৯/৩৮. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১১৩৫ - তিন তালাক, ইদ্দত ও বিয়ের পরামর্শ
কোন লোক তার ভাইয়ের বিয়ের প্রস্তাবের উপর প্রস্তাব যেন না দেয়
তিন তালাকের পর ইদ্দত ও উপযুক্ত পাত্র বাছাইয়ের হাদিস
জামে‘ আত-তিরমিযী : ১১৩৫
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ১১৩৫
حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ غَيْلاَنَ، حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ، قَالَ أَنْبَأَنَا شُعْبَةُ، قَالَ أَخْبَرَنِي أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي الْجَهْمِ، قَالَ دَخَلْتُ أَنَا وَأَبُو سَلَمَةَ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَلَى فَاطِمَةَ بِنْتِ قَيْسٍ فَحَدَّثَتْنَا أَنَّ زَوْجَهَا طَلَّقَهَا ثَلاَثًا وَلَمْ يَجْعَلْ لَهَا سُكْنَى وَلاَ نَفَقَةً . قَالَتْ وَوَضَعَ لِي عَشَرَةَ أَقْفِزَةٍ عِنْدَ ابْنِ عَمٍّ لَهُ خَمْسَةً شَعِيرًا وَخَمْسَةً بُرًّا . قَالَتْ فَأَتَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ فَذَكَرْتُ ذَلِكَ لَهُ . قَالَتْ فَقَالَ «صَدَقَ» .قَالَتْ فَأَمَرَنِي أَنْ أَعْتَدَّ فِي بَيْتِ أُمِّ شَرِيكٍ ثُمَّ قَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ ﷺ «إِنَّ بَيْتَ أُمِّ شَرِيكٍ بَيْتٌ يَغْشَاهُ الْمُهَاجِرُونَ وَلَكِنِ اعْتَدِّي فِي بَيْتِ ابْنِ أُمِّ مَكْتُومٍ فَعَسَى أَنْ تُلْقِي ثِيَابَكِ فَلاَ يَرَاكِ فَإِذَا انْقَضَتْ عِدَّتُكِ فَجَاءَ أَحَدٌ يَخْطُبُكِ فَآذِنِينِي» .فَلَمَّا انْقَضَتْ عِدَّتِي خَطَبَنِي أَبُو جَهْمٍ وَمُعَاوِيَةُ . قَالَتْ فَأَتَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ فَذَكَرْتُ ذَلِكَ لَهُ فَقَالَ «أَمَّا مُعَاوِيَةُ فَرَجُلٌ لاَ مَالَ لَهُ وَأَمَّا أَبُو جَهْمٍ فَرَجُلٌ شَدِيدٌ عَلَى النِّسَاءِ» . قَالَتْ فَخَطَبَنِي أُسَامَةُ بْنُ زَيْدٍ فَتَزَوَّجَنِي فَبَارَكَ اللَّهُ لِي فِي أُسَامَةَ .هَذَا حَدِيثٌ صَحِيحٌ . وَقَدْ رَوَاهُ سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ أَبِي الْجَهْمِ، نَحْوَ هَذَا الْحَدِيثِ وَزَادَ فِيهِ فَقَالَ لِيَ النَّبِيُّ ﷺ «انْكِحِي أُسَامَةَ» .حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ غَيْلاَنَ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ عَنْ سُفْيَانَ عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ أَبِي الْجَهْمِ بِهَذَا .
আবূ বকর ইবনু আবু জাহম (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
ফাতিমা বিনতু কাইসের নিকট আমি ও আবূ সালামা ইবনু আবদুর রাহমান গেলাম। তিনি আমাদের বললেন, তাকে তার স্বামী তিন তালাক দিয়ে দিয়েছে কিন্তু সে তার জন্য থাকার ও ভরণপোষণের কোন ব্যবস্থা করেনি তবে আমার জন্য তার চাচাতো ভাইয়ের নিকট পাঁচ কাফীয যব ও পাঁচ কাফীয আটা মোট দশ কাফীযের ব্যবস্থা করেছে।ফাতিমা (রাঃ) বলেন, আমি বিষয়টি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট এসে তাকে অবহিত করলাম। তিনি আরো বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ “সে ঠিকই করেছে"। তিনি আমাকে নির্দেশ দিলেন উন্মু শারীকের বাড়ীতে ইদ্দাত পালনের জন্য। আবার তিনি আমাকে বললেনঃ “মুহাজিরদের চলাচল খুব বেশি হয়ে থাকে উম্মু শারীকের বাড়ীতে। অতএব, তুমি ইদ্দাত পালন কর উন্মু মাকতূমের ছেলের বাড়ীতে। তুমি প্রয়োজনে কাপড় পরিবর্তন করলে সে তোমাকে দেখতে পাবে না। কোন লোক যদি তোমাকে তোমার ইদ্দাত পূর্ণ হওয়ার পর বিয়ের প্রস্তাব দেয় তবে তুমি আমার নিকট এসো।"আমার ইদ্দাত শেষ হবার পর আবূ জাহম ও মুআবিয়া উভয়ে আমার নিকট বিয়ের প্রস্তাব পাঠান। ফাতিমা (রাঃ) বলেন, আমি বিষয়টি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট এসে তাকে জানালাম। তিনি বললেন মুআবিয়া দরিদ্র লোক, তার তেমন কোন ধন-সম্পদ নেই। আর স্ত্রীদের প্রতি আবূ জাহম খুবই কঠোর। ফাতিমা (রাঃ) বলেন, তারপর আমার নিকট উসামা ইবনু যাইদ (রাঃ) প্রস্তাব করেন এবং আমাকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তার সাথে বিয়ে দেন। আল্লাহ তা’আলা আমাকে অশেষ কল্যাণ ও বারকাত দান করেছেন উসামার মাধ্যমে।
এ হাদীসটি হাসান সহীহ। এ হাদীসটি আবূ জাহমের সূত্রে সুফিয়ান সাওরীও বর্ণনা করেছেন। তাতে এ কথাও আছেঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে বললেনঃ "তুমি উসামাকে বিয়ে কর।” আবু ঈসা বলেন, আমি এই হাদীসটি নিম্নোক্ত সূত্রেও পেয়েছিঃ মাহমুদ-ওয়াকী হতে, তিনি সুফিয়ান হতে, তিনি আবূ বাকর ইবনু আবূ জাহম হতে। সহীহ, দেখুন পূর্বের হাদীস, ইরওয়া (১৮৬৪)
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১১৩৫-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে ফাতিমা বিনতু কাইস (রাঃ)-এর তিন তালাকের পরের ঘটনা বিস্তারিত এসেছে। তার স্বামী থাকার জায়গা ও নিয়মিত ভরণপোষণের ব্যবস্থা করেননি, তবে কিছু যব ও আটা রেখেছিলেন। তিনি বিষয়টি রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-কে জানালে তিনি স্বামীর বক্তব্যকে সঠিক বলেন এবং নিরাপদ ও গোপনীয় পরিবেশ বিবেচনায় ইবনু উম্মে মাকতুমের বাড়িতে ইদ্দত পালনের নির্দেশ দেন। ইদ্দত শেষে আবু জাহম ও মুয়াবিয়া (রাঃ) প্রস্তাব দিলে তিনি আবার নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর পরামর্শ নেন। নবী (صلى الله عليه وسلم) একজনের আর্থিক দুর্বলতা এবং অন্যজনের স্ত্রীদের প্রতি কঠোরতার কথা জানান। পরে উসামা ইবনু যায়িদ (রাঃ)-এর সঙ্গে তার বিয়ে হয় এবং তিনি সেই বিয়েতে কল্যাণ পাওয়ার কথা বলেন। হাদিসটি শেখায়, তালাকের পর ইদ্দত, নিরাপত্তা এবং নতুন জীবনসঙ্গী বাছাইয়ে জ্ঞানী ও বিশ্বস্ত পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- তিন তালাকের পর ইদ্দতের ব্যবস্থা নিয়ে বিশ্বস্ত পরামর্শ নেওয়া যায়।
- নারীর নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা বিবেচনা করা হয়েছে।
- পাত্র বাছাইয়ে আর্থিক অবস্থা ও আচরণ—দুইটিই দেখা হয়েছে।
- ফাতিমা (রাঃ) সিদ্ধান্তের আগে রাসূলুল্লাহর (صلى الله عليه وسلم) পরামর্শ নিয়েছেন।
