১২/৪৮. অধ্যায়ঃ

জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১২৭৮ - হিজামার উপকারিতা ও পারিশ্রমিক

রক্তক্ষরণ কাজের মজুরি নেওয়ার অনুমতি প্রসঙ্গে

হিজামার উপকারিতা ও হিজামাকারীকে পারিশ্রমিক দেওয়ার ঘটনা

জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ১২৭৮

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، أَخْبَرَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ جَعْفَرٍ، عَنْ حُمَيْدٍ، قَالَ سُئِلَ أَنَسٌ عَنْ كَسْبِ الْحَجَّامِ، فَقَالَ أَنَسٌ احْتَجَمَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ وَحَجَمَهُ أَبُو طَيْبَةَ فَأَمَرَ لَهُ بِصَاعَيْنِ مِنْ طَعَامٍ وَكَلَّمَ أَهْلَهُ فَوَضَعُوا عَنْهُ مِنْ خَرَاجِهِ وَقَالَ " إِنَّ أَفْضَلَ مَا تَدَاوَيْتُمْ بِهِ الْحِجَامَةُ» . أَوْ " إِنَّ مِنْ أَمْثَلِ دَوَائِكُمُ الْحِجَامَةَ» .قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ عَلِيٍّ وَابْنِ عَبَّاسٍ وَابْنِ عُمَرَ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ أَنَسٍ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَقَدْ رَخَّصَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ ﷺ وَغَيْرِهِمْ فِي كَسْبِ الْحَجَّامِ . وَهُوَ قَوْلُ الشَّافِعِيِّ .

আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

রক্তক্ষরণকারীর পারিশ্রমিক প্রসঙ্গে আনাস (রাঃ)-কে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) রক্তক্ষরণ করিয়েছেন। আবূ তাইবা তাঁর রক্তক্ষরণ করেন। তিনি তাকে দুই সা’ পরিমাণ খাদ্যদ্রব্য দেওয়ার হুকুম দেন। তার মালিক পরিবারের সাথে তিনি আলোচনা করলে তারা তার উপর ধার্যকৃত অর্থের পরিমাণ কমিয়ে দেয়। তিনি বলেনঃ তোমরা যেসব চিকিৎসা গ্রহণ কর সে সবের মধ্যে রক্তক্ষরণ উত্তম চিকিৎসা। অথবা তোমাদের ঔষধগুলোর মধ্যে রক্তক্ষরণ উত্তম ঔষধ।

আলী, ইবনু আব্বাস ও ইবনু উমার (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ্‌ বলেছেন। রক্তক্ষরণের মজুরি গ্রহণের পক্ষে একদল বিশেষজ্ঞ সাহাবী ও তাবিঈ সম্মতি দিয়েছেন। ইমাম শাফিঈরও এই মত।

জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১২৭৮-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসের মূল বিষয় হলো হিজামা চিকিৎসা ও হিজামাকারীর পারিশ্রমিক। আনাস (রাঃ)-কে হিজামার আয় সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি জানান, রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) নিজে হিজামা করিয়েছিলেন। আবু তাইবা তাঁর হিজামা করেন। নবীজি তাকে দুই সা পরিমাণ খাদ্য দেওয়ার নির্দেশ দেন। তিনি আবু তাইবার পরিবারের মালিকদের সঙ্গে কথা বলে তার ওপর ধার্য করা অর্থের পরিমাণও কমিয়ে দেন। এরপর তিনি হিজামাকে মানুষের গ্রহণ করা উত্তম চিকিৎসাগুলোর একটি অথবা উত্তম ওষুধগুলোর একটি হিসেবে উল্লেখ করেন। এতে চিকিৎসাসেবা গ্রহণ, সেবাদাতাকে পারিশ্রমিক দেওয়া এবং তার আর্থিক চাপ কমানোর চেষ্টা—তিনটি বিষয় দেখা যায়। হাদিসটি হিজামার প্রশংসা করেছে, তবে সব রোগের জন্য একইভাবে নিশ্চিত ফলের দাবি করেনি। তাই হিজামাকে বর্ণনায় উল্লেখিত একটি ভালো চিকিৎসাপদ্ধতি হিসেবে দেখা উচিত এবং অতিরঞ্জিত প্রতিশ্রুতি দেওয়া উচিত নয়।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) হিজামা গ্রহণ করেছেন এবং হিজামাকারীকে খাদ্য দিতে বলেছেন।
  • কর্মীর ওপর থাকা আর্থিক চাপ কমাতে সহায়তা করা একটি ভালো আচরণ।
  • হাদিসে হিজামাকে উত্তম চিকিৎসাগুলোর একটি বলা হয়েছে।
  • হিজামার উপকারিতা বলতে গিয়ে হাদিসের ভাষার বাইরে অতিরঞ্জন করা উচিত নয়।

এই সম্পর্কিত হাদিসসমূহ

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন