১৭/১৫. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১৫১২ - ফারা ও আতীরা নেই
ফারাআ ও আতীয়াহ বিষয়ে
ফারা ও আতীরা কী—এ দুই বিশেষ যবেহ না থাকার হাদিস
জামে‘ আত-তিরমিযী : ১৫১২
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ১৫১২
حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ غَيْلاَنَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنِ ابْنِ الْمُسَيَّبِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ «لاَ فَرَعَ وَلاَ عَتِيرَةَ» . وَالْفَرَعُ أَوَّلُ النِّتَاجِ كَانَ يُنْتَجُ لَهُمْ فَيَذْبَحُونَهُ . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ نُبَيْشَةَ وَمِخْنَفِ بْنِ سُلَيْمٍ وَأَبِي الْعُشَرَاءِ عَنْ أَبِيهِ .قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَالْعَتِيرَةُ ذَبِيحَةٌ كَانُوا يَذْبَحُونَهَا فِي رَجَبٍ يُعَظِّمُونَ شَهْرَ رَجَبٍ لأَنَّهُ أَوَّلُ شَهْرٍ مِنْ أَشْهُرِ الْحُرُمِ وَأَشْهُرُ الْحُرُمِ رَجَبٌ وَذُو الْقَعْدَةِ وَذُو الْحِجَّةِ وَالْمُحَرَّمُ وَأَشْهُرُ الْحَجِّ شَوَّالٌ وَذُو الْقَعْدَةِ وَعَشْرٌ مِنْ ذِي الْحِجَّةِ كَذَلِكَ رُوِيَ عَنْ بَعْضِ أَصْحَابِ النَّبِيِّ ﷺ وَغَيْرِهِمْ فِي أَشْهُرِ الْحَجِّ.
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) বলেছেনঃ (এখন আর কোন) ফারাআ নেই, আতীরাহ্ও নেই।
উট বা ছাগল-ভেড়ার প্রথম বাচ্চাকে ফারাআ বলে। আরব মুশরিকরা এটাকে তাদের দেব-দেবীর নামে উৎসর্গ করার উদ্দেশ্যে যবেহ করত। নুবাইশা, মিখনাফ ইবনু সুলাইম ও আবিল উশারার পিতা (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। রজব মাস হারাম মাসগুলোর মধ্যে প্রথম মাস হওয়ার কারণে এর সম্মানার্থে আরব মুশরিকরা পশু যবেহ করত। এ উদ্দেশ্যে যবেহকৃত পশুকে আতীরাহ বলে। হারাম মাসগুলো হচ্ছেঃ রজব, যিলকাদ, যিলহজ্জ ও মুহাররাম। হজ্জের মাসগুলো হচ্ছেঃ শাওয়াল, যিলকাদ ও যিলহজ্জের প্রথম দশদিন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কয়েকজন সাহাবী ও তৎপরবর্তীদের হতে হজ্জের মাসগুলি প্রসঙ্গে এমতই বর্ণিত আছে।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১৫১২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় হলো ফারা ও আতীরা। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, ফারা নেই এবং আতীরাও নেই। বর্ণনার ব্যাখ্যায় ফারা বলতে গৃহপালিত পশুর প্রথম বাচ্চাকে বোঝানো হয়েছে, যেটি আগের লোকেরা বিশেষভাবে যবেহ করত। আতীরা ছিল রজব মাসে করা একটি বিশেষ যবেহ, যা রজবকে সম্মান দেখানোর নামে প্রচলিত ছিল। তাই ফারা কী বা আতীরা কী—এই প্রশ্নে হাদিসের সঙ্গে থাকা ব্যাখ্যা দুটি শব্দের সহজ পরিচয় দেয়। মূল বক্তব্য হলো, এই দুই ধরনের বিশেষ যবেহকে ইসলামী আমল হিসেবে চালিয়ে নেওয়া হয়নি। হাদিসটি কুরবানি বা আকীকার সাধারণ বিধান নিয়ে কথা বলছে না; বরং নির্দিষ্ট দুটি পুরোনো প্রথার নাম উল্লেখ করেছে। তাই ব্যাখ্যার সময় ফারা, আতীরা এবং অন্য যবেহের ধরন এক করে দেখা উচিত নয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ফারা নামে প্রথম প্রসবের পশু বিশেষভাবে যবেহ করার প্রথা বাতিল বলা হয়েছে।
- রজব মাসের বিশেষ যবেহ আতীরাও নেই বলা হয়েছে।
- ফারা ও আতীরা—দুটি আলাদা বিশেষ যবেহের নাম।
- ফারা ও আতীরাকে কুরবানি বা আকীকার সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা ঠিক নয়।
