১৭/১৪. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১৫১০ - কুরবানির গোশত খাওয়া, খাওয়ানো ও রাখা
কুরবানীর গোশত তিন দিনের পরেও খাওয়ার সম্মতি প্রসঙ্গে
কুরবানির গোশত খাওয়া, খাওয়ানো ও সংরক্ষণের হাদিস
জামে‘ আত-তিরমিযী : ১৫১০
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ১৫১০
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، وَمَحْمُودُ بْنُ غَيْلاَنَ، وَالْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ الْخَلاَّلُ، وَغَيْرُ، وَاحِدٍ، قَالُوا أَخْبَرَنَا أَبُو عَاصِمٍ النَّبِيلُ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ، عَنْ عَلْقَمَةَ بْنِ مَرْثَدٍ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ بُرَيْدَةَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ " كُنْتُ نَهَيْتُكُمْ عَنْ لُحُومِ الأَضَاحِي فَوْقَ ثَلاَثٍ لِيَتَّسِعَ ذُو الطَّوْلِ عَلَى مَنْ لاَ طَوْلَ لَهُ فَكُلُوا مَا بَدَا لَكُمْ وَأَطْعِمُوا وَادَّخِرُوا " .قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ وَعَائِشَةَ وَنُبَيْشَةَ وَأَبِي سَعِيدٍ وَقَتَادَةَ بْنِ النُّعْمَانِ وَأَنَسٍ وَأُمِّ سَلَمَةَ. قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ بُرَيْدَةَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ. وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ ﷺ وَغَيْرِهِمْ.
সুলাইমান ইবনু বুরাইদা (রহঃ) হতে তার বাবা হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কুরবানীর গোশত তিন দিনের পরেও রাখতে (খেতে) আমি তোমাদেরকে বারণ করেছিলাম, যেন সম্পদশালীরা উদারহস্তে তাদের গোশত দরিদ্রদের মধ্যে দান করে। এখন তোমরা ইচ্ছামত তৃপ্তিসহকারে তা খাও, অন্যকে খাওয়াও এবং জমা করেও রাখতে পার।
ইবনু মাসঊদ, আইশা, নুবাইশা, আবূ সাঈদ, কাতাদা ইবনু নু’মান, আনাস ও উন্মু সালামা (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। বুরাইদা (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। এ হাদীস মোতাবিক রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর অভিজ্ঞ সাহাবী এবং অপরাপর আলিমগণ আমল করেছেন।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১৫১০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় হলো কুরবানির গোশত বণ্টন ও সংরক্ষণ। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) জানান, তিনি আগে তিন দিনের বেশি কুরবানির গোশত রাখতে নিষেধ করেছিলেন। উদ্দেশ্য ছিল, যাদের সামর্থ্য আছে তারা যেন উদারভাবে এমন মানুষের মধ্যে গোশত বিলিয়ে দেন, যাদের সামর্থ্য নেই। পরে তিনি বলেন, এখন তোমরা ইচ্ছামতো খাও, অন্যকে খাওয়াও এবং জমা করেও রাখো। তাই কুরবানির গোশত কীভাবে ভাগ করবেন—এই প্রশ্নে হাদিসটি তিনটি কাজ একসঙ্গে উল্লেখ করে: নিজে খাওয়া, অন্যকে খাওয়ানো এবং সংরক্ষণ করা। এতে ব্যক্তিগত প্রয়োজন ও সামাজিক দায়িত্বের একটি সুন্দর ভারসাম্য দেখা যায়। তবে হাদিসটি নির্দিষ্ট ভাগের শতাংশ বলে না। তাই নির্দিষ্ট অনুপাত এ বর্ণনার নামে যোগ করা ঠিক নয়। মূল শিক্ষা হলো, গোশত শুধু নিজের জন্য আটকে না রেখে অন্যদেরও খাওয়ানো এবং প্রয়োজন হলে পরের জন্য রাখা যায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কুরবানির গোশত নিজে খাওয়ার অনুমতি রয়েছে।
- অন্য মানুষকে, বিশেষ করে সামর্থ্যহীনদের, খাওয়ানোর উদ্দেশ্য তুলে ধরা হয়েছে।
- কুরবানির গোশত জমা করে রাখার অনুমতিও দেওয়া হয়েছে।
- হাদিসে নির্দিষ্ট শতকরা ভাগ বলা হয়নি।
