১১/১৭. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১১৯৩ - গর্ভবতী বিধবার ইদ্দত সন্তান প্রসবে শেষ
গর্ভবতী বিধবার ইদ্দত সন্তান জন্মগ্রহণ করা পর্যন্ত
গর্ভবতী বিধবার ইদ্দত সন্তান প্রসবের সঙ্গে পূর্ণ হয়
জামে‘ আত-তিরমিযী : ১১৯৩
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ১১৯৩
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مَنِيعٍ، حَدَّثَنَا حُسَيْنُ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا شَيْبَانُ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنِ الأَسْوَدِ، عَنْ أَبِي السَّنَابِلِ بْنِ بَعْكَكٍ، قَالَ وَضَعَتْ سُبَيْعَةُ بَعْدَ وَفَاةِ زَوْجِهَا بِثَلاَثَةٍ وَعِشْرِينَ أَوْ خَمْسَةٍ وَعِشْرِينَ يَوْمًا فَلَمَّا تَعَلَّتْ تَشَوَّفَتْ لِلنِّكَاحِ فَأُنْكِرَ عَلَيْهَا ذَلِكَ فَذُكِرَ ذَلِكَ لِلنَّبِيِّ ﷺ فَقَالَ «إِنْ تَفْعَلْ فَقَدْ حَلَّ أَجَلُهَا» .حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مَنِيعٍ، حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ مُوسَى، حَدَّثَنَا شَيْبَانُ، عَنْ مَنْصُورٍ، نَحْوَهُ . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ، . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ أَبِي السَّنَابِلِ حَدِيثٌ مَشْهُورٌ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ . وَلاَ نَعْرِفُ لِلأَسْوَدِ سَمَاعًا مِنْ أَبِي السَّنَابِلِ . وَسَمِعْتُ مُحَمَّدًا يَقُولُ لاَ أَعْرِفُ أَنَّ أَبَا السَّنَابِلِ عَاشَ بَعْدَ النَّبِيِّ ﷺ .وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَكْثَرِ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ ﷺ وَغَيْرِهِمْ أَنَّ الْحَامِلَ الْمُتَوَفَّى عَنْهَا زَوْجُهَا إِذَا وَضَعَتْ فَقَدْ حَلَّ التَّزْوِيجُ لَهَا وَإِنْ لَمْ تَكُنِ انْقَضَتْ عِدَّتُهَا . وَهُوَ قَوْلُ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ وَالشَّافِعِيِّ وَأَحْمَدَ وَإِسْحَاقَ . وَقَالَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ ﷺ وَغَيْرِهِمْ تَعْتَدُّ آخِرَ الأَجَلَيْنِ . وَالْقَوْلُ الأَوَّلُ أَصَحُّ .
আবুস সানাবিল ইবনু বা’কাক (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
সুবাইআ (রাঃ) সন্তান প্রসব করেন তাঁর স্বামী মারা যাবার তেইশ বা পঁচিশ দিন পর। তিনি নিফাস হতে পবিত্র হয়ে পুনরায় বিয়ে করতে আগ্রহ প্রকাশ করেন। কিন্তু কেউ কেউ সেটাকে খারাপ বলে মনে করল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট বিষয়টি উল্লেখ করা হলে তিনি বললেনঃ সে ইচ্ছা করলে এটা করতে পারে, কেননা, তাঁর ইদ্দাত পূর্ণ হয়ে গেছে।
এ হাদীসটি আরো একটি সনদসূত্রে বর্ণিত হয়েছে। উম্মু সালামা (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, আবুস সানাবিল (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটি উল্লেখিত সনদ সূত্রে মাশহূর ও গারীব। আবুস সানা বিলের নিকট হতে আল-আসওয়াদ হাদীস শুনেছেন কি-না তা আমাদের জানা নেই। ইমাম বুখারী (রহঃ) বলেছেন, আবুস সানাবিল (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর মৃত্যুর পরও বেঁচে ছিলেন কি-না তা আমাদের জানা নেই। এ হাদীস অনুযায়ী রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর বেশিরভাগ বিশেষজ্ঞ সাহাবী ও অপরাপর আলিম মত দিয়েছেন যে, যদি কোন গর্ভবতী মহিলার স্বামী মৃত্যুবরণ করে তবে তার সন্তান জন্মের সাথে সাথে তার বিয়ে করা হালাল (জায়িয), যদিও তার ইদ্দাত (চার মাস দশদিন) পূর্ণ না হয়। এই মত দিয়েছেন সুফিয়ান সাওরী, শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাক। অপর একদল সাহাবী ও অন্যদের মতে “দুই মেয়াদের মধ্যে অপেক্ষাকৃত দীর্ঘতর মেয়াদ" হবে তার ইদ্দাতকাল। কিন্তু প্রথমোক্ত মতই অনেক বেশি সহীহ্।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১১৯৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে সুবাইআ রা.-এর ঘটনা এসেছে। তার স্বামী মারা যাওয়ার তেইশ বা পঁচিশ দিন পর তিনি সন্তান প্রসব করেন। নিফাস থেকে পবিত্র হওয়ার পর তিনি আবার বিয়ে করার আগ্রহ দেখালে কিছু মানুষ বিষয়টি ভালো মনে করেনি। বিষয়টি রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর কাছে পৌঁছালে তিনি বলেন, তিনি চাইলে বিয়ে করতে পারেন, কারণ তার ইদ্দতের সময় পূর্ণ হয়েছে। হাদিসের সরাসরি শিক্ষা হলো, গর্ভবতী বিধবার ইদ্দত সন্তান প্রসবের মাধ্যমে শেষ হয়, যদিও স্বামীর মৃত্যুর পর খুব অল্প সময়ই পেরিয়ে থাকে। এখানে বিয়ে করা বাধ্যতামূলক বলা হয়নি; বরং ইচ্ছা করলে তার জন্য বৈধ হওয়ার কথা বলা হয়েছে। তাই মানুষের আপত্তির চেয়ে নবী صلى الله عليه وسلم-এর দেওয়া সিদ্ধান্তই এই ঘটনার মূল ভিত্তি।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- গর্ভবতী বিধবার ইদ্দত সন্তান প্রসবের সঙ্গে পূর্ণ হয়।
- স্বামীর মৃত্যুর অল্পদিন পর সন্তান জন্মালেও একই সিদ্ধান্ত এসেছে।
- ইদ্দত শেষ হলে নারী ইচ্ছা করলে পুনরায় বিয়ে করতে পারে।
- বিয়ে করা বাধ্যতামূলক নয়; বৈধ হওয়ার কথা বলা হয়েছে।
