১২/৬৮. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১৩০৯ - ঋণের টালবাহানা ও এক চুক্তিতে দুই বিক্রয়
ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে স্বচ্ছল ব্যক্তির টালবাহানা করা অন্যায়
ঋণ পরিশোধ, হাওয়ালা ও এক চুক্তিতে দুই বিক্রয়ের বিধান
জামে‘ আত-তিরমিযী : ১৩০৯
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ১৩০৯
حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْهَرَوِيُّ، قَالَ حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ، قَالَ حَدَّثَنَا يُونُسُ بْنُ عُبَيْدٍ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ «مَطْلُ الْغَنِيِّ ظُلْمٌ وَإِذَا أُحِلْتَ عَلَى مَلِيءٍ فَاتْبَعْهُ وَلاَ تَبِعْ بَيْعَتَيْنِ فِي بَيْعَةٍ» .قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ أَبِي هُرَيْرَةَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَمَعْنَاهُ أَنَّهُ إِذَا أُحِيلَ أَحَدُكُمْ عَلَى مَلِيٍّ فَلْيَتْبَعْ . فَقَالَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ إِذَا أُحِيلَ الرَّجُلُ عَلَى مَلِيٍّ فَاحْتَالَهُ فَقَدْ بَرِئَ الْمُحِيلُ وَلَيْسَ لَهُ أَنْ يَرْجِعَ عَلَى الْمُحِيلِ . وَهُوَ قَوْلُ الشَّافِعِيِّ وَأَحْمَدَ وَإِسْحَاقَ .وَقَالَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ إِذَا تَوِيَ مَالُ هَذَا بِإِفْلاَسِ الْمُحَالِ عَلَيْهِ فَلَهُ أَنْ يَرْجِعَ عَلَى الأَوَّلِ . وَاحْتَجُّوا بِقَوْلِ عُثْمَانَ وَغَيْرِهِ حِينَ قَالُوا لَيْسَ عَلَى مَالِ مُسْلِمٍ تَوًى . قَالَ إِسْحَاقُ مَعْنَى هَذَا الْحَدِيثِ «لَيْسَ عَلَى مَالِ مُسْلِمٍ تَوًى» . هَذَا إِذَا أُحِيلَ الرَّجُلُ عَلَى آخَرَ وَهُوَ يَرَى أَنَّهُ مَلِيٌّ فَإِذَا هُوَ مُعْدِمٌ فَلَيْسَ عَلَى مَالِ مُسْلِمٍ تَوًى .
ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ সচ্ছল অবস্থা সম্পন্ন লোকদের (ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে) টালবাহানা করা যুলুম। তোমাকে অবস্থা সম্পন্ন ব্যক্তির উপর সোপর্দ করা হলে তুমি তা অনুমোদন করবে এবং এক বিক্রয় চুক্তির মধ্যে দুই বিক্রয় (শর্ত) অন্তর্ভুক্ত করবে না।
আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ্ বলেছেন। এ হাদীসের তাৎপর্য হলঃ কোন লোক তার (ঋণ ইত্যাদির) দায় সচ্ছল লোকের উপর অর্পণ (হাওয়ালা) করলে সে যেন তা অনুমোদন করে। কিছু আলিম বলেছেন, সক্ষম ব্যক্তির উপর ঋণ অর্পণ করা হলে এবং পাওনাদার তা অনুমোদন করলে ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি দায় মুক্ত হয়ে যাবে। ঋণদানকারী আর তাকে তাগাদা দিতে পারবে না। এই মত দিয়েছেন ইমাম শাফিঈ, আহ্মাদ ও ইসহাক। অন্য একদল আলিম বলেছেন, সক্ষম অবস্থাসম্পন্ন লোকের উপর যে লোকের ঋণ পরিশোধের দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছিল সে যদি দেউলিয়া হয়ে যায়, তবে ঋণদানকারী তার আসল ঋণীকে তাগাদা দেয়ার অধিকারী হবে। তারা নিজেদের দলীল হিসাবে উসমান (রাঃ) ও অন্যান্য সাহাবীর একটি বক্তব্যকে গ্রহণ করেছেনঃ “মুসলমানের মাল বিলীন হতে পারে না”। ইসহাক বলেন, ‘মুসলমানের মাল বিলীন হতে পারে না’ কথার তাৎপর্য এই যে, ঋণগ্রহীতা ঋণদাতাকে অন্য কোন ব্যক্তির নিকট হতে তাকে সচ্ছল ভেবে তার ঋণ আদায় করে নেওয়ার কথা বলে। কিন্তু দেখা গেল যে, সে আসলে দেউলিয়া। এই অবস্থায় মুসলমানের মাল বিনষ্ট হতে পারে না (হাওয়ালাকারীকেই তা পরিশোধ করতে হবে)।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১৩০৯-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আর্থিক লেনদেনের তিনটি নির্দেশ একসঙ্গে এসেছে। প্রথম নির্দেশ হলো, সচ্ছল ব্যক্তি ঋণ পরিশোধে টালবাহানা করলে তা জুলুম। দ্বিতীয় নির্দেশ অনুযায়ী, পাওনাদারকে যদি এমন একজন সামর্থ্যবান ব্যক্তির কাছে পাঠানো হয়, যে পাওনা পরিশোধ করতে পারবে, তাহলে সেই হাওয়ালা গ্রহণ করতে বলা হয়েছে। তৃতীয় নির্দেশ হলো, একটি বিক্রয় চুক্তির মধ্যে দুটি বিক্রয় বা দুটি ভিন্ন শর্তযুক্ত বিক্রয় জুড়ে না দেওয়া। হাদিসের অনুবাদে এই তিনটি বিষয়ই স্পষ্টভাবে উল্লেখিত। তাই ব্যাখ্যার ক্ষেত্রেও এগুলো আলাদা করে বোঝা দরকার। ঋণ সময়মতো পরিশোধ করতে হবে, দায় হস্তান্তরের বৈধ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে এবং বিক্রয় চুক্তিকে অস্পষ্ট করে এমন দ্বৈত বিক্রয় শর্ত এড়াতে হবে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সামর্থ্যবান ব্যক্তির ঋণ পরিশোধে অকারণ দেরি করা জুলুম।
- সক্ষম ব্যক্তির কাছে পাওনা হস্তান্তর করা হলে তা গ্রহণ করতে বলা হয়েছে।
- একটি বিক্রয় চুক্তির মধ্যে দুটি বিক্রয় জুড়ে দিতে নিষেধ করা হয়েছে।
- ঋণ ও বিক্রয়ের শর্ত পরিষ্কার রাখা দরকার।
