১৩/৩. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১৩২৮ - মুআযের বিচারনীতির আরেক বর্ণনা
বিচারক কিভাবে ফায়সালা করবে
মুআয (রাঃ)-এর বিচারনীতি: কুরআন, সুন্নাহ ও ইজতিহাদের বর্ণনা
জামে‘ আত-তিরমিযী : ১৩২৮
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ১৩২৮
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، وَعَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ، قَالاَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ أَبِي عَوْنٍ، عَنِ الْحَارِثِ بْنِ عَمْرٍو ابْنُ أَخٍ، لِلْمُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ عَنْ أُنَاسٍ، مِنْ أَهْلِ حِمْصٍ عَنْ مُعَاذٍ، عَنِ النَّبِيِّ ﷺ نَحْوَهُ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ لاَ نَعْرِفُهُ إِلاَّ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ وَلَيْسَ إِسْنَادُهُ عِنْدِي بِمُتَّصِلٍ . وَأَبُو عَوْنٍ الثَّقَفِيُّ اسْمُهُ مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدِ اللَّهِ .
মু'আয (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
মুহাম্মাদ ইবনু বাশ্শার স্বীয় সনদে মুআয (রাঃ) হতে হান্নাদের হাদীসের মতই বর্ণনা করেছেন।
আবূ ঈসা (রহঃ) বলেছেন, শুধু উল্লেখিত সূত্রেই আমরা হাদীসটি প্রসঙ্গে জেনেছি। আমার মতে এ হাদীসের সনদ পরস্পর সংযুক্ত নয়। আবূ আওন আস-সাকাফীর নাম মুহাম্মাদ, পিতা উবাইদুল্লাহ। -দেখুন পূর্বের হাদীস।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১৩২৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসটি আগের বর্ণনার মতোই মুআয (রাঃ)-এর বিচারপদ্ধতি তুলে ধরে। সংক্ষিপ্তভাবে বলা হয়েছে, অন্য একটি সনদে একই অর্থের হাদিস বর্ণিত হয়েছে। তাই এর মূল শিক্ষা আগের হাদিসের সঙ্গে যুক্ত: বিচার করতে প্রথমে আল্লাহর কিতাব দেখা, সেখানে সরাসরি সমাধান না পেলে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর সুন্নাহ অনুসরণ করা এবং তাতেও নির্দিষ্ট নির্দেশ না থাকলে জ্ঞান-বুদ্ধি দিয়ে ইজতিহাদ করা। এই বর্ণনা নতুন কোনো আলাদা ঘটনা যোগ করছে না; বরং একই বক্তব্যের আরেকটি সূত্র উল্লেখ করছে। পাঠকের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ইসলামী বিচারনীতি উৎসভিত্তিক ও ধাপে ধাপে পরিচালিত। বিচারকের ব্যক্তিগত মত প্রথম নয়। কুরআন ও সুন্নাহর নির্দেশ আগে আসে। এরপর যোগ্যতা ও সতর্কতার সঙ্গে ইজতিহাদের সুযোগ থাকে। তাই সিদ্ধান্তের ভিত্তি, পদ্ধতি ও দায়—তিনটিই গুরুত্ব পায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- এই বর্ণনা আগের হাদিসের একই অর্থ সমর্থন করে।
- কুরআন ও সুন্নাহ বিচারকার্যের প্রধান ভিত্তি।
- নির্দিষ্ট নির্দেশ না পেলে যোগ্য জ্ঞান দিয়ে ইজতিহাদ করা হয়।
- একই বক্তব্য ভিন্ন সনদে বর্ণিত হতে পারে।
