১১/১৬. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১১৯২ - তালাক দুইবার ও সুন্দরভাবে মুক্তি
তালাকের সংখ্যা
তালাক দুইবার: ফিরিয়ে রাখা বা সুন্দরভাবে ছেড়ে দেওয়ার শিক্ষা
জামে‘ আত-তিরমিযী : ১১৯২
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ১১৯২
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا يَعْلَى بْنُ شَبِيبٍ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كَانَ النَّاسُ وَالرَّجُلُ يُطَلِّقُ امْرَأَتَهُ مَا شَاءَ أَنْ يُطَلِّقَهَا وَهِيَ امْرَأَتُهُ إِذَا ارْتَجَعَهَا وَهِيَ فِي الْعِدَّةِ وَإِنْ طَلَّقَهَا مِائَةَ مَرَّةٍ أَوْ أَكْثَرَ حَتَّى قَالَ رَجُلٌ لاِمْرَأَتِهِ وَاللَّهِ لاَ أُطَلِّقُكِ فَتَبِينِي مِنِّي وَلاَ آوِيكِ أَبَدًا . قَالَتْ وَكَيْفَ ذَاكَ قَالَ أُطَلِّقُكِ فَكُلَّمَا هَمَّتْ عِدَّتُكِ أَنْ تَنْقَضِيَ رَاجَعْتُكِ .فَذَهَبَتِ الْمَرْأَةُ حَتَّى دَخَلَتْ عَلَى عَائِشَةَ فَأَخْبَرَتْهَا فَسَكَتَتْ عَائِشَةُ حَتَّى جَاءَ النَّبِيُّ ﷺ فَأَخْبَرَتْهُ فَسَكَتَ النَّبِيُّ ﷺ حَتَّى نَزَلَ الْقُرْآنُ : ﴾ الطَّلاَقُ مَرَّتَانِ فَإِمْسَاكٌ بِمَعْرُوفٍ أَوْ تَسْرِيحٌ بِإِحْسَانٍ ﴿ قَالَتْ عَائِشَةُ فَاسْتَأْنَفَ النَّاسُ الطَّلاَقَ مُسْتَقْبَلاً مَنْ كَانَ طَلَّقَ وَمَنْ لَمْ يَكُنْ طَلَّقَ .حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ إِدْرِيسَ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، نَحْوَ هَذَا الْحَدِيثِ بِمَعْنَاهُ وَلَمْ يَذْكُرْ فِيهِ عَنْ عَائِشَةَ . قَالَ أَبُو عِيسَى وَهَذَا أَصَحُّ مِنْ حَدِيثِ يَعْلَى بْنِ شَبِيبٍ .
'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
লোকেরা (জাহিলী যুগে) যেমন ইচ্ছা নিজ স্ত্রীকে তালাক দিত। এমনকি সে শতবার বা ততোধিক তালাক দেবার পরও তাকে ইদ্দাতের মধ্যে ফেরত নিলে সে পুরা দস্তর তার বিবি বিবেচিত হত। অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌছল যে, এক ব্যক্তি তার স্ত্রীকে বলল, আল্লাহ তা'আলার শপথ! আমি তোমাকে এমন তালাকও দিব না যে, তুমি আমার নিকট হতে আলাদা হয়ে যাবে এবং তোমাকে কখনো (স্থান) সহায়তাও দিব না। তার স্ত্রী বলল, এ কেমন কথা? সে বলল, আমি তোমাকে তালাক দিব এবং ইদ্দাত শেষ হওয়ার আগে ফিরিয়ে নিব। তোমার সাথে বারবার এমনই করতে থাকব।স্ত্রীলোকটি আইশা (রাঃ)-এর নিকটে এসে তাকে এ ঘটনা জানালো। আইশা (রাঃ) নীরব রইলেন। এর মাঝে নবী (ﷺ) হাজির হলেন। তিনি তাঁকে ব্যাপারটি অবগত করলেন। নবী (ﷺ) চুপ থাকলেন।এসময় কোরআনের আয়াত অবতীর্ণ হলঃ “তালাক দুইবার। তারপর হয় তাকে যথারীতি ফিরিয়ে নিবে, অন্যথায় সঠিক পন্থায় মুক্ত করে দিবে”-(সূরাঃ বাকারা- ২২৯)।আইশা (রাঃ) বলেন, এরপর থেকে যে লোক আগে তালাক দিয়েছে আর যে লোক দেয়নি উভয়ই ভবিষ্যতের জন্য নতুনভাবে তালাকের অধিকার লাভ করলো।
হিশাম ইবনু উরওয়া (রহঃ) হতে তাঁর পিতার সূত্রে উপরে উল্লেখিত হাদীসের মতই হাদীস বর্ণিত আছে। কিন্তু এই সূত্রে উরওয়া (রহঃ) আইশা (রাঃ)-এর উল্লেখ করেননি। এই বর্ণনাটি ইয়ালা ইবনু শাবীবের বর্ণিত হাদীসের তুলনায় অনেক বেশি সহীহ।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১১৯২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে জাহিলি যুগের একটি ক্ষতিকর প্রথা তুলে ধরা হয়েছে। একজন পুরুষ বারবার স্ত্রীকে তালাক দিত এবং ইদ্দত শেষ হওয়ার আগে ফিরিয়ে নিত। ফলে নারী না পুরোপুরি স্ত্রী হিসেবে শান্তি পেত, না মুক্ত হতে পারত। এক ব্যক্তি এভাবে স্ত্রীকে অনির্দিষ্টকাল আটকে রাখার হুমকি দিলে বিষয়টি আয়িশা রা.-এর মাধ্যমে নবী صلى الله عليه وسلم-এর কাছে পৌঁছে। এরপর কুরআনের আয়াত নাজিল হয়: তালাক দুইবার; তারপর ভালোভাবে ফিরিয়ে রাখা অথবা সুন্দরভাবে মুক্ত করে দেওয়া। মূল শিক্ষা হলো, তালাককে নির্যাতন, ভয় দেখানো বা কাউকে ঝুলিয়ে রাখার অস্ত্র বানানো যাবে না। দাম্পত্য সম্পর্ক রাখলে ভালোভাবে রাখতে হবে, আর ছাড়লে সম্মান ও সঠিক পদ্ধতিতে ছাড়তে হবে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- বারবার তালাক ও রজআত করে স্ত্রীকে আটকে রাখা ক্ষতিকর আচরণ।
- তালাকের সীমা নির্ধারণ করে এর অপব্যবহারের পথ বন্ধ করা হয়েছে।
- সম্পর্ক রাখলে ভালোভাবে রাখা উচিত।
- বিচ্ছেদ হলে সুন্দর ও সম্মানজনকভাবে মুক্ত করা দরকার।
