১২/৪০. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১২৬৭ - মজুতদারির বিরুদ্ধে নববী সতর্কতা
মজুতদারি (ইহতিকার) প্রসঙ্গে
ইসলামে মজুতদারি: পাপপূর্ণ ব্যবসায়িক আচরণের সতর্কতা
জামে‘ আত-তিরমিযী : ১২৬৭
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ১২৬৭
حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ مَنْصُورٍ، أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، عَنْ مَعْمَرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نَضْلَةَ، قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ يَقُولُ " لاَ يَحْتَكِرُ إِلاَّ خَاطِئٌ " . فَقُلْتُ لِسَعِيدٍ يَا أَبَا مُحَمَّدٍ إِنَّكَ تَحْتَكِرُ . قَالَ وَمَعْمَرٌ قَدْ كَانَ يَحْتَكِرُ. قَالَ أَبُو عِيسَى وَإِنَّمَا رُوِيَ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ أَنَّهُ كَانَ يَحْتَكِرُ الزَّيْتَ وَالْحِنْطَةَ وَنَحْوَ هَذَا. قَالَ أَبُو عِيسَى وَفِي الْبَابِ عَنْ عُمَرَ وَعَلِيٍّ وَأَبِي أُمَامَةَ وَابْنِ عُمَرَ. وَحَدِيثُ مَعْمَرٍ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ. وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ كَرِهُوا احْتِكَارَ الطَّعَامِ . وَرَخَّصَ بَعْضُهُمْ فِي الاِحْتِكَارِ فِي غَيْرِ الطَّعَامِ . وَقَالَ ابْنُ الْمُبَارَكِ لاَ بَأْسَ بِالاِحْتِكَارِ فِي الْقُطْنِ وَالسَّخْتِيَانِ وَنَحْوِ ذَلِكَ.
মা’মার ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু নাযলাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছিঃ “শুধুমাত্র দুর্নীতিপরায়ণ মানুষই মজুতদারি করে থাকে”। আমি (মুহাম্মাদ ইবনু ইবরাহীম) সাঈদকে বললাম, হে মুহাম্মাদের পিতা! আপনিও তো মজুতদারি করে থাকেন। তিনি বললেন, মজুতদারি তো মা’মারও করতেন।
আবূ ঈসা বলেন, সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যিব প্রসঙ্গে বর্ণিত আছে যে, তিনি তেল, গম ও এই জাতীয় জিনিস মজুত করতেন। উমার, আলী, আবূ উমামা ও ইবনু উমার (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। মা’মার (রাঃ) বর্ণিত হাদীসটি হাসান সহীহ্। এ হাদীস মোতাবেক আলিমগণ আমল করেছেন। খাদ্যদ্রব্যের মজুতদারি করাকে তারা মাকরূহ বলেছেন। খাদ্যদ্রব্য ব্যতীত অন্য কিছুর মজুতদারি করার পক্ষে কিছু সংখ্যক আলিম অনুমতি দিয়েছেন। ইবনুল মুবারাক বলেছেন, তুলা, ছাগলের চামড়া বা ঐ ধরনের অন্য কিছুর মজুতদারি করাতে কোন সমস্যা নেই।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১২৬৭-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় হলো মজুতদারি। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, দুর্নীতিপরায়ণ বা পাপী ব্যক্তি ছাড়া কেউ মজুতদারি করে না। হাদিসের ভাষা এ কাজের নৈতিক ক্ষতি স্পষ্ট করে। বর্ণনার পরের অংশে সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যাব (রহ.)-কে তাঁর নিজের মজুত করার বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়। আরবি বর্ণনার ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, তাঁর মজুত করা বস্তু ছিল তেল, গম বা এ ধরনের পণ্য। একই সঙ্গে আলিমদের আলোচনায় খাদ্য মজুত করাকে অপছন্দ করার কথা এবং কিছু অখাদ্য পণ্যের ক্ষেত্রে আলাদা মত উল্লেখ করা হয়েছে। তাই হাদিসটি বুঝতে মজুতের উদ্দেশ্য ও পণ্যের ধরন গুলিয়ে ফেলা উচিত নয়। মূল সতর্কতা হলো এমন মজুতদারি, যা অসৎ লাভের মানসিকতা ও মানুষের প্রয়োজনের ক্ষতির সঙ্গে যুক্ত। ব্যবসায় ন্যায্যতা বজায় রাখা এবং মানুষের কষ্টকে লাভের সুযোগ না বানানো এই হাদিসের প্রধান শিক্ষা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- অন্যায় মজুতদারিকে হাদিসে পাপপূর্ণ আচরণ বলা হয়েছে।
- ব্যবসায় লাভের পাশাপাশি মানুষের প্রয়োজন ও অধিকার বিবেচনা করা দরকার।
- সব ধরনের সাধারণ সংরক্ষণকে একইভাবে না দেখে পণ্য ও উদ্দেশ্য বুঝতে হবে।
