১২/৬৮. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১৩০৮ - সক্ষম ব্যক্তির ঋণ পরিশোধে টালবাহানা
ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে স্বচ্ছল ব্যক্তির টালবাহানা করা অন্যায়
ঋণ পরিশোধে টালবাহানা অন্যায়: সক্ষম ব্যক্তির দায়িত্ব
জামে‘ আত-তিরমিযী : ১৩০৮
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ১৩০৮
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ «مَطْلُ الْغَنِيِّ ظُلْمٌ وَإِذَا أُتْبِعَ أَحَدُكُمْ عَلَى مَلِيٍّ فَلْيَتْبَعْ» . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنِ ابْنِ عُمَرَ وَالشَّرِيدِ بْنِ سُوَيْدٍ الثَّقَفِيِّ .
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) বলেছেনঃ ঋণ পরিশোধ করার ক্ষেত্রে সক্ষম ব্যক্তির টালবাহানা করা অন্যায়। তোমাদের কারো পাওনা পরিশোধ করার জন্য ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি কোন সক্ষম ব্যক্তির উপর দায়িত্ব দিলে তা অনুমোদন করা উচিত।
ইবনু উমার ও আশ-শারীদ (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদ হাদীস বর্ণিত আছে।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১৩০৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে ঋণ পরিশোধের দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বলা হয়েছে। প্রথমত, কোনো ব্যক্তি ঋণ পরিশোধে সক্ষম হওয়ার পরও ইচ্ছাকৃতভাবে সময় নিলে তা অন্যায়। অর্থাৎ তার কাছে পরিশোধের সামর্থ্য আছে, কিন্তু সে পাওনাদারকে ঘোরাচ্ছে বা অকারণে অপেক্ষা করাচ্ছে। দ্বিতীয়ত, ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি যদি পাওনাদারকে এমন একজন সক্ষম ব্যক্তির কাছে পাঠায়, যে তার পাওনা পরিশোধ করবে, তাহলে সেই দায়িত্ব হস্তান্তর গ্রহণ করতে বলা হয়েছে। এই ব্যবস্থাকে হাওয়ালা বলা হয়। হাদিসটি অসচ্ছল ঋণগ্রস্তকে দেওয়া সুযোগের বিপরীত অবস্থা স্পষ্ট করে। সত্যিই অভাবী ব্যক্তিকে সময় দেওয়া উচিত, কিন্তু সামর্থ্যবান ব্যক্তির টালবাহানা গ্রহণযোগ্য নয়। ঋণ, পাওনা ও হাওয়ালার লেনদেনে স্পষ্টতা ও সময়মতো দায় পালন জরুরি।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও ঋণ পরিশোধে দেরি করা অন্যায়।
- পাওনাদারকে অকারণে অপেক্ষা করানো উচিত নয়।
- সক্ষম ব্যক্তির কাছে বৈধভাবে পাওনার দায় দেওয়া হলে তা গ্রহণ করতে বলা হয়েছে।
- অভাবী ঋণগ্রস্ত ও ইচ্ছাকৃতভাবে দেরি করা সচ্ছল ব্যক্তির অবস্থা আলাদা।
