১৪/১৫. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১৪১০ - গর্ভস্থ শিশুর ক্ষতিতে নির্ধারিত রক্তপণ
জানীন (গর্ভস্থ ভ্রুণ) এর রক্তপণ
ভ্রূণের রক্তপণ: গর্ভস্থ শিশুর অধিকার নিয়ে হাদিস
জামে‘ আত-তিরমিযী : ১৪১০
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ১৪১০
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ سَعِيدٍ الْكِنْدِيُّ الْكُوفِيُّ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي زَائِدَةَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَضَى رَسُولُ اللَّهِ ﷺ فِي الْجَنِينِ بِغُرَّةٍ عَبْدٍ أَوْ أَمَةٍ. فَقَالَ الَّذِي قُضِيَ عَلَيْهِ أَنُعْطِي مَنْ لاَ شَرِبَ وَلاَ أَكَلَ وَلاَ صَاحَ فَاسْتَهَلَّ فَمِثْلُ ذَلِكَ يُطَلُّ . فَقَالَ النَّبِيُّ ﷺ " إِنَّ هَذَا لَيَقُولُ بِقَوْلِ شَاعِرٍ بَلْ فِيهِ غُرَّةٌ عَبْدٌ أَوْ أَمَةٌ " .وَفِي الْبَابِ عَنْ حَمَلِ بْنِ مَالِكِ بْنِ النَّابِغَةِ وَالْمُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ. قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ أَبِي هُرَيْرَةَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ. وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ. وَقَالَ بَعْضُهُمُ الْغُرَّةُ عَبْدٌ أَوْ أَمَةٌ أَوْ خَمْسُمِائَةِ دِرْهَمٍ. وَقَالَ بَعْضُهُمْ أَوْ فَرَسٌ أَوْ بَغْلٌ.
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
ভ্রূণের (গর্ভস্থিত বাচ্চার) রক্তপণ হিসেবে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একজন যুবক গোলাম অথবা বাঁদী দেওয়ার ফায়সালা করেছেন। যে লোককে তিনি রক্তপণের নির্দেশ দিলেন সে বলল, আপনি এরূপ বাচ্চার রক্তপণ প্রদান করাবেন কি, যে পানও করেনিও, খায়ওনি এবং চিৎকারও করেনি? এরূপ (খুনের কিসাস) তো বাতিল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন। এ লোক তো কবিদের মত (প্রমাণহীন) কথা বলছে। হ্যাঁ, অবশ্যই এর রক্তপণ হিসেবে একজন যুবক গোলাম অথবা বাঁদী ধার্য হবে।
হামল ইবনু মালিক ইবনু নাবিগা এবং মুগীরা ইবনু শু’বা (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ্ বলেছেন। এ হাদীস মোতাবেক বিশেষজ্ঞ আলিমগণ আমল করেছেন। তাদের কেউ কেউ বলেছেন, এক ‘গুর্রা’ হল একজন গোলাম অথবা একজন ক্রীতদাসী অথবা পাঁচ শত দিরহাম। আবার কেউ বলেছেন, অথবা একটি ঘোড়া বা একটি খচ্চর।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১৪১০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে গর্ভস্থ শিশুর মৃত্যুর জন্য নির্ধারিত রক্তপণের কথা এসেছে। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) ফয়সালা করেন, ভ্রূণের দিয়াত হিসেবে একজন যুবক গোলাম অথবা বাঁদী দিতে হবে। যার ওপর এই দায় দেওয়া হয়েছিল, সে যুক্তি দেখায় যে শিশুটি পান করেনি, খায়নি এবং জন্মের পর চিৎকারও করেনি। সে কারণে তার মতে কোনো রক্তপণ থাকা উচিত নয়। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) এই কথাকে প্রমাণহীন কবিসুলভ কথা বলে প্রত্যাখ্যান করেন এবং নির্ধারিত দিয়াত বহাল রাখেন। হাদিসের মূল শিক্ষা হলো, গর্ভস্থ শিশুর ক্ষতি তুচ্ছ নয় এবং ব্যক্তিগত আবেগ বা শব্দের খেলা দিয়ে নির্ধারিত দায় বাতিল করা যায় না। বিচার হবে প্রতিষ্ঠিত ফয়সালা ও প্রমাণের ভিত্তিতে। এখানে নির্দিষ্ট সময়ের একটি আইনি ক্ষতিপূরণের ধরন বলা হয়েছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- গর্ভস্থ শিশুর ক্ষতি তুচ্ছ করে দেখা যাবে না।
- ভ্রূণের মৃত্যুর জন্য নির্ধারিত দিয়াতের ফয়সালা এসেছে।
- প্রমাণহীন যুক্তি দিয়ে বিচারিক দায় বাতিল করা যায় না।
- বিচারে আবেগের বদলে নির্ধারিত নীতি মানতে হয়।
