পাওয়া যায়, আল্লাহর নবী (ﷺ) ময়দানে বর্শার ফলা পুঁতে তার দিকে মুখ করে সালাত আদায় করতেন। ইসলামিক স্কলারদের মতে, সুতরা ব্যবহারের মূল উদ্দেশ্য হলো সালাতকে শয়তানের প্ররোচনা থেকে মুক্ত রাখা। রাসুলুল্লাহ (ﷺ) নির্দেশ দিয়েছেন যে, যখন কেউ সুতরার দিকে মুখ করে সালাত আদায় করবে, সে যেন তার নিকটবর্তী হয়ে দাঁড়ায়, যাতে শয়তান তার সালাত বিনষ্ট বা একাগ্রতা নষ্ট করতে না পারে। তাই সঠিক নিয়মে সালাত সম্পন্ন করতে সুতরা ব্যবহার করা প্রতিটি মুসলিমের জন্য আবশ্যক।
يَحْيَى بْنُ قَزَعَةَ حَدَّثَنَا مَالِكٌ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ وَقَالَ اللَّيْثُ حَدَّثَنِيْ يُوْنُسُ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ حَدَّثَنِيْ عُبَيْدُ اللهِ بْنُ عَبْدِ اللهِ أَنَّ عَبْدَ اللهِ بْنَ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا أَخْبَرَهُ أَنَّهُ أَقْبَلَ يَسِيْرُ عَلَى حِمَارٍ وَرَسُوْلُ اللهِ ﷺ قَائِمٌ بِمِنًى فِيْ حَجَّةِ الْوَدَاعِ يُصَلِّيْ بِالنَّاسِ فَسَارَ الْحِمَارُ بَيْنَ يَدَيْ بَعْضِ الصَّفِّ ثُمَّ نَزَلَ عَنْهُ فَصَفَّ مَعَ النَّاسِ.
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি গাধায় চড়ে রওয়ানা হন এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বিদায় হজকালে মিনায় দাঁড়িয়ে লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করছিলেন। তখন গাধাটি সালাতের একটি কাতারের সামনে এসে পড়ে। এরপর তিনি গাধার পিঠ থেকে নেমে পড়েন এবং তিনি লোকদের সঙ্গে সালাতের কাতারে শামিল হন।
أَخْبَرَنَا الْعَبَّاسُ بْنُ مُحَمَّدٍ الدُّورِيُّ قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يَزِيدَ قَالَ: حَدَّثَنَا حَيْوَةُ بْنُ شُرَيْحٍ، عَنْ أَبِي الْأَسْوَدِ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ: سُئِلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي غَزْوَةِ تَبُوكَ عَنْ سُتْرَةِ الْمُصَلِّي فَقَالَ: «مِثْلُ مُؤْخِرَةِ الرَّحْلِ»
'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তাবুক যুদ্ধে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে সালাতের সুতরা সম্বন্ধে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, তা হাওদার পেছনের কাঠের মতো।
[১] খোলা জায়গায় সালাত আদায় করার সময় মুসল্লীর সামনে কিছু সুতরা (আড়াল) থাকা উচিত। সুতরা অন্তত এক হাত লম্বা ও আঙ্গুল পরিমিত মোটা হলেই চলে। জামাআতের সালাতে ইমামের সুতরা মুসল্লীদের জন্য যথেষ্ট।
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ، قَالَ حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ كَانَ تُرْكَزُ الْحَرْبَةُ قُدَّامَهُ يَوْمَ الْفِطْرِ وَالنَّحْرِ ثُمَّ يُصَلِّي.
ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
ঈদুল ফিতর ও কুরবানীর দিন নবী (ﷺ) এর সামনে যুদ্ধের হাতিয়ার রেখে দেয়া হত। অতঃপর তিনি সালাত আদায় করতেন।
حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ الْمُنْذِرِ، قَالَ حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو عَمْرٍو، قَالَ أَخْبَرَنِي نَافِعٌ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ كَانَ النَّبِيُّ ﷺ يَغْدُو إِلَى الْمُصَلَّى، وَالْعَنَزَةُ بَيْنَ يَدَيْهِ، تُحْمَلُ وَتُنْصَبُ بِالْمُصَلَّى بَيْنَ يَدَيْهِ فَيُصَلِّي إِلَيْهَا.
ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
ঈদুল ফিতর ও কুরবানীর দিন নবী (ﷺ) এর সামনে বর্শা পুঁতে দেয়া হত। অতঃপর তিনি সালাত আদায় করতেন।
أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ قَالَ: حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ قَالَ: أَنْبَأَنَا نَافِعٌ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «كَانَ يَرْكُزُ الْحَرْبَةَ، ثُمَّ يُصَلِّي إِلَيْهَا»
ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
ইবনু 'উমর (রাঃ)-এর সূত্রে নাবী (ﷺ) হতে বর্ণিত। তিনি বর্শার ফলা পুঁতে তার দিকে মুখ করে সালাত আদায় করতেন।
أَخْبَرَنَا إِسْحَقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ: أَنْبَأَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، قَالَ: أَنْبَأَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنْ ابْنِ عُمَرَ، «أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يُخْرِجُ الْعَنَزَةَ يَوْمَ الْفِطْرِ، وَيَوْمَ الْأَضْحَى يُرْكِزُهَا فَيُصَلِّي إِلَيْهَا»
ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ঈদুল ফিতর এবং ঈদুল আযহার দিনে একটি লাঠি বের করতেন। তা মাটিতে পুঁতে দিতেন এবং তা সামনে রেখে সালাত আদায় করতেন।
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ وَالْحَارِثُ بْنُ مِسْكِينٍ قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ، عَنِ ابْنِ الْقَاسِمِ قَالَ: حَدَّثَنِي مَالِكٌ، عَنْ نَافِعٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، " أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ دَخَلَ الْكَعْبَةَ هُوَ وَأُسَامَةُ بْنُ زَيْدٍ وَبِلَالٌ وَعُثْمَانُ بْنُ طَلْحَةَ الْحَجَبِيُّ فَأَغْلَقَهَا عَلَيْهِ، قَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ: فَسَأَلْتُ بِلَالًا حِينَ خَرَجَ مَاذَا صَنَعَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ؟ قَالَ: جَعَلَ عَمُودًا عَنْ يَسَارِهِ وَعَمُودَيْنِ عَنْ يَمِينِهِ وَثَلَاثَةَ أَعْمِدَةٍ وَرَاءَهُ، وَكَانَ الْبَيْتُ يَوْمَئِذٍ عَلَى سِتَّةِ أَعْمِدَةٍ، ثُمَّ صَلَّى وَجَعَلَ بَيْنَهُ وَبَيْنَ الْجِدَارِ نَحْوًا مِنْ ثَلَاثَةِ أَذْرُعٍ»
‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) উসামাহ্ ইবনু যায়দ, বিলাল ও 'উসমান ইবনু ত্বলহাহ্ আল হাজাবী (রাঃ) কা'বায় প্রবেশ করলেন এবং তার দরজা বন্ধ করে দিলেন। 'আবদুল্লাহ ইবন 'উমর বলেন, বিলাল যখন বের হলেন তখন আমি তাঁকে প্রশ্ন করলাম, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কি করলেন? বিলাল (রাঃ) বললেন, তিনি একটি খুঁটি তাঁর বাম দিকে, দু'টি খুঁটি তাঁর ডান দিকে রাখলেন আর তিনটি খুঁটি তাঁর পেছনে রেখে সালাত আদায় করলেন। তাঁর মাঝে ও দেয়ালের মাঝে দূরত্ব ছিল তিন হাত।
أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عَلِيٍّ قَالَ: أَنْبَأَنَا يَزِيدُ قَالَ: حَدَّثَنَا يُونُسُ، عَنْ حُمَيْدِ بْنِ هِلَالٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الصَّامِتِ، عَنْ أَبِي ذَرٍّ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِذَا كَانَ أَحَدُكُمْ قَائِمًا يُصَلِّي فَإِنَّهُ يَسْتُرُهُ إِذَا كَانَ بَيْنَ يَدَيْهِ مِثْلُ آخِرَةِ الرَّحْلِ، فَإِنْ لَمْ يَكُنْ بَيْنَ يَدَيْهِ مِثْلُ آخِرَةِ الرَّحْلِ فَإِنَّهُ يَقْطَعُ صَلَاتَهُ الْمَرْأَةُ وَالْحِمَارُ وَالْكَلْبُ الْأَسْوَدُ». قُلْتُ: مَا بَالُ الْأَسْوَدِ مِنَ الْأَصْفَرِ مِنَ الْأَحْمَرِ؟ فَقَالَ: سَأَلْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَمَا سَأَلْتَنِي , فَقَالَ: «الْكَلْبُ الْأَسْوَدُ شَيْطَانٌ»
আবূ যার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: তোমাদের কেউ যখন সালাত আদায় করার জন্যে দাঁড়ায় তখন সে নিজেকে আড়াল করে নিবে যদি তার সামনে হাওদার পেছনের কাঠের মতো কিছু থাকে। যদি তার সামনে হাওদার পেছন দিকের কাঠের মতো কিছু না থাকে তাহলে তার সালাত নষ্ট করবে নারী, গাধা এবং কালো কুকুর। আমি বললাম, লাল ও হলদে কুকুরের তুলনায় কালো কুকুরের অবস্থান কি? তিনি বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে প্রশ্ন করেছিলাম, যেমন তুমি আমাকে প্রশ্ন করেছ। তখন তিনি (ﷺ) বললেন, কালো কুকুর শয়তান।
[১] স্ত্রীলোক দৃষ্টি আকর্ষণকারিণী, গাধার স্বর কর্কশ এবং কুকুর ভীতির কারণ। এজন্য বলা হয়েছে যে, এগুলো সালাত বিনষ্টকারী। সালাত বিনষ্ট দ্বারা সালাতের একাগ্রতা নষ্ট হওয়া বুঝানো হয়েছে।
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ قَالَ: حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَوْنِ بْنِ أَبِي جُحَيْفَةَ، عَنْ أَبِيهِ، «أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَرَجَ فِي حُلَّةٍ حَمْرَاءَ، فَرَكَزَ عَنَزَةً فَصَلَّى إِلَيْهَا يَمُرُّ مِنْ وَرَائِهَا الْكَلْبُ وَالْمَرْأَةُ وَالْحِمَارُ»
আবূ জুহাইফাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) লাল ডোরাযুক্ত জুব্বা পরে বের হলেন এবং একটি তীর পুঁতে তার দিকে সালাত আদায় করলেন, যার অপর দিক দিয়ে কুকুর, নারী এবং গাধা যাতায়াত করছিল।
أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ وَإِسْحَاقُ بْنُ مَنْصُورٍ قَالَا: حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ صَفْوَانَ بْنِ سُلَيْمٍ، عَنْ نَافِعِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنْ سَهْلِ بْنِ أَبِي حَثْمَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِذَا صَلَّى أَحَدُكُمْ إِلَى سُتْرَةٍ فَلْيَدْنُ مِنْهَا لَا يَقْطَعَ الشَّيْطَانُ عَلَيْهِ صَلَاتَهُ»
সাহল ইবনু আবূ হাসমাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: যখন তোমাদের কেউ সুতরার দিকে মুখ করে সালাত আদায় করে তখন সে যেন তার নিকটবর্তী হয়। তাহলে শয়তান তার সালাত বিনষ্ট করতে পারবে না।
