৯/৪২. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১১৪১ - একাধিক স্ত্রীর মাঝে ন্যায় ও সমতা
স্ত্রীদের মধ্যে আচরণে সমতা রক্ষা করা
একাধিক স্ত্রীর মাঝে সমতা: দাম্পত্য ন্যায়বিচারের হাদিস
জামে‘ আত-তিরমিযী : ১১৪১
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ১১৪১
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ، حَدَّثَنَا هَمَّامٌ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنِ النَّضْرِ بْنِ أَنَسٍ، عَنْ بَشِيرِ بْنِ نَهِيكٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ «إِذَا كَانَ عِنْدَ الرَّجُلِ امْرَأَتَانِ فَلَمْ يَعْدِلْ بَيْنَهُمَا جَاءَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَشِقُّهُ سَاقِطٌ» .قَالَ أَبُو عِيسَى وَإِنَّمَا أَسْنَدَ هَذَا الْحَدِيثَ هَمَّامُ بْنُ يَحْيَى عَنْ قَتَادَةَ . وَرَوَاهُ هِشَامٌ الدَّسْتَوَائِيُّ عَنْ قَتَادَةَ قَالَ كَانَ يُقَالُ . وَلاَ نَعْرِفُ هَذَا الْحَدِيثَ مَرْفُوعًا إِلاَّ مِنْ حَدِيثِ هَمَّامٍ وَهَمَّامٌ ثِقَةٌ حَافِظٌ.
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) বলেছেনঃ যে লোকের নিকট দু'জন স্ত্রী আছে সে লোক যদি তাদের মধ্যে সমতা না রাখে তবে কেয়ামতের দিন সে লোক তার দেহের এক পার্শ্ব ভাঙ্গা অবস্থায় উপস্থিত হবে।
এই হাদীসটি মুসনাদ হিসাবে কাতাদার সূত্রে হাম্মাম ইবনু ইয়াহইয়া বর্ণনা করেছেন। কাতাদার সূত্রে হিশাম আদ-দাসতাওয়াঈও এটিকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, কথিত আছে যে, এটা মারফূ হিসাবে শুধু হাম্মামের সূত্রেই বর্ণিত হয়েছে। আর হাম্মাম একজন বিশ্বস্ত ও স্মরণশক্তি সম্পন্ন বর্ণনাকারী।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১১৪১-এর সারসংক্ষেপ
মূল বিষয়: স্ত্রীদের সমতা। এই হাদিসে এমন একজন স্বামীর কথা বলা হয়েছে, যার কাছে দুইজন স্ত্রী আছে কিন্তু তিনি তাদের মধ্যে ন্যায্য আচরণ করেন না। নবী صلى الله عليه وسلم সতর্ক করেছেন, কেয়ামতের দিন সে দেহের এক পাশ ভাঙা বা ঝুঁকে পড়া অবস্থায় উপস্থিত হবে। বর্ণনাটি একাধিক স্ত্রীর মাঝে সমতা ও দাম্পত্য ন্যায়বিচারের গুরুত্ব স্পষ্টভাবে তুলে ধরে। এখানে মূল শিক্ষা হলো, বিয়ের সম্পর্কের সঙ্গে অন্য মানুষের অধিকার ও আখিরাতের জবাবদিহি জড়িত। একজন স্ত্রীকে অবহেলা করে অন্যজনকে অন্যায়ভাবে প্রাধান্য দেওয়া হাদিসে কঠিন পরিণতির সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। তাই একাধিক বিয়ে করলে স্ত্রীদের অধিকারকে হালকা করে দেখার সুযোগ নেই। প্রত্যেকের সঙ্গে ন্যায়সংগত আচরণ এবং সমতা রক্ষার ব্যাপারে আন্তরিক ও সতর্ক থাকা দরকার।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- দুই স্ত্রীর মাঝে ন্যায্য আচরণ করা স্বামীর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
- একজনকে অন্যায়ভাবে প্রাধান্য দিলে আখিরাতে জবাবদিহির আশঙ্কা রয়েছে।
- দাম্পত্য অধিকারে অবহেলা নয়, সচেতন সমতা ও ইনসাফ দরকার।
