২/৭. অধ্যায়ঃ

জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১৫৭ - প্রচণ্ড গরমে যুহর ঠান্ডা করে পড়া

অধিক গরমের সময় যুহরের নামাজ দেরিতে আদায় করা

প্রচণ্ড গরমে যুহর: ঠান্ডা করে নামাজ আদায়ের শিক্ষা

জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ১৫৭

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، وَأَبِي، سَلَمَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ " إِذَا اشْتَدَّ الْحَرُّ فَأَبْرِدُوا عَنِ الصَّلاَةِ فَإِنَّ شِدَّةَ الْحَرِّ مِنْ فَيْحِ جَهَنَّمَ " .قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ وَأَبِي ذَرٍّ وَابْنِ عُمَرَ وَالْمُغِيرَةِ وَالْقَاسِمِ بْنِ صَفْوَانَ عَنْ أَبِيهِ وَأَبِي مُوسَى وَابْنِ عَبَّاسٍ وَأَنَسٍ . قَالَ وَرُوِيَ عَنْ عُمَرَ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ فِي هَذَا وَلاَ يَصِحُّ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ أَبِي هُرَيْرَةَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَقَدِ اخْتَارَ قَوْمٌ مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ تَأْخِيرَ صَلاَةِ الظُّهْرِ فِي شِدَّةِ الْحَرِّ وَهُوَ قَوْلُ ابْنِ الْمُبَارَكِ وَأَحْمَدَ وَإِسْحَاقَ . قَالَ الشَّافِعِيُّ إِنَّمَا الإِبْرَادُ بِصَلاَةِ الظُّهْرِ إِذَا كَانَ مَسْجِدًا يَنْتَابُ أَهْلُهُ مِنَ الْبُعْدِ فَأَمَّا الْمُصَلِّي وَحْدَهُ وَالَّذِي يُصَلِّي فِي مَسْجِدِ قَوْمِهِ فَالَّذِي أُحِبُّ لَهُ أَنْ لاَ يُؤَخِّرَ الصَّلاَةَ فِي شِدَّةِ الْحَرِّ . قَالَ أَبُو عِيسَى وَمَعْنَى مَنْ ذَهَبَ إِلَى تَأْخِيرِ الظُّهْرِ فِي شِدَّةِ الْحَرِّ هُوَ أَوْلَى وَأَشْبَهُ بِالاِتِّبَاعِ وَأَمَّا مَا ذَهَبَ إِلَيْهِ الشَّافِعِيُّ أَنَّ الرُّخْصَةَ لِمَنْ يَنْتَابُ مِنَ الْبُعْدِ وَالْمَشَقَّةِ عَلَى النَّاسِ فَإِنَّ فِي حَدِيثِ أَبِي ذَرٍّ مَا يَدُلُّ عَلَى خِلاَفِ مَا قَالَ الشَّافِعِيُّ . قَالَ أَبُو ذَرٍّ كُنَّا مَعَ النَّبِيِّ ﷺ فِي سَفَرٍ فَأَذَّنَ بِلاَلٌ بِصَلاَةِ الظُّهْرِ فَقَالَ النَّبِيُّ ﷺ " يَا بِلاَلُ أَبْرِدْ ثُمَّ أَبْرِدْ " . فَلَوْ كَانَ الأَمْرُ عَلَى مَا ذَهَبَ إِلَيْهِ الشَّافِعِيُّ لَمْ يَكُنْ لِلإِبْرَادِ فِي ذَلِكَ الْوَقْتِ مَعْنًى لاِجْتِمَاعِهِمْ فِي السَّفَرِ وَكَانُوا لاَ يَحْتَاجُونَ أَنْ يَنْتَابُوا مِنَ الْبُعْدِ .

আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যখন (সূর্যের) উত্তাপ বেড়ে যায়, তখন তোমরা ঠান্ডা করে নামাজ আদায় কর (বিলম্ব করে নামাজ আদায় কর)। কেননা প্রচন্ড উত্তাপ জাহান্নামের নিঃশ্বাস হতে হয়।

এ অনুচ্ছেদে আবূ সা’ঈদ, আবূ যার, ইবনু ‘উমর, মুগীরা, কাসিম ইবনু সাফওয়ান তাঁর পিতার সূত্রে, আবূ মূসা, ইবনু ‘আব্বাস ও আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসও রয়েছে। নবী (ﷺ)-এর নিকট হতে ‘উমর (রাঃ)-এর একটি বর্ণনাও রয়েছে। কিন্তু এ বর্ণনাটি সহীহ নয়। আবূ ‘ঈসা বলেনঃ আবূ হুরায়রা বর্ণিত হাদীসটি হাসান সহীহ। বিশেষজ্ঞদের একদল গরমের মৌসুমে যুহরের নামাজ বিলম্বে আদায় করা পছন্দ করেছেন। ইবনুল মুবারাক, আহমাদ ও ইসহাক এই মতের সমর্থক। ইমাম শাফিঈ বলেন, লোকেরা যখন দূরদূরান্ত হতে মসজিদে আসে তখন যুহরের নামাজ ঠান্ডার সময় আদায় করার নির্দেশ রয়েছে। কিন্তু যে ব্যক্তি একাকী নামাজ আদায় করে অথবা নিজের গোত্রের মসজিদে নামাজ আদায় করে-খুব গরমের সময়েও আমি তার জন্য প্রথম ওয়াক্তে নামাজ আদায় করা উত্তম মনে করি। আবূ ‘ঈসা বলেনঃ অত্যধিক গরমের সময়ে যারা বিলম্বে যুহরের নামাজ আদায়ের কথা বলেন, তাদের মত অনুসরণযোগ্য। কিন্তু আবূ যার (রাঃ)-এর হাদীস ইমাম শাফিঈর বক্তব্যের (দূর হতে আসা মুসল্লীর কারণে যুহরের নামাজ ঠান্ডার সময়ে আদায়ের নির্দেশ রয়েছে, কেননা তাতে তাদের কষ্ট কম হবে) পরিপন্থি। আবূ যার (রাঃ) বলেনঃ “আমরা কোন এক সফরে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাথে ছিলাম। বিলাল (রাঃ) যুহরের নামাজের আযান দিলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ হে বিলাল! শীতল কর (গরমের তীব্রতা কমতে দাও)। তারপর শীতল করা হল (বিলম্বে নামাজ আদায় করা হল)”। ইমাম শাফিঈর বক্তব্য অনুযায়ী শীতল করার অর্থ যদি তাই হত তবে এ সময়ে শীতল করার কোন অর্থই হয় না। কেননা সফরের অবস্থায় সবাই একই স্থানে সমবেত ছিল, দূর হতে কারো আসার কোন প্রশ্নই ছিল না।

জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১৫৭-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, যখন উত্তাপ বেড়ে যায়, তখন তোমরা ঠান্ডা করে নামাজ আদায় করো; কারণ প্রচণ্ড উত্তাপ জাহান্নামের নিঃশ্বাস থেকে। এখানে মূল কথা হলো প্রচণ্ড গরমের সময় যুহরের নামাজ কিছুটা বিলম্ব করে ঠান্ডা সময়ে আদায় করার শিক্ষা। যারা ‘গরমে যুহর দেরি করে পড়া’, ‘আব্রিদু আনিস সালাহ’, ‘প্রচণ্ড গরমে নামাজ’ খুঁজছেন, তাদের জন্য হাদিসটি সরাসরি। তবে এটি সাধারণ আলস্যের অজুহাত নয়; হাদিসে কারণ হিসেবে উত্তাপের কথা এসেছে। তাই ব্যাখ্যায় শুধু সেই প্রসঙ্গ রাখা হলো। নামাজের সময়ের প্রতি যত্ন থাকবে, আবার মানুষের কষ্টের দিকও দেখা হবে—এই ভারসাম্য এখানে বোঝা যায়।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • প্রচণ্ড গরম হলে যুহর কিছুটা ঠান্ডা করে পড়ার নির্দেশ এসেছে।
  • হাদিসে গরমের তীব্রতাকে জাহান্নামের নিঃশ্বাসের সাথে যুক্ত করা হয়েছে।
  • এ শিক্ষা আলস্যের জন্য নয়; প্রসঙ্গ হলো কঠিন উত্তাপ।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন