১৭/১৪. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১৫১১ - কুরবানির গোশত দশ দিন পর খাওয়া
কুরবানীর গোশত তিন দিনের পরেও খাওয়ার সম্মতি প্রসঙ্গে
কুরবানির গোশত দশ দিন পরও খাওয়ার বর্ণনা ও মূল উদ্দেশ্য
জামে‘ আত-তিরমিযী : ১৫১১
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ১৫১১
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا أَبُو الأَحْوَصِ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ عَابِسِ بْنِ رَبِيعَةَ، قَالَ قُلْتُ لأُمِّ الْمُؤْمِنِينَ أَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ يَنْهَى عَنْ لُحُومِ الأَضَاحِي قَالَتْ لاَ وَلَكِنْ قَلَّ مَنْ كَانَ يُضَحِّي مِنَ النَّاسِ فَأَحَبَّ أَنْ يُطْعَمَ مَنْ لَمْ يَكُنْ يُضَحِّي وَلَقَدْ كُنَّا نَرْفَعُ الْكُرَاعَ فَنَأْكُلُهُ بَعْدَ عَشَرَةِ أَيَّامٍ .قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَأُمُّ الْمُؤْمِنِينَ هِيَ عَائِشَةُ زَوْجُ النَّبِيِّ ﷺ وَقَدْ رُوِيَ عَنْهَا هَذَا الْحَدِيثُ مِنْ غَيْرِ وَجْهٍ .
আবিস ইবনু রবীআহ (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি উম্মুল মু’মিনীন (আইশা)-কে প্রশ্ন করলাম, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কি কুরবানীর মাংস (তিন দিনের বেশি) খেতে মানা করেছিলেন? তিনি বললেনঃ না, তবে কুরবানী করার মত সামর্থ্যবান লোকের সংখ্যা ছিল খুবই কম। তাই তিনি চাচ্ছিলেন, যারা কুরবানী করতে সমর্থ হয়নি তারাও যেন মাংস খেতে পারে। আমরা কুরবানীর পশুর পায়া রেখে দিতাম এবং দশ দিন পরও তা খেতাম।
আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। এখানে উম্মুল মু’মিনীন বলতে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর স্ত্রী আইশা (রাঃ)-কে বুঝানো হয়েছে। উল্লেখিত হাদীসটি বিভিন্ন সূত্রে তাঁর নিকট হতে বর্ণিত হয়েছে।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১৫১১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় হলো কুরবানির গোশত সংরক্ষণ এবং অন্যদের খাওয়ানো। আয়িশা (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) কি কুরবানির মাংস তিন দিনের বেশি খেতে নিষেধ করেছিলেন। তিনি জানান, কুরবানি করার সামর্থ্যবান মানুষের সংখ্যা তখন কম ছিল। তাই রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) চেয়েছিলেন, যারা কুরবানি করতে পারেনি তারাও যেন গোশত খেতে পারে। আয়িশা (রাঃ) আরও বলেন, তারা কুরবানির পশুর পায়া রেখে দিতেন এবং দশ দিন পরও খেতেন। ফলে কুরবানির মাংস কতদিন রাখা যায়—এই হাদিসে সংরক্ষণের বাস্তব উদাহরণ পাওয়া যায়। একই সঙ্গে বোঝা যায়, সাময়িক সীমাবদ্ধতার পেছনে দরিদ্র ও অসামর্থ্য মানুষের খাবারের প্রয়োজন ছিল। তাই কুরবানির গোশত সংরক্ষণ বৈধ হলেও ভাগাভাগি ও অন্যকে খাওয়ানোর দিকটি ভুলে যাওয়া উচিত নয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কুরবানির গোশত সামর্থ্যহীন মানুষকে খাওয়ানোর উদ্দেশ্য গুরুত্ব পেয়েছে।
- কুরবানির পশুর পায়া দশ দিন পরও খাওয়ার বর্ণনা রয়েছে।
- গোশত সংরক্ষণ ও অন্যকে খাওয়ানো—দুই দিকই একসঙ্গে দেখা দরকার।
- সাময়িক নির্দেশের পেছনে মানুষের প্রয়োজনের বিষয়টি ছিল।
