৯/৪৪. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১১৪৫ - মহর নির্ধারণের আগে স্বামীর মৃত্যু
বিয়ের পরবর্তীতে সহবাস ও মোহর নির্ধারণের আগে স্বামী মৃত্যুবরণ করলে
মহর নির্ধারণের আগে স্বামীর মৃত্যু: স্ত্রীর মহর, ইদ্দত ও মিরাস
জামে‘ আত-তিরমিযী : ১১৪৫
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ১১৪৫
حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ غَيْلاَنَ، حَدَّثَنَا زَيْدُ بْنُ الْحُبَابِ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عَلْقَمَةَ، عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ، أَنَّهُ سُئِلَ عَنْ رَجُلٍ، تَزَوَّجَ امْرَأَةً وَلَمْ يَفْرِضْ لَهَا صَدَاقًا وَلَمْ يَدْخُلْ بِهَا حَتَّى مَاتَ . فَقَالَ ابْنُ مَسْعُودٍ لَهَا مِثْلُ صَدَاقِ نِسَائِهَا لاَ وَكْسَ وَلاَ شَطَطَ وَعَلَيْهَا الْعِدَّةُ وَلَهَا الْمِيرَاثُ . فَقَامَ مَعْقِلُ بْنُ سِنَانٍ الأَشْجَعِيُّ فَقَالَ قَضَى رَسُولُ اللَّهِ ﷺ فِي بِرْوَعَ بِنْتِ وَاشِقٍ امْرَأَةٍ مِنَّا مِثْلَ الَّذِي قَضَيْتَ . فَفَرِحَ بِهَا ابْنُ مَسْعُودٍ . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنِ الْجَرَّاحِ .حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ الْخَلاَّلُ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، وَعَبْدُ الرَّزَّاقِ، كِلاَهُمَا عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ مَنْصُورٍ، نَحْوَهُ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ ابْنِ مَسْعُودٍ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ وَقَدْ رُوِيَ عَنْهُ، مِنْ غَيْرِ وَجْهٍ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ بَعْضِ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ ﷺ وَغَيْرِهِمْ وَبِهِ يَقُولُ الثَّوْرِيُّ وَأَحْمَدُ وَإِسْحَاقُ . وَقَالَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ ﷺ مِنْهُمْ عَلِيُّ بْنُ أَبِي طَالِبٍ وَزَيْدُ بْنُ ثَابِتٍ وَابْنُ عَبَّاسٍ وَابْنُ عُمَرَ إِذَا تَزَوَّجَ الرَّجُلُ الْمَرْأَةَ وَلَمْ يَدْخُلْ بِهَا وَلَمْ يَفْرِضْ لَهَا صَدَاقًا حَتَّى مَاتَ قَالُوا لَهَا الْمِيرَاثُ وَلاَ صَدَاقَ لَهَا وَعَلَيْهَا الْعِدَّةُ . وَهُوَ قَوْلُ الشَّافِعِيِّ قَالَ لَوْ ثَبَتَ حَدِيثُ بِرْوَعَ بِنْتِ وَاشِقٍ لَكَانَتِ الْحُجَّةُ فِيمَا رُوِيَ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ . وَرُوِيَ عَنِ الشَّافِعِيِّ أَنَّهُ رَجَعَ بِمِصْرَ بَعْدُ عَنْ هَذَا الْقَوْلِ وَقَالَ بِحَدِيثِ بِرْوَعَ بِنْتِ وَاشِقٍ .
ইবনে মাসঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তাঁকে প্রশ্ন করা হলঃ এক লোক এক মহিলাকে বিয়ের পর তার মোহর না ঠিক করে এবং তার সাথে সহবাস না করেই মৃত্যুবরণ করল, তার জন্য কি হুকুম আছে? বললেন, মহিলাটি তার পরিবারের অন্যান্য মেয়েদের সম-পরিমাণ মোহর পাবে, তার কমও পাবে না বেশিও পাবে না। তার স্বামীর মৃত্যুর জন্য সে মহিলাটি ইদ্দাত পালন করবে এবং সে (তার) ওয়ারিসের অধিকারীও হবে। তখন মাকিল ইবনু সিনান আল-আশজাঈ (রাঃ) দাঁড়িয়ে বললেন, আপনি যে ধরণের ফায়সালা করেছেন, আমাদের বংশের মেয়ে ওয়াশিকের কন্যা বিরওয়াআ প্রসঙ্গে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ও একই ফায়সালা করেছেন। ইবনু মাসউদ (রাঃ) এটা শুনে খুবই আনন্দিত হন।
আল-জাররাহ (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। উপরোক্ত হাদীসের মত ইয়াযীদ ইবনু হারূন ও আবদুর রাযযাক-সুফিয়ান হতে, তিনি মানসূর হতে এর সূত্রেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইবনু মাসউদ (রাঃ)-এর বর্ণিত হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ্ বলেছেন। এ হাদীসটি তাঁর নিকট হতে একাধিক সূত্রে বর্ণিত হয়েছে। এ হাদীস অনুযায়ী রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর একদল বিশেষজ্ঞ সাহাবী ও অপরাপর আলিম আমল করেছেন। এই মত দিয়েছেন সুফিয়ান সাওরী, আহমাদ ও ইসহাক (রহঃ)-ও। রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর অন্য একদল সাহাবী, যেমন আলী ইবনু আবূ তালিব, যাইদ ইবনু সাবিত, ইবনু আব্বাস ও ইবনু উমর (রাঃ) বলেছেন, কোন স্ত্রীলোককে কোন লোক বিয়ে করে মোহর নির্ধারণ ও সহবাসের আগে মৃত্যুবরণ করলে সে মীরাস পাবে কিন্তু মোহর পাবে না এবং সেই মহিলাকে ইদ্দাত পালন করতে হবে। একথাটি ইমাম শাফিঈও ব্যক্ত করেছেন। তিনি আরো বলেছেন, ওয়াশিকের কন্যা বিরওয়াআর হাদীস (সহীহ্) হিসেবে প্রমাণিত হলে তবে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে প্রাপ্ত সর্বশেষ ফায়সালা হবে এটাই। মিসর গিয়ে শাফিঙ্গ (রহঃ) নিজের প্রথম অভিমতটি বাতিল করেন এবং এ হাদীস অনুযায়ী মত গ্রহণ করেন।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১১৪৫-এর সারসংক্ষেপ
মূল বিষয়: মহর ও মিরাস। এক ব্যক্তি বিয়ের পর স্ত্রীর মহর নির্ধারণ করেননি এবং সহবাসের আগেই মারা যান। এ অবস্থার হুকুম জানতে চাওয়া হলে ইবনু মাসউদ রাঃ বলেন, স্ত্রী তার পরিবারের সমপর্যায়ের নারীদের মতো মহর পাবে; কমও নয় এবং অস্বাভাবিক বেশিও নয়। একই সঙ্গে তাকে স্বামীর মৃত্যুর ইদ্দত পালন করতে হবে এবং সে উত্তরাধিকারের অংশও পাবে। পরে মাকিল ইবনু সিনান রাঃ জানান, বিরওয়া বিনতু ওয়াশিকের ঘটনায় রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم একই ধরনের ফয়সালা দিয়েছিলেন। এতে ইবনু মাসউদ রাঃ খুব আনন্দিত হন। হাদিসটি দেখায়, বিয়ের সময় মহর আগে ঠিক না হলেও এই নির্দিষ্ট ঘটনায় স্ত্রীর মহরের অধিকার বাদ যায়নি। পাশাপাশি স্বামীর মৃত্যুজনিত ইদ্দত এবং উত্তরাধিকারের অধিকারও বহাল রাখা হয়েছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মহর নির্ধারিত না থাকলেও এই বর্ণনায় স্ত্রী সমমানের মহরের অধিকারী।
- স্বামীর মৃত্যু হলে স্ত্রীকে ইদ্দত পালন করতে হবে।
- এই ঘটনার স্ত্রী স্বামীর উত্তরাধিকারের অংশ পাওয়ার অধিকারী হয়েছেন।
- সাহাবির ফয়সালা নবী صلى الله عليه وسلم-এর ফয়সালার সঙ্গে মিলে যাওয়ায় তিনি আনন্দিত হন।
