১৫/১০. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১৪৩৭ - আহলে কিতাবের বিচারিক ঘটনার বর্ণনা
আহলে কিতাবের যিনাকারীকে রজম করা
আহলে কিতাবের বিচার: ইয়াহুদি নারী-পুরুষের রজমের ঘটনা
জামে‘ আত-তিরমিযী : ১৪৩৭
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ১৪৩৭
حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، حَدَّثَنَا شَرِيكٌ، عَنْ سِمَاكِ بْنِ حَرْبٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ رَجَمَ يَهُودِيًّا وَيَهُودِيَّةً . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنِ ابْنِ عُمَرَ وَالْبَرَاءِ وَجَابِرٍ وَابْنِ أَبِي أَوْفَى وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْحَارِثِ بْنِ جَزْءٍ وَابْنِ عَبَّاسٍ .قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ. وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَكْثَرِ أَهْلِ الْعِلْمِ قَالُوا إِذَا اخْتَصَمَ أَهْلُ الْكِتَابِ وَتَرَافَعُوا إِلَى حُكَّامِ الْمُسْلِمِينَ حَكَمُوا بَيْنَهُمْ بِالْكِتَابِ وَالسُّنَّةِ وَبِأَحْكَامِ الْمُسْلِمِينَ وَهُوَ قَوْلُ أَحْمَدَ وَإِسْحَاقَ. وَقَالَ بَعْضُهُمْ لاَ يُقَامُ عَلَيْهِمُ الْحَدُّ فِي الزِّنَا . وَالْقَوْلُ الأَوَّلُ أَصَحُّ .
জাবির ইবনু সামুরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) যিনাকারী একজন ইয়াহূদী পুরুষ ও একজন মহিলাকে রজম (পাথর মেরে হত্যা) করার নির্দেশ দেন।
ইবনু উমার, বারাআ, জাবির, ইবনু আবী আওফা, আবদুল্লাহ ইবনু হারিস ইবনু জাযই ও ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। জাবির ইবনু সামুরা (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান গারীব বলেছেন। এ হাদীস মোতাবেক বেশিরভাগ অভিজ্ঞ আলিম আমল করেছেন। তারা বলেছেন, আহলে কিতাবগণ নিজেদের মধ্যে ঝগড়া-বিবাদে লিপ্ত হয়ে তার সমাধানের জন্য মুসলিম বিচারকের নিকট এলে তিনি কুরআন-সুন্নাহ ও মুসলমানদের আইন-কানুন মতো বিচার করবেন। এই অভিমত প্রকাশ করেছেন আহমাদ ও ইসহাকও। অপর একদল অভিজ্ঞ আলিম বলেছেন, যিনার বেলায় তাদের উপর হাদ্দ প্রতিষ্ঠিত করা হবে না। প্রথমোক্ত মতই অনেক বেশি সহীহ।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১৪৩৭-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে জাবির ইবন সামুরা (রাঃ) বলেন, নবী (صلى الله عليه وسلم) একজন ইয়াহুদি পুরুষ ও একজন ইয়াহুদি নারীকে রজমের নির্দেশ দিয়েছিলেন। মূল বর্ণনাটি সংক্ষিপ্ত হলেও পরের আলোচনায় আলেমদের মত উল্লেখ করা হয়েছে। অধিকাংশ আলেম বলেছেন, আহলে কিতাবের লোকেরা নিজেদের বিরোধ নিয়ে মুসলিম বিচারকের কাছে এলে তাদের মধ্যে কিতাব, সুন্নাহ ও মুসলিমদের বিচারিক বিধান অনুযায়ী ফয়সালা করা হবে। অন্য একটি মতও উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে তাদের ওপর যিনার হদ কার্যকর না করার কথা বলা হয়েছে। ইমাম তিরমিজির আলোচনায় প্রথম মতকে অধিক সঠিক বলা হয়েছে। আহলে কিতাবের বিচার নিয়ে এই হাদিসের বিষয়টি একটি কর্তৃত্বপূর্ণ বিচারব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত। ব্যক্তিগতভাবে কারও বিরুদ্ধে শাস্তি প্রয়োগের অনুমতি এই বর্ণনায় নেই।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নবী (صلى الله عليه وسلم) একজন ইয়াহুদি পুরুষ ও নারীর বিষয়ে রজমের রায় দিয়েছিলেন।
- আহলে কিতাবের বিরোধ মুসলিম বিচারকের কাছে এলে কীভাবে বিচার হবে, তা আলোচিত হয়েছে।
- বিষয়টি নিয়ে আলেমদের দুটি মত হাদিসের পরবর্তী অংশে উল্লেখ করা হয়েছে।
- ইমাম তিরমিজির আলোচনায় প্রথম মতকে অধিক সঠিক বলা হয়েছে।
