দান ও উপহারের নিয়ম

মোট হাদিস ৫১

ইসলামে দান ও উপহার দেওয়ার সহীহ হাদিস ও নিয়ম

পবিত্র ইসলাম ধর্মে দান ও উপহার আদান-প্রদানের ক্ষেত্রে অত্যন্ত সুস্পষ্ট ও চমৎকার নিয়ম বর্ণনা করা হয়েছে। বর্ণিত সহীহ হাদিসগুলোর আলোকে আমরা জানতে পারি যে, একজন বিশ্বস্ত মুসলিম খাজাঞ্চী বা কোষাধ্যক্ষ যখন তার মালিকের নির্দেশ অনুযায়ী খুশি মনে সম্পূর্ণ সদকা নির্দিষ্ট ব্যক্তির কাছে পৌঁছে দেন, তখন তিনিও নির্দেশদাতার মতো সমপরিমাণ সদকার সওয়াব লাভ করেন। এছাড়া, ইসলামে সদকা এবং উপহার বা হাদিয়ার মধ্যে সুন্দর পার্থক্য রয়েছে। সদকা হিসেবে প্রাপ্ত কোনো জিনিস যখন মূল মালিকের হাত ঘুরে অন্য কাউকে হাদিয়া বা উপহার হিসেবে দেওয়া হয়, তখন তা গ্রহণ করা সম্পূর্ণ বৈধ। যেমনটি নবী করীম (সা.)-এর যুগে উম্মুল মুমিনীন আয়েশা (রা.)-এর নিকট প্রেরিত গোশতের ক্ষেত্রে ঘটেছিল। তবে ইসলামের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম হলো, মহানবী (সা.) এবং তাঁর সম্মানিত বংশধরদের জন্য সদকা গ্রহণ বা ভক্ষণ করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ছিল। আল্লাহর রাসূল (সা.) তাঁর প্রিয় দৌহিত্র হাসান ও হুসাইন (রা.)-এর মুখ থেকে সদকার খেজুর বের করে দিয়ে উম্মতকে এই পবিত্র নিয়মটি শিক্ষা দিয়েছেন।

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ مُوسَى، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسٍ ـ رضى الله عنه ـ أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ أُتِيَ بِلَحْمٍ تُصُدِّقَ بِهِ عَلَى بَرِيرَةَ فَقَالَ «هُوَ عَلَيْهَا صَدَقَةٌ، وَهُوَ لَنَا هَدِيَّةٌ ".وَقَالَ أَبُو دَاوُدَ أَنْبَأَنَا شُعْبَةُ، عَنْ قَتَادَةَ، سَمِعَ أَنَسًا، عَنِ النَّبِيِّ ﷺ.

আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

বারীরাহ (রাঃ)-কে সদকাকৃত গোশতের কিছু আল্লাহ্‌র রাসূল (ﷺ)-কে দেয়া হল। তিনি বললেন, তা বারীরাহ’র জন্য সদকা এবং আমাদের জন্য হাদিয়া। আবূ দাঊদ (রহঃ) বললেন যে, শু’বাহ (রহঃ) কাতাদা (রহঃ) সূত্রে আনাস (রাঃ)-এর মাধ্যমে নবী (ﷺ) হতে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، وَمُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، - الْمَعْنَى - قَالاَ حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ كَانَ يَمُرُّ بِالتَّمْرَةِ الْعَائِرَةِ فَمَا يَمْنَعُهُ مِنْ أَخْذِهَا إِلاَّ مَخَافَةُ أَنْ تَكُونَ صَدَقَةً.

আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) রাস্তায় পড়ে থাকা একটি খেজুরের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তিনি শুধু এ কারণেই তুলে নেননি যে, হয়ত ওটা যাকাতের (খেজুর)।

حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ، أَخْبَرَنَا أَبِي، عَنْ خَالِدِ بْنِ قَيْسٍ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ وَجَدَ تَمْرَةً فَقَالَ " لَوْلاَ أَنِّي أَخَافُ أَنْ تَكُونَ صَدَقَةً لأَكَلْتُهَا " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ رَوَاهُ هِشَامٌ عَنْ قَتَادَةَ هَكَذَا.

আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) পথে একটি খেজুর পেয়ে বলেনঃ আমি এটি যাকাতের খেজুর হওয়ার আশংকা না করলে এটি খেতাম।

حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ مَرْزُوقٍ، قَالَ أَخْبَرَنَا شُعْبَةُ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ أُتِيَ بِلَحْمٍ قَالَ " مَا هَذَا " . قَالُوا شَىْءٌ تُصُدِّقَ بِهِ عَلَى بَرِيرَةَ فَقَالَ " هُوَ لَهَا صَدَقَةٌ وَلَنَا هَدِيَّةٌ " .

আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) খিদমাতে গোশত পেশ করা হলে তিনি জিজ্ঞেস করলেন : এটা কি ধরনের গোশত? লোকেরা বললো, এটা বারীরাহকে সদকা দেয়া হয়েছিলো। তিনি বললেনঃ এটা তাঁর জন্য সদকা, কিন্তু আমাদের জন্য উপঢৌকন।

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، وَابْنُ، بَشَّارٍ قَالاَ حَدَّثَنَا مُعَاذُ بْنُ هِشَامٍ، حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ وَجَدَ تَمْرَةً فَقَالَ " لَوْلاَ أَنْ تَكُونَ صَدَقَةً لأَكَلْتُهَا " .

আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

নবী (ﷺ) একটি খেজুর দেখতে পেয়ে বললেন, এটা যদি সদাক্বার খেজুর হওয়ার সম্ভাবনা না থাকত তাহলে আমি এটা তুলে খেয়ে নিতাম। (এভাবে নষ্ট হতে দিতাম না)।

ই. ফা. ২৩৪৮, ই. সে. ২৩৪৮

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدٍ الْمُحَارِبِيُّ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ فُضَيْلٍ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ حَبِيبِ بْنِ أَبِي ثَابِتٍ، عَنْ كُرَيْبٍ، مَوْلَى ابْنِ عَبَّاسٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ بَعَثَنِي أَبِي إِلَى النَّبِيِّ ﷺ فِي إِبِلٍ أَعْطَاهَا إِيَّاهُ مِنَ الصَّدَقَةِ .

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

আমার পিতা আমাকে রাসূলুল্লাহর (ﷺ) নিকট কিছু উটের জন্য প্রেরণ করেন- যা তিনি তাঁকে যাকাতের মাল হতে দান করেছিলেন।

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاَءِ، وَعُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، قَالاَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدٌ، - هُوَ ابْنُ أَبِي عُبَيْدَةَ - عَنْ أَبِيهِ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ سَالِمٍ، عَنْ كُرَيْبٍ، مَوْلَى ابْنِ عَبَّاسٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، نَحْوَهُ زَادَ أَبِي يُبْدِلُهَا لَهُ.

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

অনুরূপ বর্ণিত। তাতে এ কথাটি অতিরিক্ত আছে : (বর্ণনাকারী মুহাম্মাদ ইবনু আবূ ‘উবাইদাহ বলেন,) আমার পিতার বর্ণনায় আছে: নবী (ﷺ) তাঁর জন্য তা পরিবর্তন করে নিয়েছেন।

حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْحَسَنِ الأَسَدِيُّ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ طَهْمَانَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ زِيَادٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ـ رضى الله عنه ـ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ يُؤْتَى بِالتَّمْرِ عِنْدَ صِرَامِ النَّخْلِ فَيَجِيءُ هَذَا بِتَمْرِهِ وَهَذَا مِنْ تَمْرِهِ حَتَّى يَصِيرَ عِنْدَهُ كَوْمًا مِنْ تَمْرٍ، فَجَعَلَ الْحَسَنُ وَالْحُسَيْنُ ـ رضى الله عنهما ـ يَلْعَبَانِ بِذَلِكَ التَّمْرِ، فَأَخَذَ أَحَدُهُمَا تَمْرَةً، فَجَعَلَهَا فِي فِيهِ، فَنَظَرَ إِلَيْهِ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ فَأَخْرَجَهَا مِنْ فِيهِ فَقَالَ «أَمَا عَلِمْتَ أَنَّ آلَ مُحَمَّدٍ ﷺ لاَ يَأْكُلُونَ الصَّدَقَةَ ‏"‏‏.‏

আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

খেজুর কাটার মৌসুমে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে (সদকার) খেজুর আনা হতো। অমুকে তার খেজুর নিয়ে আসতো, অমুক এর খেজুর নিয়ে আসতো। এভাবে আল্লাহ্‌র রাসূল (ﷺ)-এর কাছে খেজুর স্তূপ হয়ে গেলো। হাসান ও হুসাইন (রাঃ) সে খেজুর নিয়ে খেলতে লাগলেন, তাঁদের একজন একটি খেজুর নিয়ে তা মুখে দিলেন। আল্লাহ্‌র রাসূল (ﷺ) তার দিকে তাকালেন, এবং তার মুখ হতে খেজুর বের করে বললেন, তুমি কি জান না যে, মুহাম্মাদের বংশধর (বনূ হাশিম) সদকা ভক্ষণ করে না।

حَدَّثَنَا آدَمُ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ زِيَادٍ، قَالَ سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ ـ رضى الله عنه ـ قَالَ أَخَذَ الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ ـ رضى الله عنهما ـ تَمْرَةً مِنْ تَمْرِ الصَّدَقَةِ، فَجَعَلَهَا فِي فِيهِ، فَقَالَ النَّبِيُّ ﷺ " كِخٍ كِخٍ ـ لِيَطْرَحَهَا ثُمَّ قَالَ ـ أَمَا شَعَرْتَ أَنَّا لاَ نَأْكُلُ الصَّدَقَةَ ".

আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

হাসান ইব্‌নু ‘আলী (রাঃ) সদকার একটি খেজুর নিয়ে মুখে দিলেন। নবী (ﷺ) তা ফেলে দেয়ার জন্য ওয়াক ওয়াক (বমির পূর্বের আওয়াজের মত) বললেন। অতঃপর বললেনঃ তুমি কি জান না যে, আমরা সদকা ভক্ষণ করি না!

حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ الصَّبَّاحِ، حَدَّثَنَا شَبَابَةُ، عَنْ وَرْقَاءَ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ،قَالَ بَعَثَ النَّبِيُّ ﷺ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ عَلَى الصَّدَقَةِ فَمَنَعَ ابْنُ جَمِيلٍ وَخَالِدُ بْنُ الْوَلِيدِ وَالْعَبَّاسُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ " مَا يَنْقِمُ ابْنُ جَمِيلٍ إِلاَّ أَنْ كَانَ فَقِيرًا فَأَغْنَاهُ اللَّهُ وَأَمَّا خَالِدُ بْنُ الْوَلِيدِ فَإِنَّكُمْ تَظْلِمُونَ خَالِدًا فَقَدِ احْتَبَسَ أَدْرَاعَهُ وَأَعْتُدَهُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَأَمَّا الْعَبَّاسُ عَمُّ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ فَهِيَ عَلَىَّ وَمِثْلُهَا " . ثُمَّ قَالَ " أَمَا شَعَرْتَ أَنَّ عَمَّ الرَّجُلِ صِنْوُ الأَبِ " . أَوْ " صِنْوُ أَبِيهِ " .

আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, একদা নবী (ﷺ) যাকাত আদায়ের জন্য ‘ইমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) -কে প্রেরণ করেন। (তিনি ফিরে এসে বললেন) ইবনু জামীল, খালিদ ইবনুল ওয়ালীদ ও ‘আব্বাস (রাঃ) যাকাত দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, ইবনু জামীলের আপত্তি করার তেমন কোন কারণ নেই। ইতিপূর্বে সে গরীব ছিলো কিন্তু এখন মহান আল্লাহ তাকে ধনী বানিয়েছেন। আর খালিদের উপর তোমরা (যাকাত চেয়ে) যুলুম করেছো। কেননা সে তাঁর লৌহবর্ম ও যুদ্ধ-সরঞ্জামাদি আল্লাহর পথে ওয়াক্ফ করে দিয়েছে। আর ‘আব্বাস! রসূলুল্লাহর (ﷺ) চাচা, যার যাকাত ও অনুরূপ খরচের ভার আমাকে বহন করতে হবে। অতঃপর তিনি বললেনঃ (হে ‘উমার!) তুমি কি জানো না, কোন ব্যক্তির চাচা পিতার সমতুল্য?

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন