৯/৩৭. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১১৩৩ - হারাম উপার্জনের তিন উৎস
ব্যভিচারিনীর উপার্জন হারাম
কুকুরের দাম, ব্যভিচারের আয় ও গণকের উপঢৌকন নিষিদ্ধ
জামে‘ আত-তিরমিযী : ১১৩৩
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ১১৩৩
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِي مَسْعُودٍ الأَنْصَارِيِّ، قَالَ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ ﷺ عَنْ ثَمَنِ الْكَلْبِ وَمَهْرِ الْبَغِيِّ وَحُلْوَانِ الْكَاهِنِ . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ رَافِعِ بْنِ خَدِيجٍ وَأَبِي جُحَيْفَةَ وَأَبِي هُرَيْرَةَ وَابْنِ عَبَّاسٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ أَبِي مَسْعُودٍ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .
আবূ মাসঊদ আনসারী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
কুকুরের বিক্রয় মূল্য, ব্যভিচারিনীর উপার্জন এবং গণক ঠাকুরের উপঢৌকন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নিষিদ্ধ করেছেন।
রাফি ইবনু খাদীজ, আবূ জুহাইফা, আবূ হুরাইরা ও ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ মাসউদ (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ্ বলেছেন।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১১৩৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে তিন ধরনের উপার্জন বা গ্রহণ করা অর্থ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) কুকুরের বিক্রয়মূল্য, ব্যভিচারিণীর উপার্জন এবং গণকের উপঢৌকন নিষিদ্ধ করেছেন। তিনটি বিষয় আলাদা হলেও এক জায়গায় মিল আছে—এগুলো এমন উৎসের সঙ্গে যুক্ত, যেগুলোকে নববী নির্দেশ বৈধ আয় হিসেবে গ্রহণ করেনি। হাদিসের শিক্ষা শুধু অর্থের পরিমাণ নিয়ে নয়; অর্থ কোথা থেকে আসছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। কোনো আয় সহজ, লাভজনক বা প্রচলিত হলেই তা গ্রহণযোগ্য হয়ে যায় না। মুসলিমের উচিত নিজের উপার্জনের উৎস যাচাই করা এবং স্পষ্টভাবে নিষিদ্ধ পথ থেকে দূরে থাকা। তবে হাদিসে যে তিনটি উৎসের নাম এসেছে, ব্যাখ্যাও সেগুলোর মধ্যেই সীমিত রাখা দরকার। অন্য কোনো ব্যবসা বা পেশাকে এই হাদিসের নামে হারাম বলার আগে আলাদা প্রমাণ প্রয়োজন। মূল বার্তা হলো, হালাল জীবিকা বেছে নেওয়া ঈমানি সততার অংশ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কুকুরের বিক্রয়মূল্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
- ব্যভিচার থেকে পাওয়া উপার্জন নিষিদ্ধ।
- গণকের উপঢৌকন গ্রহণ নিষিদ্ধ।
- আয়ের পরিমাণের পাশাপাশি উৎসও যাচাই করতে হয়।
