১৯/২৯. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১৫৮২ - সা’দ ইবন মু’আযের ফয়সালা ও মৃত্যু
সালিশ মেনে আত্মসমর্পণ
সা’দ ইবন মু’আযের ফয়সালা: আঘাত, দোয়া ও মৃত্যু
জামে‘ আত-তিরমিযী : ১৫৮২
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ১৫৮২
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، أَنَّهُ قَالَ رُمِيَ يَوْمَ الأَحْزَابِ سَعْدُ بْنُ مُعَاذٍ فَقَطَعُوا أَكْحَلَهُ أَوْ أَبْجَلَهُ فَحَسَمَهُ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ بِالنَّارِ فَانْتَفَخَتْ يَدُهُ فَتَرَكَهُ فَنَزَفَهُ الدَّمُ فَحَسَمَهُ أُخْرَى فَانْتَفَخَتْ يَدُهُ فَلَمَّا رَأَى ذَلِكَ قَالَ اللَّهُمَّ لاَ تُخْرِجْ نَفْسِي حَتَّى تُقِرَّ عَيْنِي مِنْ بَنِي قُرَيْظَةَ .فَاسْتَمْسَكَ عِرْقُهُ فَمَا قَطَرَ قَطْرَةً حَتَّى نَزَلُوا عَلَى حُكْمِ سَعْدِ بْنِ مُعَاذٍ فَأَرْسَلَ إِلَيْهِ فَحَكَمَ أَنْ يُقْتَلَ رِجَالُهُمْ وَيُسْتَحْيَى نِسَاؤُهُمْ يَسْتَعِينُ بِهِنَّ الْمُسْلِمُونَ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ «أَصَبْتَ حُكْمَ اللَّهِ فِيهِمْ». وَكَانُوا أَرْبَعَمِائَةٍ فَلَمَّا فَرَغَ مِنْ قَتْلِهِمُ انْفَتَقَ عِرْقُهُ فَمَاتَ .قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ وَعَطِيَّةَ الْقُرَظِيِّ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ أَبُو الْوَلِيدِ الدِّمَشْقِيُّ، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ بَشِيرٍ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ سَمُرَةَ بْنِ جُنْدَبٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ قَالَ «اقْتُلُوا شُيُوخَ الْمُشْرِكِينَ وَاسْتَحْيُوا شَرْخَهُمْ " . وَالشَّرْخُ الْغِلْمَانُ الَّذِينَ لَمْ يُنْبِتُوا . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ غَرِيبٌ . وَرَوَاهُ الْحَجَّاجُ بْنُ أَرْطَاةَ عَنْ قَتَادَةَ نَحْوَهُ .
জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
সা’দ ইবনু মুআয (রাঃ) আহ্যাব যুদ্ধের দিন তীরবিদ্ধ হয়ে আহত হন। এতে তাঁর বাহুর মাঝখানের রগ কেটে যায়। তাঁর ক্ষতস্থানে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আগুনের সেঁক দিয়ে রক্তক্ষরণ বন্ধ করেন। তারপর তাঁর হাত ফুলে যায়। আগুনের সেঁক দেওয়া বন্ধ করলে আবার রক্তক্ষরণ হতে থাকে। আবার তিনি তাঁর ক্ষতস্থানে আগুনের সেঁক দেন। তাঁর হাত পুনরায় ফুলে উঠে। তিনি (সা’দ) নিজের এ অবস্থা দেখে বলেন, ‘হে আল্লাহ! আমার জীবনকে কেড়ে নিও না বানূ কুরাইযার চরম পরিণতি দেখে আমার চোখ না জুড়ানো পর্যন্ত। ” তাঁর জখম হতে সাথে সাথে রক্তক্ষরণ বন্ধ হয়ে গেল। এরপর আর একটি ফোঁটাও বের হয়নি।সা’দ ইবনু মুআয (রাঃ)-কে তাঁরা (বানূ কুরাইযা) সালিশ মানতে রাজী হয়। তিনি (রাসূলুল্লাহ (ﷺ)) তাঁর (সা’দের) নিকট লোক পাঠালেন (সমাধানের জন্য)। তিনি সমাধান দিলেন যে, বানূ কুরাইযা গোত্রের পুরুষদেরকে মেরে ফেলা হবে এবং মহিলাদেরকে বাঁচিয়ে রাখা হবে। মুসলমানগণ তাদের দ্বারা বিভিন্ন রকম কাজ আদায় করতে পারবে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তাদের ব্যাপারে তোমার মত সম্পূর্ণ আল্লাহ্ তা’আলার মতের অনুরূপ হয়েছে। তাঁরা (পুরুষগণ) সংখ্যায় ছিল চার শত। লোকেরা তাদেরকে মেরে ফেলা সমাপ্ত করলে, তাঁর ক্ষতস্থান হতে আবার রক্ত পড়া আরম্ভ হল এবং তিনি মৃত্যু বরণ করলেন।
আবূ সাঈদ ও আতিয়্যা আল-কুরাযী (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১৫৮২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে সা’দ ইবন মু’আয (রাঃ)-এর আঘাত, চিকিৎসা, দোয়া, সালিশি ফয়সালা এবং মৃত্যুর ঘটনা ধারাবাহিকভাবে এসেছে। আহযাবের দিনে তীরের আঘাতে তাঁর বাহুর রগ কেটে যায়। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) আগুনের সেঁক দিয়ে রক্ত বন্ধ করার চেষ্টা করেন। রক্তপাত আবার শুরু হলে পুনরায় সেঁক দেওয়া হয়। নিজের অবস্থা দেখে সা’দ (রাঃ) আল্লাহর কাছে চান, বানু কুরাইযার চূড়ান্ত পরিণতি না দেখা পর্যন্ত যেন তাঁর জীবন শেষ না হয়। এরপর রক্তপাত থেমে যায়। বানু কুরাইযা তাঁকে সালিশ মানলে তিনি পুরুষদের হত্যা এবং নারীদের জীবিত রাখার সিদ্ধান্ত দেন। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) তাঁর সিদ্ধান্তকে আল্লাহর সিদ্ধান্তের অনুরূপ বলেন। সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার পর ক্ষত থেকে আবার রক্তপাত শুরু হয় এবং তিনি মারা যান। ব্যাখ্যায় এই নির্দিষ্ট যুদ্ধঘটনার সীমা অতিক্রম না করাই জরুরি।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কঠিন আঘাতের মধ্যেও সা’দ (রাঃ) আল্লাহর কাছে দোয়া করেছিলেন।
- হাদিসে চিকিৎসার চেষ্টা হিসেবে আগুনের সেঁক দেওয়ার ঘটনা এসেছে।
- বানু কুরাইযা সা’দ (রাঃ)-কে সালিশ হিসেবে মেনে নিয়েছিল।
- ফয়সালা কার্যকর হওয়ার পর তাঁর ক্ষত আবার খুলে যায় এবং তিনি মারা যান।
