১২/৪৯. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১২৭৯ - কুকুর ও বিড়াল বিক্রির মূল্য
কুকুর ও বিড়ালের বিক্রয় মূল্য নেওয়া মাকরুহ
কুকুর ও বিড়ালের বিক্রয়মূল্য সম্পর্কে হাদিসের বক্তব্য
জামে‘ আত-তিরমিযী : ১২৭৯
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ১২৭৯
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، وَعَلِيُّ بْنُ خَشْرَمٍ، قَالاَ أَنْبَأَنَا عِيسَى بْنُ يُونُسَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي سُفْيَانَ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ ﷺ عَنْ ثَمَنِ الْكَلْبِ وَالسِّنَّوْرِ .قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ فِي إِسْنَادِهِ اضْطِرَابٌ وَلاَ يَصِحُّ فِي ثَمَنِ السِّنَّوْرِ . وَقَدْ رُوِيَ هَذَا الْحَدِيثُ عَنِ الأَعْمَشِ عَنْ بَعْضِ أَصْحَابِهِ عَنْ جَابِرٍ . وَاضْطَرَبُوا عَلَى الأَعْمَشِ فِي رِوَايَةِ هَذَا الْحَدِيثِ . وَقَدْ كَرِهَ قَوْمٌ مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ ثَمَنَ الْهِرِّ وَرَخَّصَ فِيهِ بَعْضُهُمْ وَهُوَ قَوْلُ أَحْمَدَ وَإِسْحَاقَ . وَرَوَى ابْنُ فُضَيْلٍ عَنِ الأَعْمَشِ عَنْ أَبِي حَازِمٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ مِنْ غَيْرِ هَذَا الْوَجْهِ .
জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
কুকুর ও বিড়ালের বিক্রয় মূল্য নিতে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নিষেধ করেছেন।
আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসের সনদে গরমিল আছে। বিড়ালের মূল্য সম্পর্কে সহীহ্ হাদীস নেই। এই হাদীসটি আ’মাশের কোন কোন শাগরিদ জাবির (রাঃ) হতেও বর্ণনা করেছেন। আ’মাশের স্তরে এসে বর্ণনাকারীগণ গরমিল করেছেন। বিড়ালের বিক্রয় মূল্য নেওয়াকে একদল বিশেষজ্ঞ আলিম মাকরূহ বলেছেন, কিন্তু তা গ্রহণের পক্ষে অন্য দল সম্মতি প্রদান করেছেন। এই শেষোক্ত মত পোষণ করেন ইমাম আহ্মাদ ও ইসহাক। হাদীসটি ইবনু ফুযাইল আ’মাশ হতে, তিনি আবূ হাযিম হতে, তিনি আবূ হুরাইরা হতে, তিনি নাবী (ﷺ) হতে অন্যভাবে বর্ণনা করেছেন।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১২৭৯-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় হলো কুকুর ও বিড়ালের বিক্রয়মূল্য। জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) কুকুর ও বিড়ালের মূল্য গ্রহণ করতে নিষেধ করেছেন। তবে বর্ণনার পর ইমাম তিরমিজি গুরুত্বপূর্ণ একটি সনদগত মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেছেন, এই হাদিসের সনদে অস্থিরতা রয়েছে এবং বিশেষভাবে বিড়ালের মূল্য সম্পর্কে বর্ণনাটি সহিহ নয়। আরও উল্লেখ করা হয়েছে, আলিমদের একদল বিড়ালের মূল্য অপছন্দ করেছেন এবং অন্যরা তা অনুমোদন করেছেন। তাই এই হাদিস ব্যাখ্যা করার সময় দুটি বিষয় আলাদা রাখতে হবে। কুকুরের মূল্য সম্পর্কে অন্য বর্ণনাতেও নিষেধ এসেছে, কিন্তু বিড়ালের মূল্যসংক্রান্ত এই নির্দিষ্ট বর্ণনার গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে দুর্বলতা ও মতভেদ রয়েছে। সুতরাং শুধু অনুবাদের প্রথম বাক্য দেখে বিড়ালের বিষয়ে চূড়ান্ত ও সর্বসম্মত দাবি করা উচিত নয়; বর্ণনার শেষে থাকা সনদগত মন্তব্যও গুরুত্বের সঙ্গে পড়তে হবে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- হাদিসের অনুবাদের পাশাপাশি সনদ ও মুহাদ্দিসের মন্তব্যও পড়া জরুরি।
- কুকুরের বিক্রয়মূল্য গ্রহণে বর্ণনায় নিষেধ এসেছে।
- বিড়ালের মূল্যসংক্রান্ত এই বর্ণনাকে ইমাম তিরমিজি সহিহ বলেননি।
- বিড়ালের মূল্য নিয়ে আলিমদের মধ্যে মতভেদ উল্লেখ করা হয়েছে।
