১৩/৯. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১৩৩৭ - ঘুষ দেওয়া ও নেওয়ার বিরুদ্ধে স্পষ্ট হাদিস
বিচারকার্যে ঘুষখোর ও ঘুষদাতা
ঘুষ দেওয়া ও নেওয়া: উভয় পক্ষের বিরুদ্ধে রাসূলের সতর্কতা
জামে‘ আত-তিরমিযী : ১৩৩৭
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ১৩৩৭
حَدَّثَنَا أَبُو مُوسَى، مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى حَدَّثَنَا أَبُو عَامِرٍ الْعَقَدِيُّ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي ذِئْبٍ، عَنْ خَالِهِ الْحَارِثِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، قَالَ لَعَنَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ الرَّاشِي وَالْمُرْتَشِي .قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .
‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
ঘুষ গ্রহণকারী ও ঘুষ প্রদানকারী দুজনকেই রাসূলুল্লাহ (ﷺ) অভিসম্পাত করেছেন।
এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ্ বলেছেন।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১৩৩৭-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে খুব সংক্ষিপ্ত ভাষায় ঘুষের বিষয়ে বড় সতর্কতা এসেছে। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) ঘুষ প্রদানকারী এবং ঘুষ গ্রহণকারী—দুজনকেই অভিসম্পাত করেছেন। এর মাধ্যমে বোঝা যায়, ঘুষের অপরাধ শুধু গ্রহণকারীর নয়। যে ব্যক্তি নিজের কাজ এগিয়ে নিতে, অন্যায় সুবিধা পেতে বা সিদ্ধান্ত বদলাতে ঘুষ দেয়, সেও দুর্নীতির অংশ হয়। আর যে ব্যক্তি দায়িত্বের বিনিময়ে অর্থ বা সুবিধা নেয়, সে নিজের আমানত নষ্ট করে। ঘুষের কারণে যোগ্য ব্যক্তি বঞ্চিত হতে পারে, অন্যায়ের পক্ষে রায় যেতে পারে এবং সমাজে আস্থা কমে যায়। হাদিসের বক্তব্যে কোনো জটিল ব্যাখ্যা নেই; সরাসরি দুই পক্ষকে দায়ী করা হয়েছে। তাই ব্যক্তিগত প্রয়োজন, দ্রুত কাজ বা প্রভাবশালী ফলের অজুহাতে ঘুষকে হালকা করে দেখা উচিত নয়। ন্যায়সঙ্গত পথ ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়া অনুসরণ করাই মূল শিক্ষা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ঘুষদাতা ও ঘুষগ্রহীতা উভয়েই দায়ী।
- অন্যায় সুবিধা পাওয়ার জন্য অর্থ দেওয়া বৈধ পথ নয়।
- ঘুষ দায়িত্ব ও আমানতের বিশ্বাস নষ্ট করে।
- স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা উচিত।
