৮/৪৬. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১০৩৬ - উহুদের শহীদদের কাফন ও দাফন
শহীদ ব্যক্তির জানাযা আদায় না করা
উহুদের শহীদদের দাফন: কুরআনে অগ্রগণ্যকে আগে রাখা
জামে‘ আত-তিরমিযী : ১০৩৬
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ১০৩৬
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ كَعْبِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ، أَخْبَرَهُ أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ كَانَ يَجْمَعُ بَيْنَ الرَّجُلَيْنِ مِنْ قَتْلَى أُحُدٍ فِي الثَّوْبِ الْوَاحِدِ ثُمَّ يَقُولُ " أَيُّهُمَا أَكْثَرُ أَخْذًا لِلْقُرْآنِ " . فَإِذَا أُشِيرَ لَهُ إِلَى أَحَدِهِمَا قَدَّمَهُ فِي اللَّحْدِ وَقَالَ «أَنَا شَهِيدٌ عَلَى هَؤُلاَءِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ» . وَأَمَرَ بِدَفْنِهِمْ فِي دِمَائِهِمْ وَلَمْ يُصَلِّ عَلَيْهِمْ وَلَمْ يُغَسَّلُوا .قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ جَابِرٍ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَقَدْ رُوِيَ هَذَا الْحَدِيثُ عَنِ الزُّهْرِيِّ عَنْ أَنَسٍ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ . وَرُوِيَ عَنِ الزُّهْرِيِّ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ ثَعْلَبَةَ بْنِ أَبِي صُعَيْرٍ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ . وَمِنْهُمْ مَنْ ذَكَرَهُ عَنْ جَابِرٍ . وَقَدِ اخْتَلَفَ أَهْلُ الْعِلْمِ فِي الصَّلاَةِ عَلَى الشَّهِيدِ فَقَالَ بَعْضُهُمْ لاَ يُصَلَّى عَلَى الشَّهِيدِ . وَهُوَ قَوْلُ أَهْلِ الْمَدِينَةِ وَبِهِ يَقُولُ الشَّافِعِيُّ وَأَحْمَدُ . وَقَالَ بَعْضُهُمْ يُصَلَّى عَلَى الشَّهِيدِ . وَاحْتَجُّوا بِحَدِيثِ النَّبِيِّ ﷺ أَنَّهُ صَلَّى عَلَى حَمْزَةَ . وَهُوَ قَوْلُ الثَّوْرِيِّ وَأَهْلِ الْكُوفَةِ وَبِهِ يَقُولُ إِسْحَاقُ .
জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
জাবির (রাঃ) তাঁকে জানিয়েছেন যে, উহুদের যুদ্ধের দুই দুইজন শহীদকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একই কাপড়ে একসাথে কাফন সম্পন্ন করেছেন। তিনি প্রশ্ন করতেনঃ এদের দুজনের মধ্যে কোন ব্যক্তির বেশি কোরআন মুখস্ত আছে? তাঁদের কোন একজনের দিকে ইশারা করা হলে তিনি প্রথমে তাঁকে (কেবলার দিকে) কবরে রাখতেন। তারপর তিনি বলতেনঃ এদের জন্য আমি কেয়ামতের দিন সাক্ষী হব। (বর্ণনাকারী বলেন) তিনি রক্তমাখা দেহেই তাঁদেরকে দাফন করার হুকুম দিয়েছেন এবং তাঁদের জানাযা আদায় করেন নি, এমন কি তাঁদের গোসলও করানো হয়নি।
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ্ বলেছেন। যুহরী তার সনদের ধারাবাহিকতায় উল্লেখিত হাদীসটি আনাস (রাঃ) হতে বর্ণনা করেছেন। যুহরী হতে আব্দুল্লাহ ইবনু সা’লাবা ইবনু আবূ সুয়াইবের বরাতে নাবী (ﷺ) হতেও হাদীসটি বর্ণিত আছে। কোন কোন রাবী হাদীসটি জাবির হতেও বর্ণনা করেছেন। বিশেষজ্ঞ আলিমদের মধ্যে শহীদ ব্যক্তির জানাযা আদায়ের ব্যাপারে মতের অমিল আছে। একদল আলিম তাদের জানাযা আদায় না করার কথা বলেছেন। মদীনার আমিলগণ এই মত দিয়েছেন। একইরকম কথা বলেছেন ইমাম শাফিঈ এবং আহমাদও। অপর একদল আলিম বলেন, শহীদ ব্যক্তিদের জানাযা আদায় করতে হবে। “হামযা (রাঃ)-এর জানাযা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আদায় করেছেন” তারা দলীল হিসেবে এই হাদীস নিজেদের পক্ষে উপস্থাপন করেছেন। এই মত সুফিয়ান সাওরী এবং কূফাবাসী আলিমদের। একইরকম মত দিয়েছেন ইমাম ইসহাকও।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১০৩৬-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে উহুদের যুদ্ধে শহীদ হওয়া সাহাবিদের কাফন ও দাফনের বিশেষ ঘটনা বর্ণিত হয়েছে। রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم দুই শহীদকে একটি কাপড়ে একসঙ্গে কাফন করতেন এবং জিজ্ঞেস করতেন, তাদের মধ্যে কে কুরআন বেশি মুখস্থ জানে। যাকে দেখানো হতো, তাকে কবরে আগে রাখা হতো। তিনি বলেন, কেয়ামতের দিন তিনি তাদের জন্য সাক্ষী হবেন। এরপর রক্তমাখা দেহেই দাফনের নির্দেশ দেওয়া হয়। তাদের গোসল করানো হয়নি এবং জানাজার নামাজও আদায় করা হয়নি। হাদিসটির মূল বিষয় উহুদের শহীদদের দাফন এবং কুরআনের জ্ঞানের মর্যাদা। এটি সাধারণ সব মৃতের দাফনের বিবরণ নয়; নির্দিষ্ট যুদ্ধের শহীদদের ঘটনা। তাই এই বিশেষ অবস্থাকে সাধারণ পরিস্থিতির সঙ্গে না মেশানো জরুরি। একই সঙ্গে এক কবরে একাধিক শহীদ রাখার সময় তাদের মধ্যে অগ্রাধিকার নির্ধারণের দৃষ্টান্তও এতে রয়েছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- উহুদের দুই শহীদকে প্রয়োজন হলে একই কাপড়ে কাফন করা হয়েছিল।
- কুরআন বেশি মুখস্থ জানা শহীদকে কবরে আগে রাখা হয়েছে।
- তাদের রক্তমাখা দেহে, গোসল ও জানাজা ছাড়া দাফনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
- রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم কেয়ামতের দিন তাদের জন্য সাক্ষী হওয়ার কথা বলেছেন।
