১৯/৪১. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১৬০৩ - বিকৃত সালামের সঠিক জবাব
আহলে কিতাবদের সালাম প্রদান প্রসঙ্গে
অমুসলিমের বিকৃত সালামের জবাব কীভাবে দিতে হবে
জামে‘ আত-তিরমিযী : ১৬০৩
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ১৬০৩
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، أَخْبَرَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ جَعْفَرٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ " إِنَّ الْيَهُودَ إِذَا سَلَّمَ عَلَيْكُمْ أَحَدُهُمْ فَإِنَّمَا يَقُولُ السَّامُ عَلَيْكُمْ فَقُلْ عَلَيْكَ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ.
ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যখন তোমাদেরকে কোন ইয়াহূদী সালাম করে তখন বলে, ‘আসসামু আলাইকুম’ (তোমার মৃত্যু হোক)। তুমি উত্তরে বল, “আলাইকা” (তোমার হোক)।
এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা (রহঃ) হাসান সহীহ্ বলেছেন।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১৬০৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় বিকৃত সালামের জবাব। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) জানিয়েছেন, কোনো ইহুদি ‘আসসালামু আলাইকুম’ না বলে ‘আসসামু আলাইকুম’ অর্থাৎ মৃত্যুকামনার বাক্য বলতে পারে। এমন কথা শোনা গেলে উত্তরে শুধু ‘আলাইকা’ বা ‘তোমার ওপরই’ বলতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এতে দেখা যায়, কটু কথার জবাবেও সীমা অতিক্রম না করে সংক্ষিপ্ত ও নিয়ন্ত্রিত ভাষা ব্যবহার করতে হবে। হাদিসে দীর্ঘ ঝগড়া, গালাগাল বা বাড়তি অভিশাপ দেওয়ার কথা নেই। বরং কথার প্রকৃত অর্থ বুঝে শান্তভাবে উপযুক্ত উত্তর দিতে বলা হয়েছে। এটি ইসলামী শিষ্টাচার ও আত্মসংযমের একটি স্পষ্ট শিক্ষা। কেউ কৌশলে অপমান করতে চাইলেও একজন মুসলিম যেন নিজের ভাষা ও আচরণের নিয়ন্ত্রণ না হারায়, হাদিসটি সেই দিকেই মনোযোগ দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- বিকৃত সালাম শুনলে সংক্ষিপ্ত ও যথাযথ জবাব দিতে হবে।
- অপমানজনক কথার উত্তরে সীমা অতিক্রম করা উচিত নয়।
- কথার অর্থ বুঝে শান্ত ও সংযত আচরণ করা ইসলামী শিষ্টাচারের অংশ।
